উত্তরা প্রতিদিন
ঢাকা

একটি দলের প্রতি প্রশাসনের নমনীয়তা নির্বাচনের জন্য বিপদজনক

উত্তরা প্রতিদিন উত্তরা প্রতিবেদক ২১ জানুয়ারি ২০২৬, ০৭:০৮ অপরাহ্ণ
একটি দলের প্রতি প্রশাসনের নমনীয়তা নির্বাচনের জন্য বিপদজনক
জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নায়েবে আমির অধ্যাপক মুজিবুর রহমান

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নায়েবে আমির অধ্যাপক মুজিবুর রহমান ১৯৮৬ সালে রাজশাহী-১ (গোদাগাড়ী-তানোর) আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও একই আসনে দলীয় মনোনয়ন পেয়েছেন হেভিওয়েট এই প্রার্থী। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচনকে ঘিরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা, মিডিয়ার আচরণসহ বিভিন্ন ইস্যুতে কথা বলেছেন তিনি। তার সাক্ষাৎকার নিয়ে দৈনিক উত্তরা প্রতিদিন-এর প্রধান প্রতিবেদক আবু সাইদ রনি।

উত্তরা প্রতিদিন : বিভিন্ন দল দীর্ঘদিন ধরে একটি ‘ভালো নির্বাচনের’ কথা বলছে। বর্তমান নির্বাচনী পরিবেশকে আপনি কীভাবে দেখছেন?

অধ্যাপক মুজিবুর রহমান: প্রতিটি মানুষের মতো আমাদেরও একটি ভালো, গ্রহণযোগ্য ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের প্রত্যাশা রয়েছে। কিন্তু দুঃখের সঙ্গে বলতে হচ্ছে, লেভেল প্লেয়িং ফিল্ডের ক্ষেত্রে কিছু ব্যত্যয় আমরা লক্ষ্য করছি। বিষয়টি আমরা নির্বাচন কমিশনকে জানিয়েছি, এমনকি প্রধান উপদেষ্টার কাছেও এসব উদ্বেগ তুলে ধরেছি। আশা করছি, তারা দ্রুত পদক্ষেপ নিলে নির্বাচনের পরিবেশ স্বাভাবিক হবে।

উত্তরা প্রতিদিন: বর্তমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিকে কীভাবে দেখছেন?

অধ্যাপক মুজিবুর রহমান: সামগ্রিকভাবে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি মোটামুটি ভালো বলা যায়। তবে কিছু ঘটনা আমাদের দুশ্চিন্তায় ফেলেছে। বিশেষ করে একটি নির্দিষ্ট দলের প্রতি প্রশাসনের অতিরিক্ত নমনীয়তা ও তাদের নির্দেশে কাজ করার প্রবণতা প্রশ্ন তৈরি করছে। কোথাও কোথাও সভা-সমাবেশে হামলা, এমনকি হতাহতের ঘটনাও ঘটেছে। এসবই আইনশৃঙ্খলার দুর্বলতার ইঙ্গিত দেয়।

উত্তরা প্রতিদিন: এসব ঘটনায় প্রশাসনের ভূমিকা কেমন হওয়া উচিত ছিল বলে আপনি মনে করেন?

অধ্যাপক মুজিবুর রহমান: সংবিধান ও নির্বাচনী আচরণবিধি অনুযায়ী ঘটনা ঘটার সঙ্গে সঙ্গে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত ছিল। কিন্তু অনেক ক্ষেত্রে তা হয়নি। এর ফলে মানুষের মধ্যে শঙ্কা তৈরি হয়েছে—আদৌ কি নির্বাচন সুষ্ঠু হবে? আইনশৃঙ্খলা কি কোনো বিশেষ দলের নিয়ন্ত্রণে চলে যাচ্ছে? আমরা এখনো হতাশ নই, তবে দ্রুত দৃশ্যমান পদক্ষেপ জরুরি।

উত্তরা প্রতিদিন: নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে আপনার বক্তব্য কী?

