
রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার ড. আ.ন.ম বজলুর রশীদ বলেছেন, আমরা নিজেরা অনেক কষ্ট ও বঞ্চনার মধ্য দিয়ে এসেছি। তবে আমরা চাই আগামীর বাংলাদেশে পরবর্তী প্রজন্মের সন্তানরা যেন আর বঞ্চিত না হয়। সেই লক্ষ্যেই গণভোটের আয়োজন করা হয়েছে।
গতকাল বুধবার সন্ধ্যায় নগরীর শিশু একাডেমি চত্বরে ‘গণভোট ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন-২০২৬ এ ভোটকেন্দ্রে গমন, ভোট প্রদান ও গণভোটে অংশগ্রহণে ভোটারদের উদ্বুদ্ধকরণ’ শীর্ষক কমিউনিটি ব্রডকাস্ট অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। বাংলাদেশ বেতার রাজশাহী কেন্দ্র এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
বিভাগীয় কমিশনার বলেন, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি দেশে একটি ঐতিহাসিক ঘটনা ঘটতে যাচ্ছে। এই গণভোটের মাধ্যমে জনগণ ‘হ্যাঁ’ ভোট দিয়ে একটি নতুন বাংলাদেশের দ্বার উন্মোচন করবে। দেশের ভবিষ্যৎ নির্মাণের চাবি এখন জনগণের হাতেই রয়েছে। এই গণভোটের মাধ্যমে সহিংসতা, রক্তপাত, ক্ষমতা জবরদখল ও বারবার রাজপথের আন্দোলনের অবসান ঘটানোর সুযোগ তৈরি হয়েছে।
তিনি বলেন, অতীতে বহুবার নির্বাচন হলেও জনগণের প্রকৃত ক্ষমতা নিশ্চিত হয়নি। জনগণের দেশ ও রাষ্ট্রে জনগণের হাতেই ক্ষমতা ফিরিয়ে দিতেই এই গণভোটের আয়োজন করা হয়েছে।
ড. বজলুর রশীদ আরও বলেন, জুলাই মাসে যে তরুণরা রক্ত দিয়েছে, তাদের লক্ষ্য ছিল একটি বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়া। সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নে জুলাই সনদ প্রণয়ন করা হয়েছে। কিছু বিষয়ে মতভেদ থাকায় জনগণের মতামত জানতে গণভোটের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তিনি পাঁচ বছর পরপর তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা চালু রাখা এবং শাসনতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে নিরপেক্ষ ব্যক্তিদের নিয়োগের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
তিনি বলেন, গণভোটের মাধ্যমে এমন একটি সংবিধান রচিত হবে, যা কেউ ইচ্ছামতো বাতিল বা পরিবর্তন করতে পারবে না—যে সংবিধান হবে জনগণের ও রাষ্ট্রের। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি সুন্দর বাংলাদেশ গড়তে গণভোটের বার্তা সবার কাছে পৌঁছে দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
বাংলাদেশ বেতারের মহাপরিচালক এ এস এম জাহীদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি মোহাম্মদ শাহজাহান, আরএমপি কমিশনার ড. মো. জিল্লুর রহমান এবং আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা মো. আনিছুর রহমান। স্বাগত বক্তব্য দেন বাংলাদেশ বেতার রাজশাহী কেন্দ্রের আঞ্চলিক পরিচালক কিশোর রঞ্জন মল্লিক।
আলোচনা শেষে বেতারের শিল্পীদের পরিবেশনায় এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।

