
বাংলাদেশে ফ্যাটি লিভার রোগ নীরবে ভয়াবহ আকার ধারণ করছে। গবেষণা অনুযায়ী দেশের প্রায় ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ মানুষ কোনো না কোনো মাত্রায় ফ্যাটি লিভারে আক্রান্ত। আক্রান্তদের একটি অংশের ক্ষেত্রে রোগটি ধীরে ধীরে লিভার ফাইব্রোসিস, সিরোসিস এবং লিভার ক্যানসারে রূপ নিচ্ছে। সচেতনতার অভাব এবং দেরিতে রোগ শনাক্ত হওয়ার কারণে ভবিষ্যতে এটি দেশের জন্য বড় স্বাস্থ্য ও অর্থনৈতিক বোঝা হয়ে উঠতে পারে।
স্থূলতা, ডায়াবেটিস ও থাইরয়েডজনিত সমস্যায় আক্রান্ত ব্যক্তিদের মধ্যে ফ্যাটি লিভারের ঝুঁকি বেশি। এ রোগ হৃদরোগের ঝুঁকিও বাড়িয়ে দেয়। তবে হৃদরোগ বা ডায়াবেটিসের মতো ফ্যাটি লিভারের লক্ষণ দ্রুত প্রকাশ পায় না। লিভার সিরোসিসে পৌঁছাতে সাধারণত ১০ থেকে ১৫ বছর সময় লাগে। ফলে অধিকাংশ মানুষ রোগটিকে গুরুত্ব দেন না এবং জটিলতা দেখা দেওয়ার পর চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন।
লিভার সিরোসিস বা লিভার ক্যানসার হয়ে গেলে অনেক ক্ষেত্রে লিভার প্রতিস্থাপনই একমাত্র কার্যকর চিকিৎসা। কিন্তু এ চিকিৎসার ব্যয় অত্যন্ত বেশি, যা সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে। তাই রোগ প্রতিরোধই সবচেয়ে কার্যকর উপায়।
বাংলাদেশে ফ্যাটি লিভারে আক্রান্তদের মধ্যে নারীর সংখ্যা তুলনামূলক বেশি। কিছু গবেষণায় প্রায় ৭০ শতাংশ রোগী নারী বলে দেখা গেছে। প্রোটিনের পরিবর্তে অতিরিক্ত কার্বোহাইড্রেটনির্ভর খাদ্যাভ্যাস, শারীরিক পরিশ্রম কমে যাওয়া, ফাস্টফুড গ্রহণ বৃদ্ধি এবং স্থবির জীবনযাপন এর অন্যতম কারণ।
তাই, স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, নিয়মিত ব্যায়াম, ওজন নিয়ন্ত্রণ এবং সময়মতো পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে ফ্যাটি লিভার প্রতিরোধে সবাইকে সচেতন হওয়া জরুরি।
ডা. ডি.এম শাহিনুজ্জামান
কনসালটেন্ট (গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজি বিভাগ)
রাজশাহী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল

