উত্তরা প্রতিদিন
ঢাকা

মৌসুমের শুরুতেই আলুর দামে ধস, লোকসানের শঙ্কায় চাষিরা

সুজন আলী ৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৯:০৮ অপরাহ্ণ
মৌসুমের শুরুতেই আলুর দামে ধস, লোকসানের শঙ্কায় চাষিরা

রাজশাহীতে চলতি মৌসুমের শুরুতেই আলুর দামে বড় ধরনের ধস নেমেছে। মাঠ থেকে ওঠা নতুন আলু বিক্রি করেও উৎপাদন খরচ তুলতে পারছেন না কৃষকরা। ন্যায্য দাম না পাওয়ায় গত মৌসুমের মতো এবারও বড় ধরনের লোকসানের আশঙ্কায় পড়েছেন দেশের প্রধান আলু উৎপাদনকারী বরেন্দ্র অঞ্চলের চাষিরা।

কৃষকরা অভিযোগ করে বলেন, বাজারে গত বছরের অবিক্রিত আলু এখনও থেকে যাওয়া, দুর্বল বাজার ব্যবস্থাপনা এবং পর্যাপ্ত সংরক্ষণ সুবিধা না থাকায় পাইকারি বাজারে নতুন আলুর দাম অস্বাভাবিকভাবে কমে গেছে। আলুর অস্বাভাবিক দরপতনের পেছনে আলু ব্যবসায়ী সিন্ডিকেটের হাত রয়েছে। পাশাপাশি হিমাগার মালিকদের সঙ্গে ব্যবসায়ী সিন্ডিকেটের যোগসাজশ রয়েছে। এতে করে মৌসুমের শুরুতেই চাষিরা চরম আর্থিক সংকটে পড়ছেন।

তারা জানান, ক্রেতা না থাকায় কৃষকরা না পারছে জমি থেকে আলু বিক্রি করতে। আবার অগ্রিম বুকিং না থাকায় হিমাগারেও রাখতে পারছেন না।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে দেশে মোট ১ কোটি ১৫ লাখ টন আলু উৎপাদন হয়েছিল। এর মধ্যে রাজশাহী ও রংপুর বিভাগে উৎপাদিত হয় প্রায় ৮৭ লাখ টন আলু। চলতি ২০২৫-২৬ মৌসুমে শুধু এই দুই বিভাগেই ৩ লাখ ৪৩ হাজার হেক্টর জমিতে প্রায় ৮৪ লাখ টন আলু উৎপাদনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

রাজশাহী, বগুড়া, রংপুর, পাবনাসহ প্রধান উৎপাদনকারী জেলার কৃষকেরা জানান, চলতি মৌসুমে বীজ, সার, সেচ, শ্রম ও পরিবহন ব্যয় গতবছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। ফলে প্রতি কেজি আলু উৎপাদনে খরচ পড়েছে ১৮ থেকে ২২ টাকা। অথচ বর্তমানে পাইকারি বাজারে নতুন আলু বিক্রি হচ্ছে কেজি প্রতি মাত্র ৮ থেকে ১২ টাকায়। এতে উৎপাদন খরচ তো দূরের কথা, ক্ষেত্রবিশেষে তুলনামূলক কম দামেও আলু বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন তারা।

রাজশাহীর তানোর উপজেলার আলুচাষি লুৎফর রহমান বলেন, গত মৌসুমে আলু চাষ করে তিনি ব্যাপক লোকসানের সম্মুখীন হয়েছিলেন। সেই ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়ার আশায় এবারও আলু চাষ করেন। কিন্তু এবারও উৎপাদন খরচ তুলতে না পেরে প্রায় পথে বসার মতো অবস্থায় পড়েছেন।

বাগমারা উপজেলার কৃষক মিজানুর রহমান জানান, আলুর ভরা মৌসুম শুরু হতে এখনও প্রায় এক মাস বাকি। সাধারণত আগাম জাতের আলু চাষ করা হয় বেশি দাম পাওয়ার আশায়। কিন্তু বাজারে এখনও গতবছরের আলু থেকে যাওয়ায় নতুন আলুর চাহিদা কমে গেছে। ফলে দাম পড়ে গেছে। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, পুরো মৌসুমে আলু উঠতে শুরু করলে দাম আরও কমে যেতে পারে।

জয়পুরহাটের কালাই উপজেলার কৃষক দুলাল মিয়া জানান, তিনি এবছর ১৮ বিঘা জমিতে কার্ডিনাল জাতের আলু চাষ করেছেন। তার হিসাব অনুযায়ী, প্রতি কেজি আলু উৎপাদনে খরচ হয়েছে ২২ টাকা। অথচ বর্তমানে বাজারে নতুন আলু বিক্রি হচ্ছে ১২ থেকে ১৫ টাকা কেজিতে।

বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, রপ্তানির সুযোগ সীমিত এবং সংরক্ষণ ব্যয় বেশি হওয়ায় ব্যবসায়ীরা বড় পরিসরে আলু কিনছেন না। পাশাপাশি ব্যবসায়িক সিন্ডিকেটের দাপট ও মৌসুমে অতিরিক্ত ফলনের কারণে বাজারে চাহিদা কমে গিয়ে আলুর দাম পড়ে গেছে। এর সরাসরি ক্ষতি বহন করতে হচ্ছে কৃষকদের।

রাজশাহী বিভাগের কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের উপপরিচালক শাহানা আখতার জাহান বলেন, আলুর ভরা মৌসুম এখনও পুরোপুরি শুরু হয়নি। তাই পাইকারি ও খুচরা দামের মধ্যে পার্থক্য দেখা যেতে পারে। এছাড়া, আগের বছরের তুলনায় আলুর আবাদ কিছুটা কমেছে, যা মৌসুমের শেষ দিকে সরবরাহ ও দামে প্রভাব ফেলতে পারে।

Read more — কৃষি
Home