
ফ্যাটি লিভার এখন শুধু বাংলাদেশের নয়, বরং সারা বিশ্বের একটি গুরুত্বপূর্ণ জনস্বাস্থ্য সমস্যায় পরিণত হয়েছে। রোগটি কেবল লিভারে চর্বি জমার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং লিভার সিরোসিস, লিভার ক্যানসার, উচ্চ রক্তচাপ ও হৃদরোগসহ নানা জটিলতার ঝুঁকি বাড়ায়। তাই এ রোগ প্রতিরোধে সরকার, চিকিৎসক সমাজ, গণমাধ্যম ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে সমন্বিতভাবে কাজ করা জরুরি।
ফ্যাটি লিভারকে এখনই একটি জনগুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্য সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত করে জাতীয় পর্যায়ে সচেতনতা কার্যক্রম জোরদার করতে হবে। পোলিও বা যক্ষ্মার মতো স্বাস্থ্যঝুঁকির বিরুদ্ধে যেভাবে ব্যাপক কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে, ফ্যাটি লিভার প্রতিরোধেও তেমন উদ্যোগ প্রয়োজন।
রোগীরা সাধারণত চিকিৎসকের কাছেই প্রথম পরামর্শ নিতে আসেন। তাই চিকিৎসকদের দায়িত্ব শুধু রোগ নির্ণয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং রোগী ও তাদের পরিবারের সদস্যদেরও ফ্যাটি লিভারের দীর্ঘমেয়াদি ঝুঁকি সম্পর্কে সচেতন করতে হবে। অবহেলা করলে ১০ থেকে ১৫ বছরের মধ্যে রোগটি লিভার সিরোসিসের মতো জটিল পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে।
এছাড়া, জনগণের কাছে স্বাস্থ্যসচেতনতার বার্তা পৌঁছে দিতে প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক ও অনলাইন মিডিয়াকে আরও সক্রিয় হতে হবে। একই সঙ্গে শিশুদের মধ্যে স্বাস্থ্যকর জীবনযাত্রার অভ্যাস গড়ে তুলতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে কার্যকর ভূমিকা রাখতে হবে।
এদিকে, অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, শারীরিক পরিশ্রমের অভাব, খেলার মাঠের সংকট এবং অতিরিক্ত ফাস্টফুড গ্রহণ ফ্যাটি লিভারের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় সমন্বিত ব্যবস্থাপনা কর্মসূচি গ্রহণের বিকল্প নেই। বিশ্ব ফ্যাটি লিভার দিবসের প্রতিপাদ্যকে গুরুত্ব দিয়ে আগামীকালের জন্য অপেক্ষা না করে ফ্যাটি লিভার প্রতিরোধ ও শনাক্তকরণে আজই পদক্ষেপ নিতে হবে।
ডা. মো. তানভীর রহমান
কনসালটেন্ট (হেপাটলজি বিভাগ)
রাজশাহী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল

