
সদ্য প্রয়াত বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা ও তার সামরিক সচিব ছিলেন মেজর জেনারেল (অব.) শরিফ উদ্দিন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রাজশাহী-১ (গোদাগাড়ী-তানোর) আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী হয়েছেন তিনি। নির্বাচনকে সামনে রেখে বিভিন্ন ইস্যুতে তার সঙ্গে কথা বলেছেন উত্তরা প্রতিদিন-এর প্রধান প্রতিবেদক আবু সাইদ রনি।
উত্তরা প্রতিদিন: দরজায় কড়া নাড়ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। বিভিন্ন দল দীর্ঘদিন ধরে একটি ‘ভালো নির্বাচনের’ কথা বলছে। বর্তমান নির্বাচনী পরিবেশকে আপনি কীভাবে দেখছেন?
মেজর জেনারেল (অব.) শরিফ উদ্দিন: এখন পর্যন্ত এই আসনে নির্বাচনী পরিবেশ শান্তিপূর্ণ ও অনুকূল রয়েছে। কোনো ধরনের তর্ক-বিতর্ক, দ্বন্দ্ব বা অপ্রীতিকর ঘটনার নজির এখনো দেখা যায়নি। আশা করি আগামীতেও ঘটবে না। তবে শতভাগ নিশ্চয়তা দেওয়া কঠিন। আমার পক্ষ থেকে কোনো শঙ্কা নেই। অন্য প্রার্থীরাও যদি একই মনোভাব পোষণ করেন, তাহলে ইনশাআল্লাহ একটি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন সম্ভব।
উত্তরা প্রতিদিন: নির্বাচনী আচরণবিধি মানার ক্ষেত্রে বর্তমান পরিস্থিতি কেমন?
শরিফ উদ্দিন: বর্তমানে ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ প্রশাসনের হাতে রয়েছে। আমরা যারা স্টেকহোল্ডার, তারা নিজ নিজ অবস্থান থেকে আচরণবিধি মেনে চলার চেষ্টা করছি। তবে কিছু অতি উৎসাহী ব্যক্তি মাঝে মাঝে বিধিভঙ্গ করছেন। শেষ পর্যন্ত সবাইকেই আচরণবিধির আওতায় থাকতে হবে—এর কোনো বিকল্প নেই।
উত্তরা প্রতিদিন: গোদাগাড়ী-তানোর এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সম্পর্কে আপনার মূল্যায়ন কী?
শরিফ উদ্দিন: আগের তুলনায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির যথেষ্ট উন্নতি হয়েছে। তবে গোদাগাড়ী-তানোর এলাকা একটি মাদক চোরাচালানের রুট হওয়ায় প্রশাসনকে বাড়তি চাপের মুখে কাজ করতে হচ্ছে। মাদকচক্রকে কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণে না আনলে তারা বর্তমান পরিস্থিতির সুযোগ নিতে পারে—এ বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা দরকার।
উত্তরা প্রতিদিন: সবচেয়ে বড় উদ্বেগের জায়গা কোনটি বলে মনে করছেন?
শরিফ উদ্দিন: পোস্টাল ব্যালট নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ অত্যন্ত উদ্বেগজনক। সম্প্রতি বিভিন্ন গণমাধ্যমে এসব বিষয় উঠে এসেছে। এই অনিয়মগুলো বন্ধ করা না গেলে এবারের নির্বাচনও ২০০৮, ২০১৪, ২০১৮ কিংবা ২০২৪ সালের বিতর্কিত নির্বাচনের পুনরাবৃত্তি হতে পারে, যা জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্য হবে না।
উত্তরা প্রতিদিন: এবারের নির্বাচনকে আপনি কেন ভিন্ন বলছেন?
শরিফ উদ্দিন: এবারের নির্বাচন আগের নির্বাচনগুলোর চেয়ে আলাদা। এবার ভোটের সঙ্গে গণভোটের বিষয় যুক্ত হয়েছে। ১১টি পয়েন্ট সংক্ষিপ্ত করে ৪টি পয়েন্টে আনা হয়েছে। অনেক ভোটার পড়াশোনা জানেন না, ফলে এসব বিষয় পড়ে শোনাতে হবে। এতে ভোটগ্রহণে সময় বেশি লাগবে, যা নির্বাচন পরিচালনাকারী কর্তৃপক্ষকে বিবেচনায় নিতে হবে।
উত্তরা প্রতিদিন: ভোটার সচেতনতা বাড়াতে কী ধরনের উদ্যোগ প্রয়োজন বলে আপনি মনে করেন?
শরিফ উদ্দিন: সরকার স্কুল-মাঠসহ বিভিন্ন স্থানে প্রচারণা চালাচ্ছে, কিন্তু অনেক ভোটার এটিকে প্রার্থীর পোস্টার ভেবে এড়িয়ে যান। গণভোটের বিষয়বস্তু কী, এর ভেতরে কী আছে—এগুলো প্রত্যেক ভোটারকে স্পষ্টভাবে বোঝাতে আরও ব্যাপক ও কার্যকর প্রচারণা প্রয়োজন।
উত্তরা প্রতিদিন: নির্বাচনের ফলাফল ও প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে আপনার কোনো উদ্বেগ আছে কি?
শরিফ উদ্দিন: নির্বাচন একটি খেলার মতো—এখানে জয়-পরাজয় থাকবেই। তবে ভোটারদের প্রকৃত মনোভাব কিংবা প্রশাসনের ভেতরের কার্যক্রম সম্পর্কে শতভাগ নিশ্চিত থাকা কঠিন। পাশাপাশি নির্বাচনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নিয়োগ প্রক্রিয়া পুনর্বিবেচনার সুযোগ রয়েছে বলেও আমি মনে করি।
উত্তরা প্রতিদিন: সুষ্ঠু নির্বাচনে গণমাধ্যমের ভূমিকা আপনি কীভাবে দেখছেন?
শরিফ উদ্দিন: গণমাধ্যমের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। গণমাধ্যমকে অবশ্যই পক্ষপাতহীন থাকতে হবে। কোনো প্রার্থী বা দলের পক্ষে কিংবা বিপক্ষে প্রচারণায় জড়ানো উচিত নয়। সব প্রার্থীর জন্য সমানভাবে প্রচারমাধ্যম উন্মুক্ত থাকলে ভোটাররা নিজেরাই সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন।
উত্তরা প্রতিদিন: আপনি বারবার পক্ষপাতহীনতার কথা বলছেন—এ বিষয়ে আর একটু স্পষ্ট করবেন?
শরিফ উদ্দিন: গণমাধ্যম যেন সবার জন্য সমান থাকে। ভোটাররা কোনটা গ্রহণ করবেন আর কোনটা করবেন না—সেই সিদ্ধান্ত তাদের ওপরই ছেড়ে দিতে হবে। গণমাধ্যমের কাজ হবে তথ্য তুলে ধরা, প্রভাব বিস্তার করা নয়।
উত্তরা প্রতিদিন: নির্বাচন পরিচালনাকারী কর্তৃপক্ষের প্রতি আপনার বার্তা কী?
শরিফ উদ্দিন: এবারের নির্বাচন একটি ভিন্নধর্মী ও পরীক্ষামূলক বাস্তবতা তৈরি করেছে। নির্বাচন পরিচালনাকারী কর্তৃপক্ষকে এই বাস্তবতা অনুধাবন করে আগেভাগেই প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি ও ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। তাহলেই একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন সম্ভব হবে।

