উত্তরা প্রতিদিন
ঢাকা

গোদাগাড়ীতে সূর্যমুখী চাষে স্বপ্ন দেখছেন কৃষকরা

উত্তরা প্রতিদিন আব্দুল খালেক, গোদাগাড়ী ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৪:২৪ অপরাহ্ণ
গোদাগাড়ীতে সূর্যমুখী চাষে স্বপ্ন দেখছেন কৃষকরা

রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার চরাঞ্চলে সূর্যমুখী চাষে নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলেছে। বাংলাদেশের চর এলাকায় আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি সম্প্রসারণ প্রকল্প-এর আওতায় গোদাগাড়ী পৌরসভাসহ চর আষাড়িয়াদহ এলাকায় ব্যাপকভাবে সূর্যমুখী চাষ হচ্ছে। 

কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চরাঞ্চলের প্রায় ২৫ বিঘা জমিতে সূর্যমুখী চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

গোদাগাড়ী পৌর এলাকার মাদারপুর গ্রামের নিচে পদ্মার জেগে ওঠা চরে কৃষক ইসমাইল হোসেনের ৩৩ শতকের একটি প্রদর্শনী প্লটে গিয়ে দেখা যায়, সারি সারি দাঁড়িয়ে থাকা সূর্যমুখী গাছগুলো যেন সূর্যের কিরণ ছড়িয়ে হাসছে। চারদিকে হলুদ ফুল আর সবুজ পাতার সমারোহ—অপরূপ এ দৃশ্য দেখতে আশপাশের এলাকা থেকেও ভিড় জমাচ্ছেন অনেকে। নয়নাভিরাম এ দৃশ্য যে কারও মন ছুঁয়ে যায়।

কৃষক ইসমাইল হোসেন জানান, উপজেলা কৃষি অফিস থেকে বিনামূল্যে বীজ ও সার পেয়ে তিনি সূর্যমুখী চাষে আগ্রহী হন। কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করতে প্রকল্পের আওতায় বিনামূল্যে বীজ ও সার বিতরণ করা হয়েছে। তিনি আশা করছেন, ভালো ফলন হলে আগামীতে আরও জমিতে সূর্যমুখী চাষ করবেন।

উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. ওবাইদুল্লাহ বলেন, সূর্যমুখী একটি লাভজনক ফসল। প্রায় ৯০ দিনে ফসল ঘরে তোলা যায়। এখানে আরডিএস-২৭৫ জাতের সূর্যমুখী চাষ করা হয়েছে, যা স্বল্প সময়ে ভালো ফলন দেয়।

কৃষি কর্মকর্তারা জানান, সূর্যমুখী একটি উচ্চ ফলনশীল ও পুষ্টিকর তৈলবীজ ফসল। সূর্যমুখী তেল হৃদরোগীদের জন্য উপকারী এবং এতে ক্ষতিকারক ইরোসিক অ্যাসিড নেই। ফলে ভোজ্যতেল হিসেবে এর চাহিদা বাড়ছে।

গোদাগাড়ী উপজেলা কৃষি অফিসার মরিয়ম আহমেদ বলেন, গোদাগাড়ী উপজেলার চরাঞ্চলে সূর্যমুখী চাষের যে সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়েছে, তা অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক। 

‘কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর’-এর তত্ত্বাবধানে প্রকল্পের আওতায় কৃষকদের উন্নত জাতের বীজ ও প্রয়োজনীয় সার সরবরাহ করা হয়েছে। আরডিএস-২৭৫ জাতের সূর্যমুখী স্বল্প সময়ে (প্রায় ৯০ দিনে) ফলন দেয় এবং তুলনামূলকভাবে কম খরচে ভালো উৎপাদন সম্ভব। এটি একটি লাভজনক তৈলবীজ ফসল।”

তিনি আরও বলেন, চরাঞ্চলের পতিত ও নবজাগ্রত জমিকে কাজে লাগিয়ে কৃষকদের আয় বাড়ানোই এ উদ্যোগের লক্ষ্য। প্রদর্শনী প্লট দেখে ইতোমধ্যে অনেক কৃষক আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। আশা করা যাচ্ছে, আগামী মৌসুমে সূর্যমুখী চাষের পরিধি আরও বাড়বে এবং কৃষকরা আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী হবেন।

Read more — কৃষি
Home