উত্তরা প্রতিদিন
ঢাকা

হিমাগারে আলুর বস্তার ওজন ৫০ কেজির বেশি না করার দাবি শ্রমিকদের

উত্তরা প্রতিদিন উত্তরা প্রতিবেদক ২০ জানুয়ারি ২০২৬, ০৩:২৮ অপরাহ্ণ
হিমাগারে আলুর বস্তার ওজন ৫০ কেজির বেশি না করার দাবি শ্রমিকদের

হিমাগারে আলু লোড-আনলোডের সময় বস্তার ওজন সর্বোচ্চ ৫০ কেজি নির্ধারণ করে হাইকোর্টের নির্দেশনা দ্রুত বাস্তবায়নের দাবিতে রাজশাহীর পবা উপজেলায় স্মারকলিপি প্রদান, সংবাদ সম্মেলন ও মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছেন কুলি শ্রমিকরা।

আজ মঙ্গলবার দুপুরে নওহাটা পৌরসভার বায়া বাজার এলাকায় এসব কর্মসূচির আয়োজন করে পবা উপজেলা লোড-আনলোড কুলি শ্রমিক ইউনিয়ন। কর্মসূচির শুরুতে শ্রমিক নেতারা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে গিয়ে জেলা প্রশাসক আফিয়া আখতারের কাছে স্মারকলিপি দেন। পরে ইউনিয়নের প্রধান কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করেন। পরে কার্যালয়ের সামনে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মোর্তুজা। তিনি জানান, ২০১৭ সালে অতিরিক্ত ভার বহনের কারণে কুলি শ্রমিকদের শারীরিক ক্ষতি ও ঝুঁকির বিষয়টি তুলে ধরে হাইকোর্টে একটি মামলা করা হয়। মামলার পর আদালত রুল জারি করে নির্দেশ দেন—নারী শ্রমিক সর্বোচ্চ ৩০ কেজি এবং পুরুষ শ্রমিক সর্বোচ্চ ৫০ কেজির বেশি ভার বহন করতে পারবেন না। তবে বাস্তবে এই নির্দেশনা মানা হচ্ছে না।

মোর্তুজা অভিযোগ করে বলেন, রুল জারির পর প্রথম দিকে কিছু হিমাগারে আংশিকভাবে নির্দেশনা মানা হলেও বর্তমানে রাজশাহী জেলার বিভিন্ন কোল্ডস্টোরেজে ৭০ থেকে ৮০ কেজি ওজনের আলুর বস্তা বহন করানো হচ্ছে। এর ফলে শ্রমিকদের মধ্যে কোমরব্যথা, হাঁটু ও মেরুদণ্ডজনিত রোগ বেড়ে গেছে। অনেক শ্রমিক অল্প বয়সেই কর্মক্ষমতা হারাচ্ছেন।

তিনি আরও বলেন, আসন্ন ২০২৬ মৌসুমে আলুর বস্তার ওজন ৮০ থেকে ১০০ কেজিতে বাড়ানো হবে না-এমন কোনো নিশ্চয়তা নেই। মার্চের প্রথম সপ্তাহ থেকে হিমাগারে আলু সংরক্ষণ ও লোড-আনলোড কার্যক্রম শুরু হওয়ার কথা। এর আগে হাইকোর্টের নির্দেশনা বাস্তবায়ন না হলে শ্রমিকদের স্বাস্থ্যঝুঁকি আরও বাড়বে।

সংবাদ সম্মেলনে সাংগঠনিক সম্পাদক মুকুল হোসেন বলেন, হাইকোর্টের রুল বাস্তবায়নের দাবিতে হিমাগারে অ্যাসোসিয়েশন, কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরে লিখিতভাবে জানানো হলেও কার্যকর কোনো উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না। তিনি বলেন, আমরা আইন মেনে কাজ করতে চাই। আইন অনুযায়ী ৫০ কেজির বেশি বহন না করাই আমাদের একমাত্র দাবি।

মানববন্ধনে অংশ নেওয়া শ্রমিকরা বলেন, কুলি শ্রমিকরা দৈনিক মজুরির ওপর নির্ভরশীল। অতিরিক্ত ভার বহনের কারণে অসুস্থ হলে চিকিৎসা ব্যয় বহন করা তাদের পক্ষে কঠিন হয়ে পড়ে। অনেক ক্ষেত্রে দীর্ঘদিন কাজ করতে না পারায় পরিবার নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করতে হয়।

কর্মসূচিতে ইউনিয়নের সহ-সভাপতি সেলিম উদ্দিন, সহ-সভাপতি শরিফুল ইসলামসহ সংগঠনের অন্যান্য নেতাকর্মী ও সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। 

Read more — উত্তরাঞ্চল
Home