উত্তরা প্রতিদিন
ঢাকা

ভারতে শপিং মলের নামাজঘর ভেঙে দিল হিন্দুত্ববাদীরা

উত্তরা প্রতিদিন উত্তরা ডেস্ক ২ নভেম্বর ২০২৬, ০৭:১৪ অপরাহ্ণ
ভারতে শপিং মলের নামাজঘর ভেঙে দিল হিন্দুত্ববাদীরা

গণতান্ত্রিক ও ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র হিসেবে বিশ্বজুড়ে ভারতের যে ভাবমূর্তি রয়েছে, তা যেন আরো একবার বড় ধরনের ধাক্কা খেল খোদ বাণিজ্যনগরী মুম্বাইয়ে। একটি পরিচিত শপিং মলের ভেতরে তৈরি করা নামাজের ঘর বা প্রেয়ার রুমকে কেন্দ্র করে কট্টর হিন্দুত্ববাদী সংগঠনগুলোর তীব্র প্রতিবাদ এবং শেষ পর্যন্ত সেটি সম্পূর্ণ গুঁড়িয়ে দেওয়ার ঘটনা নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

 

মহারাষ্ট্রের মুম্বাইয়ের মালাড এলাকায় অবস্থিত বিখ্যাত ‘ইনঅরবিট মল’-এ ঘটে যাওয়া এ ঘটনা সংখ্যালঘুদের প্রতি ক্রমবর্ধমান অসহিষ্ণুতার একটি দৃষ্টান্ত হিসেবে সামনে এসেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওকে কেন্দ্র করে কীভাবে আধুনিক ও সর্বজনীন পরিসরে থাকা একটি শান্তিপূর্ণ নামাজের স্থান ধ্বংস করা হতে পারে, এ ঘটনা তারই উদাহরণ।

 

বিতর্কের সূত্রপাত হয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি সংক্ষিপ্ত ভিডিওকে কেন্দ্র করে। ভিডিওতে দেখা যায়, হিজাব পরিহিত দুই তরুণী শপিং মলের ভেতরের প্রেয়ার রুমটি ঘুরিয়ে দেখাচ্ছে। তারা ক্যামেরার সামনে জানায়, মলের ভেতরেই নামাজ আদায়ের সুন্দর ও সুরক্ষিত ব্যবস্থা রয়েছে। সেখানে পুরুষ ও নারীদের নামাজের জন্য আলাদা কক্ষ এবং ওজু করার জন্য রয়েছে নির্দিষ্ট জায়গা বা ‘ওজুখানা’। শপিং করতে এসে কিংবা মলে দীর্ঘ সময় অবস্থান করলেও যাতে ধর্মপ্রাণ মানুষের নামাজ আদায়ে ব্যাঘাত না ঘটে, সেই ব্যবস্থার কথাই তুলে ধরেছিল ওই দুই কিশোরী। কিন্তু তাদের এই ভিডিওই যে এত বড় বিতর্কের কারণ হয়ে দাঁড়াবে, তা হয়তো কেউ ভাবেনি।

 

ভিডিওটি ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়তেই ক্ষোভ প্রকাশ করতে শুরু করেন ভারতের বিভিন্ন ডানপন্থি ব্যক্তি ও কট্টরপন্থি হিন্দু সংগঠনের সদস্যরা। বিশেষ করে ‘সকল হিন্দু সমাজ’ নামের একটি হিন্দুত্ববাদী সংগঠন গত ৩০ অক্টোবর এক্সে (সাবেক টুইটার) ভিডিওটি শেয়ার করে আপত্তি জানায়।

 

তাদের অভিযোগ, বিভিন্ন ধর্ম ও সম্প্রদায়ের মানুষের যাতায়াত রয়েছে এমন একটি পাবলিক শপিং মলে কেন শুধু নামাজের জন্য আলাদা জায়গা থাকবে? সংগঠনটি আরো প্রশ্ন তোলে, মুম্বাই কি ধীরে ধীরে পাকিস্তানে পরিণত হচ্ছে? নাকি এটি একটি ‘সফট ইসলামিক ছিটমহল’ হয়ে ওঠার পথে? মলের ভেতরে হিন্দুরা চাইলে একইভাবে নিজেদের ধর্মীয় উপাসনা করতে পারবেন কি না, সেই প্রশ্নও তোলে তারা। এরপর প্রেয়ার রুমটি সরিয়ে ফেলার দাবিতে মল চত্বরে বিক্ষোভ শুরু করে সংগঠনটির সদস্যরা।

 

হিন্দুত্ববাদী সংগঠনগুলোর লাগাতার চাপ, বিক্ষোভ ও হুমকির মুখে শেষ পর্যন্ত নামাজের কক্ষটি ভেঙে ফেলা হয়। এর এক দিন পর, ৩১ অক্টোবর ‘সকল হিন্দু সমাজ’ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আরো একটি ভিডিও প্রকাশ করে। এতে প্রেয়ার রুমটির আগের ও পরের অবস্থা তুলে ধরা হয়। ভিডিওতে দেখা যায়, ঘরটির মেঝের টাইলস ভেঙে ফেলা হয়েছে এবং পুরো জায়গাটি লণ্ডভণ্ড অবস্থায় পড়ে রয়েছে।

 

বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ক্রেতাদের সুবিধার্থে বড় বড় শপিং মলে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে প্রার্থনার জন্য নির্দিষ্ট কক্ষ রাখা হয়, যাতে বিভিন্ন ধর্মের মানুষ নিজেদের উপাসনা করতে পারেন। কিন্তু মুম্বাইয়ের এ ঘটনা দেখিয়ে দিল, ভারতে উগ্র সাম্প্রদায়িকতার চাপে সাধারণ মানুষের ধর্মীয় স্বাধীনতা ও উপাসনার সুযোগ কতটা ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।

 

 

 

 

উত্তরা / এ এম 

Read more — আন্তর্জাতিক
Home