
বাংলাদেশে শিশু ও কিশোরদের মধ্যে ফ্যাটি লিভারের প্রকোপ উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। এখনই কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া না হলে আগামী কয়েক দশকের মধ্যে তরুণ বয়সেই লিভার সিরোসিস ও লিভার ক্যানসারের রোগী উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেতে পারে।
বিশ্বব্যাপী শিশুদের মধ্যে ফ্যাটি লিভারের হার ১০ থেকে ২০ শতাংশ। বাংলাদেশে পরিচালিত গবেষণায় এ হার ১৩ দশমিক ৪ শতাংশ এবং সিলেটে পরিচালিত একটি গবেষণায় ১৬ দশমিক ৭ শতাংশ পাওয়া গেছে। স্থূল শিশুদের ক্ষেত্রে আক্রান্তের হার ২৩ থেকে ৫২ শতাংশ পর্যন্ত হতে পারে।
এদিকে, ১১ থেকে ১৪ বছর বয়সী শিশুদের ওপর পরিচালিত গবেষণায় দেখা গেছে, যাদের অল্প বয়সে ফ্যাটি লিভার হয়েছে তাদের ৬৮ দশমিক ৬ শতাংশ পরবর্তীতে টাইপ-২ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিতে থাকে। আরও উদ্বেগজনক বিষয় হলো, ফ্যাটি লিভারে আক্রান্ত ১০ থেকে ১৫ শতাংশ শিশুর ক্ষেত্রে ১০ থেকে ১৫ বছরের মধ্যে লিভার সিরোসিস বা লিভার ক্যানসার দেখা দিতে পারে। ফলে ১০ বা ১১ বছর বয়সে আক্রান্ত একটি শিশু ৩০ থেকে ৩৫ বছর বয়সেই মারাত্মক লিভার রোগে আক্রান্ত হতে পারে।
শিশুদের স্থূলতার পেছনে শারীরিক পরিশ্রম কমে যাওয়া, খেলার মাঠের সংকট, অতিরিক্ত মোবাইল ও স্ক্রিন ব্যবহারের অভ্যাস, ফাস্টফুড এবং চিনিযুক্ত পানীয় গ্রহণ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। তাই পরিবারভিত্তিক সচেতনতা, ক্যালরি নিয়ন্ত্রণ, নিয়মিত শারীরিক কর্মকাণ্ড এবং স্ক্রিন টাইম কমানো দরকার।
এছাড়া, জাতীয় পুষ্টিনীতি বাস্তবায়ন, স্কুলের পাঠ্যক্রমে পুষ্টি ও স্বাস্থ্যশিক্ষা অন্তর্ভুক্ত করা এবং শিশুদের জন্য স্বাস্থ্যকর পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, গণমাধ্যম ও রাষ্ট্রকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। তাই, শিশুদের সুস্থ ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে এখনই ফ্যাটি লিভার প্রতিরোধে জাতীয় পর্যায়ে সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা গ্রহণের বিকল্প নেই।
ডা. মো. হাবিবুল হক (হাবিব)
সহকারী অধ্যাপক (গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজি বিভাগ)
রাজশাহী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল

