
রাজশাহীর উপশহরের কালাই হাউস-সংলগ্ন একটি জমির ইজারা, মালিকানা ও দখল নিয়ে বিরোধ দেখা দিয়েছে।
এ ঘটনায় ৩০ লাখ টাকার বেশি বায়না পরিশোধ করেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভূমিদস্যু ও জোরপূর্বক জমি দখলকারী হিসেবে অপপ্রচারের শিকার হচ্ছেন বলে অভিযোগ করেছেন ব্যবসায়ী জাহাঙ্গীর কবির। সোমবার (২ নভেম্বর) বিকেলে দৈনিক উত্তরা প্রতিদিনের কনফারেন্স রুমে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে নিজের অবস্থান তুলে ধরে তিনি এ অভিযোগ করেন।
তাঁর দাবি, জমির ওয়ারিশি জটিলতা নিরসনে উদ্যোগ নেওয়া এবং চুক্তি অনুযায়ী অর্থ পরিশোধের পরও একটি পক্ষ তাঁকে সামাজিকভাবে হেয় করার চেষ্টা করছে। সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, প্রায় তিন বছর আগে মুমিন নামের এক ব্যক্তির সঙ্গে চুক্তি করে কালাই হাউস-সংলগ্ন ফাঁকা জমিটি ভাড়া নেন জাহাঙ্গীর কবির। এ সময় দুই লাখ টাকা সালামি বা অগ্রিম প্রদান করেন তিনি। পরে নিজস্ব অর্থায়নে সেখানে ছাদ ও টিনসহ প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণ করে মাসিক ৩৫ হাজার টাকা ভাড়ায় ব্যবসা শুরু করেন।
গত ৩০ অক্টোবর জমি-সংক্রান্ত ইজারা চুক্তির মেয়াদ শেষ হয় বলে তাঁর পক্ষ থেকে জানানো হয়। জাহাঙ্গীর কবিরের পক্ষের দাবি, জমিটির মূল মালিকের দুই স্ত্রী ছিলেন। কিন্তু ওয়ারিশ নির্ধারণের সময় এক পক্ষের স্ত্রী ও মেয়েকে বাদ দিয়ে ডুপ্লিকেট খারিজ এবং অসম্পূর্ণ তথ্যের ভিত্তিতে ওয়ারিশ সনদ তৈরি করে জমি বিক্রির উদ্যোগ নেওয়া হয়। বিষয়টি জানার পর বঞ্চিত পক্ষ হাউজিং অফিসে লিখিত অভিযোগ দেয়। পরে জাহাঙ্গীর কবির ও তাঁর ব্যবসায়িক অংশীদার মোহাম্মদ বাবু জমির প্রকৃত ওয়ারিশ নির্ধারণের উদ্যোগ নেন। তাঁদের দাবি, এতে মোট নয়জন ওয়ারিশের অংশের হিসাব মাধ্যমে জাহাঙ্গীর কবিরদের সঙ্গে বায়না চুক্তি সম্পাদিত হয়। বায়না বাবদ সংশ্লিষ্ট পরিবারকে ৩০ লাখ টাকার বেশি অর্থ পরিশোধ করা হয়েছে বলে দাবি করেন তাঁরা। তাঁদের অভিযোগ, বায়না চুক্তির পর পরিবারের এক সদস্যের স্বামী রাজা বিরোধ সৃষ্টি করেন এবং জমিটি অন্যভাবে দখল বা হস্তান্তরের জন্য উসকানি দিতে থাকেন।
একপর্যায়ে ইজারা চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার পরদিন ৩১ অক্টোবর মুমিনের পক্ষের লোকজন অনশন শুরু করেন এবং ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বন্ধের চাপ দেন। তবে ব্যবসা গুটিয়ে নেওয়ার জন্য তাঁদের কোনো আগাম সময় বা লিখিত নোটিশ দেওয়া হয়নি বলে দাবি করেন জাহাঙ্গীর কবির। তিনি আরও দাবি করেন, ব্যবসায়িক ক্ষতি ও আর্থিক সংকটের মধ্যেও জমির বায়না বাবদ বিপুল অর্থ পরিশোধ করেছেন তাঁরা। অথচ তাঁদের বিরুদ্ধে ভূমিদস্যু ও জোরপূর্বক জমি দখলের অভিযোগ তুলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার চালানো হচ্ছে। এতে ব্যবসায়িক ও সামাজিক সুনাম ক্ষুণ্ন হচ্ছে। সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া তথ্যের প্রতিবাদ এবং জমি-সংক্রান্ত বিরোধের প্রকৃত ঘটনা তুলে ধরতেই এ আয়োজন
। মানহানিকর বক্তব্য প্রচারের অভিযোগে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আগামী এক থেকে দুই দিনের মধ্যে আদালতে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে বলেও জানানো হয়। এ সময় জমির মালিকানা, ওয়ারিশি হিসাব, বায়না চুক্তি ও অর্থ লেনদেনের বিষয়গুলো যাচাই করে বিরোধ নিষ্পত্তিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা কামনা করেন জাহাঙ্গীর কবির। এদিকে জাহাঙ্গীর কবিরের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন জমির মালিকপক্ষের সদস্য ও মুমিনের ছোট বোন শাকিলা তাসকিন। তিনি বলেন, প্রতিপক্ষের পক্ষ থেকে যেসব অভিযোগ করা হচ্ছে, সেগুলোর কোনো ভিত্তি নেই। তাঁরা যে ওয়ারিশ সনদ দেখাচ্ছেন, সেটি ডুপ্লিকেট বা ভুয়া। জমির মূল দলিল, প্রকৃত ওয়ারিশ সনদ এবং বৈধ উত্তরাধিকারীদের তালিকা তাঁদের কাছে সংরক্ষিত রয়েছে। শাকিলা তাসকিন আরও বলেন, জাহাঙ্গীর কবিরের পক্ষ থেকে ৩০ লাখ টাকার বেশি বায়না দেওয়ার দাবি সম্পূর্ণ অসত্য। তাঁদের কাছে মাত্র ১০ লাখ টাকা বায়নার চুক্তিপত্র বা ডিড রয়েছে। প্রতিপক্ষ কীসের ভিত্তিতে ৩০ লাখ টাকার বেশি বায়না দেওয়ার দাবি করছে, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি তাঁদের কাছে থাকা কথিত ৩০ লাখ টাকার চুক্তিপত্র জনসমক্ষে উপস্থাপনের আহ্বান জানান।
উত্তরা / এ এম

