উত্তরা প্রতিদিন
ঢাকা

সার পাচার ও অপচয় ঠেকাতে সীমান্তে নজরদারি বাড়ানোর আহ্বান কৃষিমন্ত্রীর

উত্তরা প্রতিদিন উত্তরা প্রতিবেদক ৫ নভেম্বর ২০২৬, ১১:৪৯ পূর্বাহ্ণ
সার পাচার ও অপচয় ঠেকাতে সীমান্তে নজরদারি বাড়ানোর আহ্বান কৃষিমন্ত্রীর

সরকারের বরাদ্দ করা সার যাতে প্রকৃত কৃষকেরাই ব্যবহার করেন, তা নিশ্চিত করতে নজরদারি বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন কৃষি এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ। তিনি বলেছেন, কোনো অসাধু চক্র যাতে সরকারি সার অপচয় বা দেশের বাইরে পাচার করতে না পারে, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। বিশেষ করে সীমান্তবর্তী এলাকায় সার পাচার রোধে নজরদারি বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

 বৃহস্পতিবার সকালে রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার সরমংলা ইকো পার্কে কৃষকদের সঙ্গে মতবিনিময় শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, দেশের কয়েকটি সীমান্তবর্তী এলাকায় নির্দিষ্ট কিছু সারের সংকট দেখা দিয়েছে। প্রতিবেশী দেশে এসব সারের দাম বেশি হওয়ায় পাচারের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এ কারণে সীমান্ত এলাকায় নজরদারি বাড়াতে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশকে (বিজিবি) অনুরোধ করা হয়েছে।

তিনি বলেন, দেশে ইউরিয়া সারের কোনো সংকট নেই। বছরে প্রায় ২৫ থেকে ২৭ লাখ টন ইউরিয়া সারের চাহিদার বিপরীতে সরবরাহ স্বাভাবিক রয়েছে। তবে সরকার বেশি ভর্তুকি দিয়ে সরবরাহ করে এমন দু-এক ধরনের সারের চাহিদা কোনো কোনো এলাকায় বেশি থাকায় সাময়িক সংকট তৈরি হয়েছে।

সারের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে ডিলার বাড়ানোর উদ্যোগের কথা জানিয়ে কৃষিমন্ত্রী বলেন, আগে প্রতিটি ইউনিয়নে দুজন করে সার ডিলার ছিলেন। কৃষি আবাদ ও সারের ব্যবহার বাড়ায় এখন প্রতিটি ইউনিয়নে আরও একজন করে ডিলার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। চলতি মাস থেকেই নতুন ডিলারদের মাধ্যমে সার বিতরণ শুরু হবে। একই সঙ্গে বাড়ানো হয়েছে সার বরাদ্দও। ফলে আগামী রোপণ মৌসুমে সারের সংকট থাকবে না বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

রাজশাহী অঞ্চলের কৃষি সম্ভাবনা তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, বরেন্দ্র অঞ্চলের কৃষকেরা অত্যন্ত পরিশ্রমী। এ অঞ্চল আম উৎপাদনের জন্য পরিচিত। বরেন্দ্র সেচব্যবস্থা সম্প্রসারণের ফলে ধান উৎপাদনে অগ্রগতি হয়েছে। এখন সবজি উৎপাদনেও উল্লেখযোগ্য সাফল্য আসছে।

এ অঞ্চলে নতুন ফসল হিসেবে আদা চাষ সম্প্রসারণের পরিকল্পনার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও নাটোরের আমবাগানগুলোতে গাছের সারির মাঝখানে অনেকটা ফাঁকা জায়গা থাকে। এসব জমিতে সাধারণত কলাই চাষ করা হয়। সেখানে আদা চাষের সম্ভাবনা যাচাই করা হচ্ছে। মাটির ধরন ও চাষপদ্ধতি বিবেচনায় সরাসরি জমিতে কিংবা বস্তায় আদা উৎপাদনের বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।

কৃষিমন্ত্রী বলেন, দেশে বছরে প্রায় দেড় লাখ টন আদা আমদানি করতে হয়। কৃষিপ্রধান দেশে আদার মতো পণ্যের আমদানিনির্ভরতা কমানো জরুরি। আমবাগানের অব্যবহৃত জায়গায় আদা চাষ করা গেলে কৃষকেরা অতিরিক্ত ফসল পাবেন। পাশাপাশি বাড়বে দেশীয় উৎপাদন, কমবে আমদানিনির্ভরতা।

এর আগে সকাল সোয়া ৯টার দিকে রাজশাহী মহানগরীর দামকুড়া থানার হরিপুর ইউনিয়নের কসবা এলাকায় কৃষক মোহাম্মদ নাজমুল করিম সুজনের লিচুবাগানে বস্তায় আদা চাষের প্রযুক্তি পরিদর্শন করেন মন্ত্রী। ওই বাগানে প্রায় ৭০০ বস্তায় আদা চাষ করা হয়েছে।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের রাজশাহী অঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালক ড. আজিজুর রহমান,  উপপরিচালক মো. মোস্তফা কামাল, পবার সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. মেহেদি হাসান এবং উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. শাহাবুদ্দিনসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। 

Read more — উত্তরাঞ্চল
Home