
বর্ষার রিমঝিম বৃষ্টি আবহাওয়ায় স্বস্তি আনলেও সঙ্গে নিয়ে আসে স্বাস্থ্যঝুঁকির এক বড় চ্যালেঞ্জ। এই সময়ে বাতাসের অতিরিক্ত আর্দ্রতা ও স্যাঁতসেঁতে পরিবেশের কারণে খাদ্যদ্রব্যে ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া ও জীবাণুর বংশবৃদ্ধি ঘটে দ্বিগুণ গতিতে।
অন্যদিকে, বর্ষাকালে আমাদের শরীরের পরিপাকতন্ত্র কিছুটা ধীরগতির হয়ে পড়ায় সাধারণ অসাবধানতাও ডেকে আনতে পারে তীব্র ফুড পয়জনিং, গ্যাস্ট্রিক ও পেটের নানাবিধ জটিলতা।
পুষ্টিবিদ রূপালী দত্তের মতে, বর্ষায় সময় মানুষের পরিপাকতন্ত্র ও হজমপ্রক্রিয়া কিছুটা ধীর হয়ে পড়ে। যার ফলে গ্যাস, বদহজম এবং পেট ফাঁপার মতো সমস্যা দেখা দেয়। বর্ষার দিনে অস্বাস্থ্যকর ও অসাবধানভাবে প্রস্তুত করা খাবার খেলে খুব সহজেই ফুড পয়জনিং হতে পারে।
বর্ষাকালে ফুড পয়জনিংয়ের ঝুঁকি বাড়ায় এমন ৭টি খাবার:
অর্ধসিদ্ধ মাংস: ইউএস সিডিসির তথ্য অনুযায়ী, মুরগি বা গরুর মাংস ভালোভাবে সেদ্ধ না করে খেলে এতে থাকা 'স্যালমোনেলা' ও 'ই. কোলাই' এর মতো ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া পেটে গিয়ে তীব্র ফুড পয়জনিং ঘটাতে পারে।
কাঁচা ডিম ও কাঁচা ডিমে তৈরি খাবার: কাঁচা ডিম বা আধাসেদ্ধ ডিম খেলে ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ হতে পারে। বর্ষায় ঘরে তৈরি মেয়োনিজ, কাস্টার্ড বা বিভিন্ন ডেজার্টে কাঁচা ডিম ব্যবহার এড়ানো উচিত।
সামুদ্রিক মাছ ও সি-ফুড: দূষিত জলাশয় বা কাঁচা অবস্থায় সংরক্ষিত সামুদ্রিক মাছ, সুশি এবং শেলফিশে (মাঝারি ও ছোট শক্ত খোলসের সামুদ্রিক প্রাণী) ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া ও টক্সিন থাকতে পারে।
অপাস্তুরিত দুধ ও কাঁচা দুধের পনির: ফোটানো ছাড়া অপাস্তুরিত কাঁচা দুধ এবং কাঁচা দুধ থেকে তৈরি নরম পনিরে 'লিস্টেরিয়া' নামক বিপজ্জনক ব্যাকটেরিয়া থাকার ঝুঁকি থাকে।
অপরিষ্কার কাঁচা ফলমূল ও শাকসবজি: সবুজ শাকসবজি বা কাঁচা ফলমূল ভালো করে না ধুলে তাতে মাটি, দূষিত সেচের পানি ও ক্ষতিকর জীবাণু লেগে থাকে, যা থেকে পেটের রোগ হতে পারে।
রুম টেম্পারেচারে রাখা ভাত ও পাস্তা: রান্না করা ভাত, নুডলস বা পাস্তা সাধারণ ঘরের তাপমাত্রায় দীর্ঘক্ষণ ফেলে রাখলে তাতে খুব দ্রুত ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া জন্মায়।
প্রসেসড মিট ও রেডি-টু-ইট স্যালাড: প্যাকেটজাত তৈরি স্যালাড (যেমন- পটেটো বা কোলস্লো স্যালাড) এবং স্লাইস করা ডেলি মিট সঠিকভাবে ফ্রিজে সংরক্ষিত না থাকলে সহজেই পচে যায় ও সংক্রমিত হতে পারে।
বর্ষায় ফুড পয়জনিং এড়াতে সতর্কতামূলক টিপস:
ভালোভাবে ধোয়া: ফলমূল ও শাকসবজি কাটার আগে প্রবাহমান পানির নিচে ভালো করে ধুয়ে নিন। খাবার তৈরি ও খাওয়ার আগে অন্তত ২০ সেকেন্ড সাবান দিয়ে হাত ধোয়ার অভ্যাস করুন।
কাঁচা ও রান্না করা খাবার আলাদা রাখা: ক্রস-কনটামিনেশন বা জীবাণুর বিস্তার রোধে কাঁচা মাংস, ডিম ও সি-ফুডকে রান্না করা বা তৈরি খাবারের থেকে আলাদা পাত্রে রাখুন।
সঠিক তাপমাত্রায় রান্না ও সংরক্ষণ: খাবার সবসময় ভালোভাবে সেদ্ধ করে রান্না করা উচিত। বেঁচে যাওয়া খাবার রান্না করার ২ ঘণ্টার মধ্যেই ফ্রিজে রেখে সংরক্ষণ করা প্রয়োজন।

