
চালক, সুপারভাইজার ও সহকারীদের বেতন বৃদ্ধির দাবিতে গত রোববার রাত থেকে বন্ধ ছিল রাজশাহী-ঢাকা মহাসড়কে দুরপাল্লার বাস চলাচল। প্রায় ৪১ ঘণ্টা বন্ধ থাকার পর আজ মঙ্গলবার দুপুর সোয়া ২টায় আবারও সাভাবিক হয়েছে বাস চলাচল। এতে দীর্ঘ সময় অপেক্ষায় থাকা যাত্রীদের মাঝে স্বস্তি ফিরেছে, তবে এই সময় অনেককে ভোগান্তির মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে।
এক শ্রমিক বলেন, “আমাদের জীবনও মানুষের জীবন। দিনের পর দিন বাসে কাটাই, অথচ ঘরে ফিরলে পরিবারকে সামলাতে পারি না। তাই বাধ্য হয়ে এই কর্মসূচি নিতে হয়।”
বাস চলাচল বন্ধ থাকায় যাত্রীরা বিকল্প পথে ভোগান্তি পোহাতে বাধ্য হন। বিশ্ববিদ্যালয়পড়ুয়া নাঈমা খাতুন বলেন, “সোমবার পরীক্ষা ছিল, কিন্তু বাস না থাকায় যেতে পারিনি। শিক্ষার্থীদের জন্য এটি খুব কষ্টকর।”
সংশ্লিষ্টদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, মালিকপক্ষ শ্রমিকদের সঙ্গে আলোচনায় বসে ২৪ সেপ্টেম্বরের মধ্যে বেতন সমন্বয় করার আশ্বাস দেয়। এই প্রতিশ্রুতির ভিত্তিতে আপাতত আন্দোলন স্থগিত করা হয়।
রাজশাহী জেলা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম পাখি জানান, দীর্ঘদিন ধরে অপর্যাপ্ত বেতনে কাজ করতে হচ্ছে চালক, সুপারভাইজার ও সহকারীদের। একেকটি ট্রিপ শেষে চালক পান ১,১০০ টাকা, সুপারভাইজার ৫০০ টাকা এবং সহকারী ৪০০ টাকা। এই অপ্রতুল আয় দিয়ে সংসার চালানো ক্রমেই কঠিন হয়ে পড়ছে। তবে ২৪ সেপ্টেম্বরের মধ্যে বেতন সমন্বয় করার আশ্বাসে বাস শ্রমিকরা কর্মে ফিরেছে। এতে বাস চলাচল স্বাভাবিক হয়েছে।

