
বাংলাদেশে শিশু ও কিশোরদের মধ্যে স্থূলতার হার উদ্বেগজনকভাবে বাড়ছে, যা ভবিষ্যতে ফ্যাটি লিভার ও লিভার সিরোসিসের বড় ঝুঁকি তৈরি করছে। শিশু বয়সে শুরু হওয়া স্থূলতা দীর্ঘমেয়াদে লিভারের মারাত্মক ক্ষতির কারণ হতে পারে। তাই ছোটবেলা থেকেই স্বাস্থ্যকর জীবনযাত্রা গড়ে তোলা জরুরি।
নব্বইয়ের দশকে শিশুদের পুষ্টিহীনতা ছিল প্রধান উদ্বেগের বিষয়। কিন্তু বর্তমানে পরিস্থিতি বদলেছে। বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, দেশে পাঁচ বছরের বেশি বয়সী এবং ১৮ বছরের নিচে প্রায় ৮ শতাংশ শিশু ও কিশোর স্থূলতায় আক্রান্ত।
ফ্যাটি লিভার থেকে লিভারের স্থায়ী ক্ষতি বা সিরোসিস হতে সাধারণত ১৫ থেকে ২০ বছর সময় লাগে। ফলে শিশু বয়সে যাদের ফ্যাটি লিভার শুরু হচ্ছে, তাদের অনেকেই ৩০ থেকে ৩৫ বছর বয়সেই লিভার সিরোসিসে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিতে পড়তে পারেন।
শহরাঞ্চলে শিশুদের মধ্যে স্থূলতার প্রবণতা বেশি। খেলার মাঠের সংকট, মোবাইল-কম্পিউটার ও টেলিভিশনে অতিরিক্ত সময় ব্যয়, শারীরিক পরিশ্রম কমে যাওয়া এবং ফাস্টফুড ও চিনিযুক্ত কোমল পানীয়ের সহজলভ্যতা এ সমস্যাকে আরও বাড়িয়ে তুলছে।
যেসব শিশুর ওজন বেশি বা যাদের ফ্যাটি লিভার ধরা পড়েছে, তাদের নিয়মিত শারীরিক ব্যায়াম, ওজন নিয়ন্ত্রণ এবং স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসে অভ্যস্ত করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে ফাস্টফুড ও কার্বোনেটেড পানীয় গ্রহণ নিরুৎসাহিত করতে হবে।
এছাড়া, অনেকের ওজন বেশি না থাকলেও তারা ফ্যাটি লিভারে আক্রান্ত হতে পারেন এবং তাদের লিভার ক্ষতির ঝুঁকিও তুলনামূলক বেশি হতে পারে। তাই শুধু স্থূল ব্যক্তিদের নয়, ঝুঁকিপূর্ণ সবাইকে নিয়মিত স্ক্রিনিংয়ের আওতায় আনার পাশাপাশি পাঠ্যপুস্তক, গণমাধ্যম ও সামাজিক উদ্যোগের মাধ্যমে ব্যাপক সচেতনতা গড়ে তুলতে হবে।
ডা. আব্দুল্লাহ আল মুকিত
সহকারী অধ্যাপক (হেপাটোলজি বিভাগ)
রাজশাহী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল

