
ফ্যাটি লিভার বর্তমানে বাংলাদেশসহ বিশ্বব্যাপী একটি গুরুত্বপূর্ণ জনস্বাস্থ্য সমস্যা। আধুনিক জীবনযাত্রা, শারীরিক পরিশ্রমের অভাব, অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, স্থূলতা ও ডায়াবেটিসের কারণে এ রোগের প্রকোপ দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। উদ্বেগের বিষয় হলো- অধিকাংশ রোগী প্রাথমিক পর্যায়ে কোনো উপসর্গ অনুভব করেন না। ফলে সময়মতো শনাক্ত না হলে এটি লিভার সিরোসিস, লিভার ফেইলিউর এবং লিভার ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ায়।
ফলে ফ্যাটি লিভার প্রতিরোধ ও ব্যবস্থাপনায় ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানিগুলোর ভূমিকা দিন দিন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। এ রোগের সঙ্গে ডায়াবেটিস, উচ্চ কোলেস্টেরল, হৃদ্রোগ এবং অন্যান্য বিপাকীয় সমস্যার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক থাকায় আধুনিক গবেষণা এখন এমন চিকিৎসা উদ্ভাবনের দিকে গুরুত্ব দিচ্ছে, যা একই সঙ্গে লিভারের চর্বি ও প্রদাহ কমানোর পাশাপাশি রোগীর সামগ্রিক বিপাকীয় স্বাস্থ্যের উন্নয়ন ঘটাতে পারে।
বিশ্বের বিভিন্ন নিয়ন্ত্রক সংস্থা অনুমোদিত নতুন ওষুধ, যেমন Resmetirom এবং Semaglutide, ফ্যাটি লিভার চিকিৎসায় নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করেছে। প্রযুক্তি হস্তান্তর ও লাইসেন্সিংয়ের মাধ্যমে এসব আধুনিক চিকিৎসা সাশ্রয়ী মূল্যে দেশের রোগীদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে দেশীয় ফার্মাসিউটিক্যাল শিল্প গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
সরকারের সঙ্গে সমন্বয় করে ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানিগুলো কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ গ্রহণ করতে পারে। প্রথমত, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের সহযোগিতায় একটি জাতীয় MASLD/MASH ব্যবস্থাপনা গাইডলাইন প্রণয়নে সহায়তা প্রদান করা। দ্বিতীয়ত, সরকারি হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ফ্যাটি লিভার স্ক্রিনিং কার্যক্রম সম্প্রসারণ এবং FibroScan ও অন্যান্য ডায়াগনস্টিক সুবিধার প্রাপ্যতা বাড়াতে পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ (PPP) উদ্যোগকে উৎসাহিত করা। তৃতীয়ত, গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মাধ্যমে স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, নিয়মিত ব্যায়াম এবং ওজন নিয়ন্ত্রণের গুরুত্ব সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধি করা।
এছাড়া চিকিৎসকদের জন্য নিয়মিত বৈজ্ঞানিক প্রশিক্ষণ, আন্তর্জাতিক গাইডলাইনভিত্তিক শিক্ষা কার্যক্রম এবং গবেষণা সহায়তা প্রদানও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে রোগীদের জন্য Patient Support Program (PSP) চালুর মাধ্যমে রোগ নির্ণয়, ফলো-আপ, জীবনধারা পরিবর্তন এবং চিকিৎসা অনুসরণে সহায়তা করা যেতে পারে।
ফ্যাটি লিভার বর্তমানে একটি ক্রমবর্ধমান জনস্বাস্থ্য সমস্যা। এ রোগ প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণে সরকার, চিকিৎসক সমাজ, গণমাধ্যম এবং ফার্মাসিউটিক্যাল শিল্পের সমন্বিত উদ্যোগ অপরিহার্য। বিশ্ব ফ্যাটি লিভার দিবসের এবারের প্রতিপাদ্য “Act Now—এখনই পদক্ষেপ নিন” আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় যে সচেতনতা, দ্রুত শনাক্তকরণ এবং সময়োপযোগী পদক্ষেপই পারে ফ্যাটি লিভারের ক্রমবর্ধমান বোঝা কমিয়ে একটি সুস্থ ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে।
নাবিলা চৌধুরী
ডেপুটি মার্কেটিং ম্যানেজার, বায়োটেক (পিএমডি) বিকন ফার্মাসিউটিক্যালস পিএলসি