অধ্যাপক মুজিবুর রহমান: নির্বাচন কমিশন যদি কঠোর হাতে অনিয়ম দমন না করে, তাহলে তারা পূর্ববর্তী কমিশনগুলোর মতোই প্রশ্নবিদ্ধ হবে। আমরা কমিশনকে স্পষ্টভাবে বলেছি—যদি সত্যিকার অর্থে ফ্রি, ফেয়ার ও ক্রেডিবল নির্বাচন চান, তাহলে দল-মত নির্বিশেষে সবাইকে আইনের আওতায় আনতে হবে। অন্যথায় জনগণ বিশ্বাস করতে বাধ্য হবে যে কমিশন নিরপেক্ষ নয়।

উত্তরা প্রতিদিন: নির্বাচন ও গণভোট একই দিনে অনুষ্ঠিত হবে। এ নিয়ে আপনার অভিমত কী?

অধ্যাপক মুজিবুর রহমান: আমরা দাবি করেছিলাম, নির্বাচনের আগে গণভোট আয়োজন করে জুলাই বিপ্লবের ফসল হিসেবে যে সংস্কারের বিষয়ে সব দল একমত হয়েছে, তা আইনে রূপ দেওয়া হোক। একই দিনে নির্বাচন ও গণভোট হওয়ায় এর প্রতিফলন এই নির্বাচনে দেখা যাচ্ছে না। এতে জনগণের প্রত্যাশা এক মেয়াদ পিছিয়ে গেল। তবে ভবিষ্যৎ নির্বাচনে এর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে আমরা বিশ্বাস করি।

উত্তরা প্রতিদিন: নির্বাচনে গণমাধ্যমের ভূমিকা কেমন হওয়া উচিত?

অধ্যাপক মুজিবুর রহমান: মিডিয়ার কাছ থেকে আমরা নিরপেক্ষ ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রত্যাশা করি। কিন্তু অতীতের মতো বর্তমানেও একটি নির্দিষ্ট দলের পক্ষে প্রচারণার প্রবণতা লক্ষ্য করছি। নিরপেক্ষতার সামান্য চিত্রও অনেক ক্ষেত্রে অনুপস্থিত। এটি দুঃখজনক এবং গণতন্ত্রের জন্য ক্ষতিকর।

উত্তরা প্রতিদিন: জনগণের রাজনৈতিক চাওয়া সম্পর্কে আপনার মূল্যায়ন কী?

অধ্যাপক মুজিবুর রহমান: দেশের জনগণ অতীতের দলগুলোর দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও ব্যর্থতায় অতিষ্ঠ। তারা এখন নতুন একটি শক্তিকে ক্ষমতায় দেখতে চায়, যারা সুবিচার ও জাস্টিস প্রতিষ্ঠা করবে। আমরা বিশ্বাস করি, মানুষ এমন একটি রাজনৈতিক শক্তির দিকেই তাকিয়ে আছে।

উত্তরা প্রতিদিন: সাম্প্রতিক ছাত্র সংসদ নির্বাচনগুলোকে কীভাবে দেখছেন?

অধ্যাপক মুজিবুর রহমান: ডাকসু, রাকসু, জকসুসহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্বাচনে ছাত্র ও যুবসমাজের সচেতনতার প্রতিফলন ঘটেছে। বিশেষ করে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের বড় ধরনের বিজয় প্রমাণ করেছে—তাদের বিরুদ্ধে অতীতে চালানো অপপ্রচার ভিত্তিহীন। এই আস্থা আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনেও প্রতিফলিত হবে বলে আমরা আশাবাদী।

উত্তরা প্রতিদিন: গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের জন্য আপনার পরামর্শ কী?

অধ্যাপক মুজিবুর রহমান: নির্বাচন কমিশন ও প্রশাসন যদি আইন অনুযায়ী কঠোর অবস্থান নেয়, তবে একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন সম্ভব। তা না হলে আমরা আমাদের সাংবিধানিক অধিকার অনুযায়ী আন্দোলনের পথেও যেতে বাধ্য হব। তবুও আমরা আশাবাদী—দেশবাসী একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের সাক্ষী হবে। 

 

Read more — উত্তরাঞ্চল
Home