উত্তরা প্রতিদিন
ঢাকা

সমান সুযোগ না থাকলে নির্বাচন গ্রহণযোগ্য হবে না

অধ্যাপক ড. মুহাম্মাদ আব্দুর রহমান মুহসেনী
উত্তরা প্রতিদিন উত্তরা প্রতিবেদক ২৩ জানুয়ারি ২০২৬, ০৬:৫১ অপরাহ্ণ
সমান সুযোগ না থাকলে নির্বাচন গ্রহণযোগ্য হবে না

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রাজশাহী-১ (তানোর–গোদাগাড়ী) আসনে আমার বাংলাদেশ পার্টির (এবি পার্টি) প্রার্থী অধ্যাপক ড. মুহাম্মাদ আব্দুর রহমান মুহসেনী ঈগল প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তিনি একাধারে বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, লেখক, গবেষক, সমাজসেবক, কবি ও রাজনীতিবিদ। নির্বাচনকে ঘিরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, নির্বাচনী পরিবেশ, লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড, গণমাধ্যমের ভূমিকা ও নিজের জয়ের সম্ভাবনা নিয়ে তার সঙ্গে কথা বলেছেন দৈনিক উত্তরা প্রতিদিন-এর প্রধান প্রতিবেদক আবু সাইদ রনি।

উত্তরা প্রতিদিন : বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ‘ভালো নির্বাচন’-এর কথা বলছে। বর্তমান নির্বাচনী পরিবেশকে আপনি কীভাবে দেখছেন?

আব্দুর রহমান মুহসেনী : সত্যি বলতে কী, আমরা যে ধরনের নির্বাচনী পরিবেশ আশা করেছিলাম, তা এখনো দেখতে পাচ্ছি না। নির্বাচনের প্রধান শর্ত হলো লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড—অর্থাৎ সব প্রার্থীর জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করা। কিন্তু বাস্তবে দেখা যাচ্ছে, দুটি বড় দল বিভিন্নভাবে বাড়তি সুযোগ-সুবিধা পাচ্ছে। প্রশাসনিক ও প্রচার—দুই ক্ষেত্রেই ছোট ও নতুন দলগুলো বঞ্চিত হচ্ছে। এ অবস্থায় সুষ্ঠু ও সুন্দর নির্বাচনের পরিবেশ তৈরি হয়নি।

উত্তরা প্রতিদিন : আপনি লেভেল প্লেয়িং ফিল্ডের ঘাটতির কথা বলছেন। মাঠপর্যায়ে কী ধরনের চিত্র দেখছেন?

আব্দুর রহমান মুহসেনী : আমি সরাসরি মাঠে কাজ করে দেখছি—অনেকেই আচরণবিধি মানছে না। তফসিল ঘোষণার পর থেকেই সরকারি সুবিধা ব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে। প্রতিনিধির মাধ্যমে ভোটারদের শীতবস্ত্র, মাফলার দেওয়া হচ্ছে, শোডাউন করা হচ্ছে। ছোটখাটো সভার নামে বড় জনসমাগম ঘটানো হচ্ছে। এসবই নির্বাচনী আচরণবিধির স্পষ্ট লঙ্ঘন। অথচ ছোট দলগুলো এসব সুযোগ পাচ্ছে না।

উত্তরা প্রতিদিন : আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নির্বাচনের জন্য কতটা সহায়ক বলে মনে করেন?

আব্দুর রহমান মুহসেনী : খুবই দুঃখজনকভাবে বলতে হচ্ছে—বর্তমান প্রশাসনিক অবস্থা নির্বাচনের জন্য মোটেই যথাযথ নয়। সাম্প্রতিক সময়ে আমরা দেখেছি প্রার্থী ও রাজনৈতিক কর্মীদের গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। এখনো চাঁদাবাজি ও মাস্তানি বিদ্যমান। অথচ প্রশাসনের যে সক্রিয়তা থাকা দরকার, তা চোখে পড়ে না।

উত্তরা প্রতিদিন : একজন প্রার্থী হিসেবে আপনার নিরাপত্তা নিয়ে প্রশাসনের কোনো উদ্যোগ দেখেছেন কি?

