
আইফোন শুধু ফোন করা, ছবি তোলা বা ইন্টারনেট ব্যবহারের কাজেই সীমাবদ্ধ নয়। আপনার দৈনন্দিন যাতায়াতের ধরন বুঝতে লোকেশন-সংক্রান্ত কিছু তথ্যও ডিভাইসে সংরক্ষিত হতে পারে। এর মধ্যে রয়েছে সিগনিফিকেন্ট লোকেশনসের মতো একটি ফিচার। আপনি কোথায় নিয়মিত যান বা কোন জায়গাগুলোতে বারবার যাতায়াত করেন, সেই তথ্য নির্দিষ্ট কিছু পরিষেবাকে আরও ব্যক্তিগতকৃত করতে কাজে লাগতে পারে। এই বিষয়টি নিয়ে অনেকের মধ্যেই গোপনীয়তা সংক্রান্ত প্রশ্ন তৈরি হয়। তবে অ্যাপলের বক্তব্য, সিগনিফিকেন্ট লোকেশনসের তথ্য এনক্রিপ্টেড থাকে এবং সংস্থার পক্ষেও সরাসরি সেই তথ্য দেখার সুযোগ নেই। তারপরও আপনি যদি নিজের লোকেশন সংক্রান্ত তথ্য ডিভাইসে সংরক্ষণ করতে না চান, তাহলে সেটিংস থেকে ফিচারটি বন্ধ করে রাখতে পারেন। আইফোনে সংরক্ষিত লোকেশন সংক্রান্ত তথ্য দেখতে সেটিংস খুলুন। এরপর প্রাইভেসি অ্যান্ড সিকিউরিটিতে যান। সেখান থেকে লোকেশনস সার্ভিস নির্বাচন করুন। এবার নিচের দিকে স্ক্রল করে সিস্টেম সার্ভিসেস অপশনে ঢুকুন। আপনার আইওস সংস্করণ অনুযায়ী এখানে সিগনিফিকেন্ট লোকেশনস বা কাছাকাছি নামের অপশন দেখা যেতে পারে। সেটিতে প্রবেশ করলে লোকেশন-সংক্রান্ত সেটিংস এবং প্রয়োজনীয় তথ্য দেখা যাবে। সিগনিফিকেন্ট লোকেশনসের সেটিংসে ঢোকার পর সংশ্লিষ্ট টগলটি বন্ধ করে দিন। প্রয়োজন হলে আইফোনের পাসকোড, ফেস আইডি বা টাচ আইডি দিয়ে পরিচয় নিশ্চিত করতে হতে পারে। ফিচারটি বন্ধ করার আগে অবশ্যই মনে রাখুন, লোকেশন-নির্ভর কিছু পরিষেবা বা ব্যক্তিগতকৃত সুবিধার ক্ষেত্রে এর প্রভাব পড়তে পারে। ম্যাপসে ‘ভিজিটেড প্লেসেজ’ রয়েছে কি না দেখুন শুধু সিগনিফিকেন্ট লোকেশনস নয়, অ্যাপল ম্যাপসে ভিজিটেড প্লেসেজের মতো লোকেশন হিস্ট্রির সুবিধাও থাকতে পারে। আপনি আগে কোথায় কোথায় গিয়েছেন, সেই সংক্রান্ত তথ্য এখানে দেখা যেতে পারে।এটি পরীক্ষা করতে ম্যাপস অ্যাপ খুলুন। এরপর প্লেসেজ বিভাগে গিয়ে ভিজিটেড প্লেসেজ অপশনটি খুঁজে দেখুন। সেখানে আগের সংরক্ষিত জায়গাগুলির তথ্য থাকলে সেগুলো পর্যালোচনা করতে পারবেন। পুরোনো তথ্য মুছতে চাইলে আপনি যদি আগে থেকে জমা থাকা লোকেশন তথ্যও রাখতে না চান, তাহলে ভিজিটেড প্লেসেজের সেটিংসে গিয়ে মুছে ফেলার বা নিষ্ক্রিয় করার অপশন রয়েছে কি না দেখে নিন। এরপর সেটিংস > প্রাইভেসি অ্যান্ড সিকিউরিটি > লোকেশন সার্ভিসেসে ফিরে গিয়ে লোকেশন সংক্রান্ত অনুমতিগুলোও একবার পর্যালোচনা করুন। তবে একটি বিষয় মনে রাখা জরুরি লোকেশন পরিষেবা পুরোপুরি বন্ধ করলে ম্যাপস কিছু অ্যাপের প্রয়োজনীয় ফিচার ঠিকভাবে কাজ নাও করতে পারে। তাই সবকিছু বন্ধ না করে কোন কোন পরিষেবা আপনার জন্য প্রয়োজন, সেটি বুঝে সেটিংস পরিবর্তন করাই ভালো। গোপনীয়তা আরও শক্ত করতে যা করবেন আইফোনে কোন অ্যাপ আপনার লোকেশন ব্যবহার করতে পারবে, সেটিও নির্দিষ্ট করে দেওয়া যায়। লোকেশন সার্ভিসেসের তালিকা থেকে একেকটি অ্যাপ নির্বাচন করে প্রয়োজন অনুযায়ী নেভার, আস্ক নেক্সট টাইম অর হোয়েন আই শেয়ার, হোয়াইল ইউজিং দ্য অ্যাপ বা উপলব্ধ অন্য অনুমতি বেছে নিতে পারেন। অর্থাৎ, সবসময় লোকেশন অ্যাক্সেস দেওয়ার প্রয়োজন নেই। যে অ্যাপের যখন লোকেশন প্রয়োজন, শুধু তখনই অনুমতি দেওয়ার অভ্যাস করলে ব্যক্তিগত তথ্যের নিয়ন্ত্রণ আরও ভালোভাবে নিজের হাতে রাখা সম্ভব।

