উত্তরা প্রতিদিন
ঢাকা

সংরক্ষিত নারী আসনে এমপি হতে রাজশাহী বিভাগের ২৯ নারীনেত্রীর দৌড়ঝাঁপ

উত্তরা প্রতিবেদক ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৭:৫২ অপরাহ্ণ
সংরক্ষিত নারী আসনে এমপি হতে রাজশাহী বিভাগের ২৯ নারীনেত্রীর দৌড়ঝাঁপ

বিএনপি সরকার গঠনের পর সংরক্ষিত নারী আসনের এমপি পদকে ঘিরে রাজশাহী বিভাগে তৎপরতা বেড়েছে। বিভাগের আট জেলার অন্তত ২৯ জন নারীনেত্রী মনোনয়ন পাওয়ার আশায় কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সঙ্গে যোগাযোগ জোরদার করেছেন। কেউ অবস্থান করছেন ঢাকায়, কেউ আবার দলীয় হাইকমান্ডের সঙ্গে নিয়মিত সমন্বয় করছেন। ত্যাগী রাজপথের নেত্রী থেকে শুরু করে তরুণ সংগঠক—সবার চোখ এখন চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের দিকে।

রাজশাহী বিভাগে মোট সংসদীয় আসন ৩৯টি। এর মধ্যে ২৮টিতে জয় পেয়েছে বিএনপি এবং ১১টিতে জয়ী হয়েছে জামায়াতে ইসলামী। চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার তিনটি আসনের কোনোটিতেই বিএনপি জয়ী হতে পারেনি; জেলাটি পুরোপুরি জামায়াতের দখলে। দলীয় সূত্রের ধারণা, এই জেলাকে গুরুত্ব দিয়ে সংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপি মনোনয়ন দিতে পারে। তবে বিভাগের অন্যান্য জেলার নেত্রীরাও আশাবাদী।

বগুড়া জেলা: 

বগুড়ায় সম্ভাব্য প্রার্থীর সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন— অ্যাডভোকেট শাহাজাদী লায়লা আরজুমান বানু, নাজমা আকতার, সুরাইয়া জেরিন রনি, অ্যাডভোকেট রহিমা খাতুন মেরী, নিহার সুলতানা তিথি ও কোহিনুর আক্তার।

সুরাইয়া জেরিন রনি জানান, ১৭টি মামলায় আসামি হয়ে তিনবার কারাবরণ করেছেন। তিনিও আশা করছেন দল তাঁকে মূল্যায়ন করবে।

রাজশাহী জেলা:

রাজশাহী জেলায় আলোচনায় রয়েছেন— ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রাজশাহী-৫ (পুঠিয়া-দুর্গাপুর) আসনে মনোনয়নপ্রত্যাশী মাহমুদা হাবিবা, মহিলা দলের বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক রোখসানা বেগম টুকটুকি, সাবেক নারী এমপি জাহান পান্না এবং অ্যাডভোকেট শামসাদ বেগম মিতালী।

মাহমুদা হাবিবা ২০০৫ সালে বিএনপির রাজনীতিতে যুক্ত হন। তিনি জি-নাইন (গ্রুপ-২০০৯)-এর ফাউন্ডার মেম্বার, বর্তমানে বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য। এছাড়া কৃষক দলের কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য। তিনি বলেন, দল যোগ্য মনে করলে সংরক্ষিত আসনে মূল্যায়ন করবে—এ প্রত্যাশা তাঁর রয়েছে।

জাহান পান্না অষ্টম জাতীয় সংসদে নারী এমপি ছিলেন। বর্তমানে মহিলা দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সহসভাপতি ও বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য। শামসাদ বেগম মিতালী রাজশাহী জেলা মহিলা দলের সভাপতি। অতীতে জেলা বিএনপির মহিলাবিষয়ক সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি জানান, দুঃসময়ে আইনগত সহায়তা দিয়ে রাজপথে সক্রিয় ছিলেন; দল সবকিছু বিবেচনায় নেবে বলে আশা করেন।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ:

