
বাংলাদেশে ফ্যাটি লিভার রোগ দ্রুত বাড়ছে এবং ভবিষ্যতে এটি লিভার সিরোসিসের অন্যতম প্রধান কারণ হয়ে উঠতে পারে বলে। বর্তমানে অনেক রোগীর ভাইরাল মার্কার নেগেটিভ থাকলেও ফ্যাটি লিভারের কারণে লিভার সিরোসিসে আক্রান্ত হওয়ার ঘটনা বাড়ছে। আগে ফ্যাটি লিভারকে গুরুত্বহীন সমস্যা হিসেবে দেখা হলেও এখন এটি বড় জনস্বাস্থ্য ঝুঁকিতে পরিণত হয়েছে।
দেশে ফ্যাটি লিভারের প্রাদুর্ভাব প্রায় ৩৩ শতাংশ বলে ধারণা করা হচ্ছে। এই রোগ নিয়ন্ত্রণে সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ জরুরি। জাতীয় পর্যায়ে রেডিও-টেলিভিশনের মাধ্যমে সচেতনতা কর্মসূচি চালু, প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবায় স্ক্রিনিং অন্তর্ভুক্তি এবং স্কুল-কলেজের পাঠ্যক্রমে স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস ও ফ্যাটি লিভার বিষয়ে শিক্ষা অন্তর্ভুক্ত করা যেতে পারে।
এছাড়া, পুষ্টিনীতি বাস্তবায়ন, শারীরিক কর্মকাণ্ড বাড়ানো, স্বাস্থ্যকর্মীদের প্রশিক্ষণ এবং ফ্যাটি লিভার রোগীদের জন্য জাতীয় রেজিস্ট্রি তৈরি করাও সময়ের দাবি। বর্তমানে ফাইব্রোস্ক্যান পরীক্ষার উচ্চ খরচের কারণে অনেক রোগী পরীক্ষা করাতে পারেন না। তাই প্রতিটি মেডিকেল কলেজে ফাইব্রোস্ক্যান মেশিন স্থাপন করে স্বল্পমূল্যে পরীক্ষা নিশ্চিত করতে হবে। কেননা, হাসপাতাল ও ক্লিনিকগুলোতে কম মূল্যে স্ক্রিনিং সুবিধা, চিকিৎসক সংগঠনের সেমিনার-ওয়েবিনার, কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানে নিয়মিত বিএমআই ও ব্লাড সুগার পরীক্ষা এবং গণমাধ্যমে ব্যাপক প্রচার-প্রচারণা ফ্যাটি লিভার প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
আবার, স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, নিয়মিত ব্যায়াম ও সময়মতো পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে ফ্যাটি লিভারের বর্তমান ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব।
ডা. মো. শফিকুল ইসলাম
সহযোগী অধ্যাপক (গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজি বিভাগ)
রাজশাহী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল

