উত্তরা প্রতিদিন
ঢাকা

যৌন নিপীড়নের মামলায় সাংবাদিক গোলাম রাব্বানী কারাগারে

উত্তরা প্রতিবেদক ৩০ এপ্রিল ২০২৬, ০৭:৪৯ অপরাহ্ণ
যৌন নিপীড়নের মামলায় সাংবাদিক গোলাম রাব্বানী কারাগারে

রাজশাহীতে এক নারীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় মাছরাঙা টেলিভিশনের রিপোর্টার এবং বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের মিডিয়া এডভাইজার ও খন্ডকালীন শিক্ষক গোলাম রাব্বানীকে কারাগারে প্রেরণ করেছেন  আদালত।  রাজশাহী নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১ এ হাজির হয়ে তিনি জামিনের আবেদন করলে বিচারক জামিন না মঞ্জুর করে তাকে কারাগারে প্রেরণের নির্দেশ দেন।

 

আদালত সূত্রে জানা গেছে, এক নারীর যৌন নিপীড়ন মামলায় (চন্দ্রিমা থানা- জিআর-২০/২০২৬, ১৬৫৬০/২৬) গোলাম রাব্বানী গত ২০ এপ্রিল রাজশাহী নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১এ হাজির হয়ে জামিনের জন্য আবেদন করেন। এই মামলার জামিনের শুনানী শেষে বিজ্ঞ বিচারক (সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ) শরমিন আকতার গোলাম রাব্বানীর জামিন না মঞ্জুর করে তাকে কারাগারে প্রেরণের নির্দেশ দেন। ২০ এপ্রিল বিকেলে গোলাম রাব্বানীকে রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারে প্রেরণ করা হয়। সেদিন থেকেই গোলাম রাব্বানী কারাগারে।

 

উল্লেখ্য, গত ৩ মার্চ এক নারী যৌন নিপীড়নের দায়ে গোলাম রাব্বানীকে আসামী করে চন্দ্রিমা থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০২ (সংশোধিত-৩) এর ১০ ধারায় একটি মামলা (মামলা নং- ০৩, তাং- ৩ মার্চ ২০২৬) দায়ের করে। পরবর্তীতে গোলাম রাব্বানী হাইকোর্ট থেকে ছয় সপ্তাহের জন্য জামিন লাভ করে, যার রেফারেন্স নম্বর-১৬৫৫০/২৬, ০৯/০৩/২০২৬)। এরপর অন্তর্বর্তীকালীন জামিনের মেয়াদ শেষ হলে সাংবাদিক গোলাম রাব্বানী   গত ২০ এপ্রিল  রাজশাহী নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১এ হাজির হয়ে জামিনের আবেদন করেন।  কিন্ত আদালত জামিন না মঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

 

এর আগে, সাংবাদিক গোলাম রাব্বানীর আয়ের উৎস নিয়েও দুদকে অভিযোগ জমা পড়ে। অভিযোগে বলা হয়েছে, গোলাম রাব্বানী ২০২৩-২৪ অর্থবছরে যে আয়কর রিটার্ন জমা দিয়েছেন, তাতে তিনি উল্লেখ করেন, রাজশাহীর তানোর উপজেলার দুটি মৌজায় দুই কোটি ৭৪ লাখ আট হাজার ৭০০ টাকায় দুটি দলিলমূলে ৮.৩০ একর (২৪ বিঘার ওপরে) জমি তিনি ২০২৩ সালে কিনেছেন।

একটি দলিলের নম্বর ২২৭৩; সম্পাদনের তারিখ ১৫/০৫/২০২৩; মৌজা সাদিপুর; জমির পরিমাণ পাঁচ একর ১৫ শতাংশ। আরেকটি দলিলের নম্বর ২২৭৫; মৌজা মুণ্ডুমালা; সম্পাদনের তারিখ ১৫/০৫/২০২৩; পরিমাণ তিন একর ১৫ শতাংশ।

ওই এলাকায় খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, এই পরিমাণ জমির মূল্য প্রায় পাঁচ কোটি টাকা। গোলাম রাব্বানী এই জমি দেবাশীষ রায় নামের এক ব্যক্তির কাছ থেকে কিনেছেন বলে দাবি করেছেন। কিন্তু  ওই জমি সরকারের ‘খ’ তফসিলভুক্ত, অর্থাৎ অর্পিত বা শত্রু সম্পত্তি।

 

জমিতে বসবাসকারী বেশ কয়েকজনের কাছ থেকে ভূমি অফিসের এমন নথি পাওয়া গেছে; যেখানে দেখা যাচ্ছে—বাসিন্দারা বার্ষিক লিজের টাকা জমা দিয়েছেন। এভাবে বহু বছর ধরেই তাঁরা সরকারের কাছ থেকে ওই অর্পিত সম্পত্তি লিজ নিয়ে ভোগদখল করে আসছেন। পরবর্তী সময়ে গোলাম রাব্বানী কৌশলে প্রথমে জমিটি দেবাশীষ রায়ের মালিকানায় দেন; পরে তাঁর কাছ থেকে কেনা দেখিয়ে নিজের নামে দলিল করে নেন।

  

তানোর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাইমা খান  গণমাধ্যমকে বলেন, ‘ এতগুলো সম্পত্তি একজন ব্যক্তি কিভাবে পর্যায়ক্রমে এসে এককভাবে মালিক হলো, সেটি দেখার বিষয় আছে।

Read more — উত্তরাঞ্চল
Home