এ জেলায় আলোচনায় রয়েছেন— সংরক্ষিত আসনের সাবেক এমপি সৈয়দা আসিফা আশরাফী পাপিয়া, দিলসাদ তহমিনা বেগম মিমি, মাসুদা আফরোজ হক শূচি, সায়মা খাতুন ও শাহানাজ খাতুন।

পাপিয়া রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের তাপসী রাবেয়া হলের দুবারের ভিপি ছিলেন এবং জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে তিনি কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-মানবাধিকারবিষয়ক সম্পাদক।

শাহানাজ খাতুন জেলা মহিলা দলের শিক্ষাবিষয়ক সম্পাদক ও ভোলাহাট উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান। ছয় মামলায় আসামি হয়ে তিনবার কারাবরণ করেছেন। তিনি বলেন, দুঃসময়ে পিছপা হননি; দল সুযোগ দিলে সংগঠনকে আরও গতিশীল করবেন।

নাটোর:

নাটোরে সম্ভাব্যদের তালিকায় আছেন— সাবিনা ইয়াসমিন ছবি, মহুয়া নূর কচি, সানজিদা খাতুন ও ডেইজি আহমেদ। সাবিনা ইয়াসমিন ছবি বর্তমান এমপি এম রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলুর স্ত্রী। মহুয়া নূর কচি প্রয়াত বিএনপি নেতা সানাউল্লাহ নূর বাবুর স্ত্রী। সানজিদা খাতুন ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং ডেইজি আহমেদ সিংড়া উপজেলা মহিলা দলের সভানেত্রী।

নওগাঁ ও জয়পুরহাট:

নওগাঁয় আলোচনায় রয়েছেন জেলা মহিলা দলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি সামিনা পারভীন পলি। জয়পুরহাটে আগ্রহীদের মধ্যে আছেন পারভীন বানু রুলি ও জাহেদা কামাল। পারভীন বানু রুলি জানান, ১৫ বছর আন্দোলনে সক্রিয় ছিলেন এবং নির্যাতনের শিকার হয়েছেন; সুযোগ পেলে সংগঠনকে শক্তিশালী করবেন।

পাবনা:

পাবনায় আলোচনায় রয়েছেন— পূর্ণিমা ইসলাম, খায়রুন নাহার খানম মিরু, অ্যাডভোকেট আরিফা সুলতানা রুমা ও ডা. শাহানা বানু।

পূর্ণিমা ইসলাম চার মেয়াদে জেলা মহিলা দলের সভাপতি ছিলেন। মিরু ঢাকা বদরুন্নেসা কলেজের সাবেক ভিপি। আরিফা সুলতানা রুমা ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় রাজনীতিতে সক্রিয় থেকে বর্তমানে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সদস্য। তিনি জানান, মামলা ও রিমান্ডের নির্যাতন সহ্য করেও আন্দোলনে সক্রিয় ছিলেন; সুযোগ পেলে মানুষের জন্য কাজ করবেন এবং সাংগঠনিক ভূমিকা রাখবেন।

সিরাজগঞ্জ:

সিরাজগঞ্জে আলোচনায় রয়েছেন— অ্যাডভোকেট সিমকী ইমাম খান, কণ্ঠশিল্পী কনকচাঁপা ও মোমেনা আলী। সিমকী ইমাম খান বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য।

দলের অবস্থান:

রাজশাহী বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক (রাজশাহী বিভাগ) সৈয়দ শাহীন শওকত খালেক বলেন, জনসংখ্যা ও সংসদীয় আসনের অনুপাতে সংরক্ষিত আসনের মনোনয়ন দেওয়া হবে। কাদের মনোনয়ন দেওয়া হবে, সে সিদ্ধান্ত দলের সর্বোচ্চ নীতি-নির্ধারকরা নেবেন।

 

ইএফ/ 

 

Read more — উত্তরাঞ্চল
Home