
ফ্যাটি লিভার বর্তমানে বাংলাদেশের অন্যতম দ্রুত বিস্তার লাভ করা অসংক্রামক রোগে পরিণত হয়েছে। একসময় এটি কেবল শহুরে ও সচ্ছল মানুষের সমস্যা হিসেবে বিবেচিত হলেও এখন গ্রামাঞ্চলেও উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। সচেতনতা, স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস ও নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রমের মাধ্যমে এ রোগের বড় অংশই প্রতিরোধ করা সম্ভব।
ফ্যাটি লিভার কোনো সাধারণ রোগ নয়। এটি ধীরে ধীরে লিভার সিরোসিস ও লিভার ক্যানসারে রূপ নিতে পারে। বর্তমানে হেপাটাইটিস বি ও সি ভাইরাসজনিত রোগীর তুলনায় ফ্যাটি লিভারে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বেশি দেখা যাচ্ছে। অনেক রোগী অন্য কারণে পরীক্ষা করাতে গিয়ে ফ্যাটি লিভার ধরা পড়ার পর চিকিৎসকের শরণাপন্ন হচ্ছেন।
একসময় চিকিৎসক সমাজের মধ্যেও ফ্যাটি লিভার নিয়ে সচেতনতা কম ছিল। অনেকেই এটিকে গুরুত্বহীন সমস্যা মনে করতেন। কিন্তু গবেষণা ও চিকিৎসা অভিজ্ঞতায় প্রমাণিত হয়েছে, অবহেলা করলে এ রোগ প্রাণঘাতী জটিলতার কারণ হতে পারে।
আধুনিক জীবনযাত্রার কারণে মানুষের শারীরিক পরিশ্রম কমে গেছে। গ্রামাঞ্চলেও কৃষিকাজে যান্ত্রিকীকরণ, মোটরসাইকেলের ব্যবহার বৃদ্ধি এবং হাঁটাচলার অভ্যাস কমে যাওয়ায় মানুষ ক্রমেই স্থবির জীবনযাপনে অভ্যস্ত হয়ে পড়ছে। অন্যদিকে অতিরিক্ত ভাত, তেল-চর্বিযুক্ত খাবার, মিষ্টি ও চিনিযুক্ত পানীয় গ্রহণ রোগের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে।
নারীদের ঘরের কাজ করাকে ব্যায়ামের বিকল্প ভাবার সুযোগ নেই। সুস্থ থাকতে হলে প্রতিদিন অন্তত ৩০ থেকে ৪০ মিনিট নিয়মিত হাঁটতে হবে। একই সঙ্গে ওজন নিয়ন্ত্রণ, ডায়াবেটিস ও রক্তের চর্বি নিয়ন্ত্রণে রাখা জরুরি।
ফ্যাটি লিভারকে অবহেলা করলে চলবে না। এখনই সচেতনতা বাড়িয়ে স্বাস্থ্যকর জীবনযাত্রা গড়ে তুলতে পারলে দেশে ফ্যাটি লিভারের হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনা সম্ভব। প্রতিটি চিকিৎসক ও সচেতন নাগরিকের সম্মিলিত উদ্যোগই পারে ফ্যাটি লিভারমুক্ত বাংলাদেশ গড়ে তুলতে।
অধ্যাপক ডা: মোহা. হারুন অর রশীদ
সাবেক বিভাগীয় প্রধান (লিভার বিভাগ)
রাজশাহী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল

