
রংপুরের তারাগঞ্জে গণপিটুনিতে রূপলাল দাস (৪০) ও প্রদীপ লাল (৩৫) হত্যার ঘটনায় জড়িত অভিযোগে উপজেলা এবি পার্টির সদস্য সচিব পল্লী চিকিৎসক ইউনূস আলীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
শনিবার (১৭ জানুয়ারি) সান্ধ্যায় উপজেলার বুড়ির হাট নিজ চেম্বার থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
এ নিয়ে ওই রুপলাল হত্যা মামলায় মোট ১১ জনকে গ্রেপ্তার করা হলো। গ্রেপ্তার ইউনূস আলী তারাগঞ্জ উপজেলার সয়ার ইউনিয়নের বুড়িরহাট দামোদরপুর গ্রামের বাসিন্দা।
এর আগে গত ১০ আগস্ট রূপলালের স্ত্রী ভারতী রানী বাদী হয়ে তারাগঞ্জ থানায় একটি মামলা করেন। মামলায় অজ্ঞাতপরিচয় সাত শতাধিক ব্যক্তিকে আসামি করা হয়। পরে ভিডিও ফুটেজ বিশ্লেষণ ও স্থানীয় লোকজনের তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ ১১ জনকে গ্রেপ্তার করে।
তারাগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রুহুল আমীন বলেন, ভিডিও বিশ্লেষণ করে ওই পল্লী চিকিৎসকের সংশ্লিষ্ট থাকার কথা প্রমাণিত হয়েছে। ঘটনার পর থেকে তিনি পলাতক ছিলেন । তথ্য প্রমাণের ভিত্তিতে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্য আসামিদের ধরতে অভিযান চলছে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের ৯ আগস্ট রাত সাড়ে আটটার দিকে মিঠাপুকুরের ছরান বালুয়া এলাকা থেকে ভাগনির স্বামী প্রদীপলালকে নিয়ে ভ্যানে বাড়ি চালিয়ে ফিরছিলেন রূপলাল দাস। পথে সয়ার ইউনিয়নের বুড়িরহাট বটতলা মোড়ে তাদের গতি রোধ করে জিজ্ঞাসাবাদ করেন স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা। একপর্যায়ে প্রদীপের কাছে থাকা কালো ব্যাগ তল্লাশি করে একটি পানীয় বোতল ও ওষুধ পাওয়া যায়। ঢাকনা খোলার পর দুর্গন্ধে কয়েকজন অসুস্থ হয়ে পড়লে উত্তেজিত জনতা রূপলাল ও প্রদীপ লালকে স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ের মাঠে নিয়ে পিটুনি দেন। একপর্যায়ে তাদের উদ্ধার করে তারাগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে রূপলালকে মৃত ঘোষণা করেন কর্তব্যরত চিকিৎসক। অন্যদিকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় পরদিন ভোরে প্রদীপ লালের মৃত্যু হয়।

