উত্তরা প্রতিদিন
ঢাকা

বরেন্দ্রে আদিবাসী নারী কৃষিশ্রমিকদের সক্ষমতা বাড়াতে অ্যাডভোকেসি সভা

উত্তরা প্রতিবেদক ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৩:৩৫ অপরাহ্ণ
বরেন্দ্রে আদিবাসী নারী কৃষিশ্রমিকদের সক্ষমতা বাড়াতে অ্যাডভোকেসি সভা

খরা ও পানিসংকটে বিপর্যস্ত বরেন্দ্র অঞ্চলে আদিবাসী নারী কৃষিশ্রমিকদের বাস্তবতা, বৈষম্য ও সক্ষমতা উন্নয়নের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে রাজশাহীতে একটি অ্যাডভোকেসি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বৃহস্পতিবার নগরীর হোটেল ওয়ারিশানে অ্যাসোসিয়েশন ফর কমিউনিটি ডেভেলপমেন্ট (এসিডি)-এর আয়োজনে এবং অক্সফাম ইন বাংলাদেশ-এর সহযোগিতায় ‘কাল্টিভেটিং চেঞ্জ’ কর্মসূচির অধীনে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সরকারি কর্মকর্তা, এনজিও প্রতিনিধি, তানোর ও গোদাগাড়ী উপজেলার আদিবাসী নারী কৃষক সদস্য, সুপার শপের ব্যবসায়ী প্রতিনিধি ও গণমাধ্যমকর্মীসহ প্রায় ৩০ জন অংশ নেন।

বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ প্রফেসর ড. দীপকেন্দ্র নাথ দাসের সভাপতিত্বে সভার শুরুতে প্রকল্পের সারসংক্ষেপ উপস্থাপন করেন ‘কাল্টিভেটিং চেঞ্জ’ প্রকল্পের সমন্বয়কারী সুব্রত কুমার পাল।

সভায় জানানো হয়, বরেন্দ্র অঞ্চল দীর্ঘদিন ধরে খরা ও পানির স্বল্পতায় ভুগছে। এ অঞ্চলে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক আদিবাসী জনগোষ্ঠী বসবাস করে এবং অধিকাংশ পরিবার কৃষিনির্ভর জীবিকার ওপর নির্ভরশীল। তানোর ও গোদাগাড়ী উপজেলায় আনুমানিক ১২ হাজার আদিবাসী নারী কৃষি শ্রমিক হিসেবে সক্রিয়ভাবে যুক্ত আছেন।

বক্তারা বলেন, এসব নারী ধান ও সবজি চাষ, চারা রোপণ, আগাছা পরিষ্কার এবং ফসল সংগ্রহসহ উৎপাদনের বিভিন্ন ধাপে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখলেও ন্যায্য মজুরি ও সামাজিক স্বীকৃতি থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। একই কাজে পুরুষ শ্রমিকদের তুলনায় কম পারিশ্রমিক পাওয়ার বিষয়টিও তুলে ধরা হয়।

আলোচনায় আরও বলা হয়, খরা-সহনশীল ফসল চাষ সম্প্রসারণ সময়ের দাবি হলেও পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণ, আধুনিক প্রযুক্তি ও সেচ সুবিধার অভাবে আদিবাসী নারীরা পিছিয়ে পড়ছেন। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় তাদের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে বিশেষ প্রশিক্ষণ ও নীতিগত সহায়তা জরুরি।

অনুষ্ঠানের অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর ড. জালাল উদ্দিন সরদার, পরিবেশ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোছা. তাছমিনা খাতুন এবং যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. শরীফুল ইসলাম।

পরিবেশ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোছা. তাছমিনা খাতুন বলেন, নারীর অংশগ্রহণ নিশ্চিতের মাধ্যমে বৈষম্যমুক্ত সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব। জলবায়ু পরিবর্তনের সবচেয়ে বেশি প্রভাব নারীরা বহন করছেন উল্লেখ করে তিনি নারী নেতৃত্বে জলবায়ু সহনশীল উদ্যোগ গ্রহণ এবং ঐতিহ্যগত কৃষিজ্ঞান কাজে লাগানোর আহ্বান জানান।

সভাপতির বক্তব্যে প্রফেসর ড. দীপকেন্দ্র নাথ দাস বলেন, খরা পরিস্থিতি মোকাবিলায় ঐতিহ্যগত চাষাবাদ পদ্ধতির সঙ্গে আধুনিক প্রযুক্তির সমন্বয় প্রয়োজন। পাশাপাশি পানি সংরক্ষণে সম্মিলিত উদ্যোগ নিলে কৃষিতে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।

নারী কৃষক অলিভিয়া বিশ্বাস বলেন, আগে একধরনের ফসল চাষ করলেও এখন বৈচিত্র্য আনা হয়েছে। এতে খরার সময়ও কিছু ফসল টিকে থাকে এবং জীবিকা চালিয়ে নেওয়া সম্ভব হয়।

সভা থেকে আদিবাসী নারী কৃষিশ্রমিকদের জন্য পৃথক প্রশিক্ষণ কর্মসূচি গ্রহণ, ন্যায্য মজুরি নিশ্চিতকরণ এবং খরা-সহনশীল কৃষি সম্প্রসারণে প্রণোদনা দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।

বক্তারা বলেন, বরেন্দ্র অঞ্চলের টেকসই কৃষি উন্নয়ন নিশ্চিত করতে আদিবাসী নারী কৃষকদের অধিকার, মর্যাদা ও সক্ষমতা বৃদ্ধিকে অগ্রাধিকার দিতে হবে।

অংশীজন পরামর্শ সভায় আরও বক্তব্য দেন বিএসএসের স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট ড. আইনুল হক, বাংলাদেশ লাইভস্টক সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক ড. হেমায়েতুল ইসলাম আরিফ, সিনিয়র সাংবাদিক কাজী শাহেদ ও মামুন-অর-রশীদ, দৈনিক খবরের কাগজের রাজশাহী ব্যুরো ও উত্তরা প্রতিদিনের সম্পাদক এনায়েত করিম এবং নারী কৃষক শ্যামলী টুডুসহ অন্যরা।

Read more — উত্তরাঞ্চল
Home