
ফ্যাটি লিভার রোগের প্রাথমিক পর্যায়ে সাধারণত কোনো উপসর্গ থাকে না। ফলে অনেক রোগী দীর্ঘদিন বিষয়টি বুঝতে পারেন না এবং একসময় লিভার সিরোসিসের মতো জটিলতা নিয়ে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন। তাই ঝুঁকিপূর্ণ ব্যক্তিদের নিয়মিত স্ক্রিনিংয়ের আওতায় আনা জরুরি। এছাড়া, মেটাবলিক সিনড্রোম, ডায়াবেটিস, স্থূলতা ও উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকিতে থাকা ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে নিয়মিত পরীক্ষা অত্যন্ত জরুরি। অনেক সময় রক্ত পরীক্ষার ফল স্বাভাবিক থাকলেও লিভারে চর্বি জমে থাকতে পারে, ফলে রোগ নির্ণয় কঠিন হয়ে পড়ে।
দেশে ফ্যাটি লিভার শনাক্তে সবচেয়ে সহজলভ্য ও বহুল ব্যবহৃত পদ্ধতি হলো আল্ট্রাসোনোগ্রাম। এই পরীক্ষার মাধ্যমে লিভারের চর্বিকে গ্রেড-১, গ্রেড-২ ও গ্রেড-৩ হিসেবে শ্রেণিবিন্যাস করা যায়। সরকারি-বেসরকারি হাসপাতাল এবং জেলা-উপজেলা পর্যায়ে এ সেবা সহজলভ্য হওয়ায় কম খরচে রোগ নির্ণয় সম্ভব হচ্ছে।
আবার, আধুনিক পরীক্ষা ফাইব্রোস্ক্যানের মাধ্যমে শুধু লিভারের চর্বিই নয়, লিভারের স্থায়ী ক্ষতি বা ফাইব্রোসিস এবং সিরোসিসের মাত্রাও নির্ণয় করা যায়। তবে এ সেবা এখনও মূলত বিশেষায়িত হাসপাতাল ও বড় শহরগুলোতে সীমাবদ্ধ এবং ব্যয়বহুল হওয়ায় সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে রয়ে গেছে। এছাড়া বিশেষ ক্ষেত্রে এমআরআই, এমআর ইলাস্টোগ্রাফি, সিটি স্ক্যান এবং লিভার বায়োপসিও ব্যবহার করা হয়। লিভার বায়োপসিকে এখনো ফ্যাটি লিভার নির্ণয়ের ‘গোল্ড স্ট্যান্ডার্ড’ হিসেবে বিবেচনা করা হলেও এটি ঝুঁকিপূর্ণ ও বিশেষায়িত পদ্ধতি হওয়ায় সব রোগীর ক্ষেত্রে প্রয়োগ করা হয় না।
এদিকে, জনসচেতনতা বৃদ্ধি, ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর নিয়মিত স্ক্রিনিং এবং আধুনিক রোগ নির্ণয় পদ্ধতি জেলা-উপজেলা পর্যায়ে সম্প্রসারণ করা গেলে ফ্যাটি লিভারজনিত জটিলতা অনেকাংশে প্রতিরোধ করা সম্ভব হবে। সময়মতো রোগ শনাক্ত করা গেলে জীবনযাত্রার পরিবর্তন ও যথাযথ চিকিৎসার মাধ্যমে লিভার সিরোসিসের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব।
ডা. মো. আব্দুল মুমিত সরকার
সহকারী অধ্যাপক (গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজি বিভাগ)
রাজশাহী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল

