
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রাজশাহী-৫ (দুর্গাপুর–পুঠিয়া) আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী অধ্যাপক নজরুল ইসলাম মন্ডলের বিরুদ্ধে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে শোকজ নোটিশ জারি করেছেন আদালত। অভিযোগের প্রেক্ষিতে তাকে স্বশরীরে উপস্থিত হয়ে লিখিত ও মৌখিক ব্যাখ্যা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়।
পুঠিয়া উপজেলার বাসিন্দা জাফর ইকবাল গত ১৩ জানুয়ারি সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও পুঠিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন। অভিযোগটি আমলে নিয়ে নির্বাচনী অনুসন্ধান ও বিচারিক দায়িত্বে থাকা রাজশাহী জেলা ও দায়রা জজ আদালতের সিভিল জজ মো. মামুন অধ্যাপক নজরুল ইসলাম মন্ডলকে শোকজ নোটিশ প্রদান করেন।
নোটিশ অনুযায়ী ১৮ জানুয়ারি দুপুরে অধ্যাপক নজরুল ইসলাম মন্ডল সংশ্লিষ্ট আদালতে হাজির হয়ে আইনজীবীর মাধ্যমে লিখিত ও মৌখিকভাবে নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করেন। শুনানি শেষে আদালত তার ব্যাখ্যা গ্রহণ করলেও এ বিষয়ে চূড়ান্ত আদেশ নির্বাচন কমিশনের মতামত বা নির্দেশনা অনুযায়ী পরে দেওয়া হবে বলে আদালত সূত্র জানিয়েছে।
অভিযোগে বলা হয়, তফসিল ঘোষণার পর নির্বাচনী এলাকায় মিছিল ও শোডাউন, পোস্টার ও অনলাইন প্রচারণা, ধর্মীয় অনুষ্ঠানের নামে ভোট প্রার্থনা, রঙিন লিফলেট বিতরণ এবং প্রলোভন দেখিয়ে ভোট চাওয়ার মতো একাধিক আচরণবিধি লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটেছে।
এছাড়া গত ২৯ ডিসেম্বর মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার সময় শতাধিক কর্মী-সমর্থক নিয়ে পুঠিয়া ও দুর্গাপুর উপজেলা সদরে মিছিল বের করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়। নির্বাচনী এলাকায় এখনো বিভিন্ন স্থানে ধানের শীষ প্রতীকের নিয়মবহির্ভূত পোস্টার টাঙানো রয়েছে বলেও দাবি করা হয়।
অভিযোগকারী জাফর ইকবাল জানান, বিএনপির সদ্য প্রয়াত চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মিলাদ মাহফিলের নামে ভোট চাওয়া, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ধারাবাহিক প্রচারণা এবং ‘ফ্যামিলি কার্ড’-এর নামে প্রলোভন দেখানোর অভিযোগের পক্ষে ছবি ও অনলাইন লিংকসহ প্রমাণ আদালতে দাখিল করা হয়েছে। তিনি বলেন, সুষ্ঠু নির্বাচনের স্বার্থে এসব অভিযোগের আইনানুগ প্রতিকার চান তারা।
সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও পুঠিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লিয়াকত সালমান জানান, অভিযোগের শুনানি ১৮ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হয়েছে। এর বেশি বিস্তারিত তিনি জানেন না। তবে এর আগে ধানের শীষ প্রতীক টাঙানোর বিষয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল বলে তিনি উল্লেখ করেন।
অন্যদিকে অধ্যাপক নজরুল ইসলাম মন্ডলের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, তিনি কোনো নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন করেননি এবং নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা অনুসরণ করেই তার নির্বাচনী কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।