আব্দুর রহমান মুহসেনী : না, এখন পর্যন্ত তেমন কিছু দেখিনি। কেউ আমার কাছে এসে জানতে চায়নি আমার কী ধরনের নিরাপত্তা প্রয়োজন। শুধু বলা হয়েছে—যেখানে যাব, জানাতে। কিন্তু বাস্তবে আমি যখন নির্দিষ্ট এলাকায় যাই, সেখানে প্রশাসনের কাউকে পাই না। রাজশাহী শহরে গভীর রাতেও পুলিশের উপস্থিতি প্রায় নেই। এটা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।

উত্তরা প্রতিদিন : অস্ত্র ও মাদক পরিস্থিতি নির্বাচনকে কতটা ঝুঁকিপূর্ণ করছে?

আব্দুর রহমান মুহসেনী : জুলাই-আগস্টের আন্দোলনের সময় থানা থেকে লুট হওয়া অনেক অস্ত্র এখনো উদ্ধার হয়নি। সীমান্ত দিয়ে অবৈধ অস্ত্র ও মাদক প্রবেশ করছে। রাজশাহী-১ আসনে মাদকের আখড়া রয়েছে, যেখানে অপরাধীরা ওত পেতে থাকে। এই পরিস্থিতি জননিরাপত্তা ও নির্বাচনের জন্য বড় হুমকি।

উত্তরা প্রতিদিন : এই অবস্থা থেকে উত্তরণে প্রশাসনের করণীয় কী বলে মনে করেন?

আব্দুর রহমান মুহসেনী : সেনাবাহিনী, র‌্যাব, পুলিশ, বিজিবি, আনসার ও নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তাদের নিয়ে জরুরি সমন্বয় সভা দরকার। প্রার্থীদের সঙ্গে আলোচনা করে কোথায় কী ঘাটতি আছে, তা চিহ্নিত করতে হবে। শুধু নির্দেশ দিলেই হবে না, মাঠে বাস্তব প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে।

উত্তরা প্রতিদিন : গণমাধ্যমের ভূমিকা নিয়ে আপনার প্রত্যাশা কী?

আব্দুর রহমান মুহসেনী : গণমাধ্যম জাতির দর্পণ। কোনো প্রার্থীকে ‘হেভিওয়েট’ বলা বা শুধু দুজনের মধ্যে লড়াই দেখানো অন্যদের অবমূল্যায়ন করে। সব প্রার্থীকে সমান ও তথ্যভিত্তিক কাভারেজ দিতে হবে। আচরণবিধি লঙ্ঘনের ঘটনাগুলো তুলে ধরাই গণমাধ্যমের বড় দায়িত্ব।

উত্তরা প্রতিদিন : একই দিনে নির্বাচন ও গণভোট আয়োজন নিয়ে আপনার মত কী?

আব্দুর রহমান মুহসেনী : এতে কিছু ইতিবাচক দিক থাকলেও নেতিবাচক দিক বেশি। দীর্ঘদিন গণভোট না হওয়ায় ভোটাররা বিভ্রান্ত হতে পারেন। জাতীয় নির্বাচনের গুরুত্ব বিবেচনায় গণভোট আলাদা হলে ভালো হতো।

উত্তরা প্রতিদিন : আপনি নিজের জয়ের বিষয়ে কতটা আশাবাদী?

আব্দুর রহমান মুহসেনী : ইনশাআল্লাহ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হলে আমি বিজয়ী হব। আমি এই এলাকার সন্তান, এখানেই থাকি, মানুষের সঙ্গে আছি। শিক্ষা, সাহিত্য ও সামাজিক কাজের মাধ্যমে মানুষের আস্থা অর্জন করেছি। লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত হলে জনগণই আমার শক্তি হবে।

Read more — উত্তরাঞ্চল
Home