উত্তরা প্রতিদিন
ঢাকা

শীতে রাজশাহীর হাসপাতালগুলোতে দ্বিগুণ রোগীর চাপ

উত্তরা প্রতিদিন উত্তরা প্রতিবেদক ৮ জানুয়ারি ২০২৬, ০৫:৪৮ অপরাহ্ণ
শীতে রাজশাহীর হাসপাতালগুলোতে দ্বিগুণ রোগীর চাপ

শীতের তীব্রতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে রাজশাহী বিভাগজুড়ে সরকারি হাসপাতালগুলোতে রোগীর চাপ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। গত এক সপ্তাহে হাসপাতালে ভর্তি ও বহির্বিভাগে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীর সংখ্যা দ্বিগুণেরও বেশি হয়েছে। এর মধ্যে অধিকাংশই শীতজনিত রোগে আক্রান্ত শিশু ও বয়স্ক মানুষ। অতিরিক্ত রোগীর চাপ সামলাতে গিয়ে চিকিৎসক, নার্স ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে হিমশিম খেতে হচ্ছে।

শীতের তীব্রতায় সবচেয়ে বিপর্যস্ত অবস্থায় রয়েছে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতাল। হাসপাতালটির শয্যা সংখ্যা ১ হাজার ২০০ হলেও বর্তমানে সেখানে চিকিৎসাধীন আছেন ২ হাজার ৫৩৭ জন রোগী। গত এক সপ্তাহে ভর্তি ও বহির্বিভাগ—দুই জায়গাতেই রোগীর সংখ্যা দ্বিগুণের বেশি বেড়েছে। শ্বাসকষ্ট, নিউমোনিয়া, কাশি, সর্দি ও ডায়রিয়াসহ নানা ঠাণ্ডাজনিত জটিলতা নিয়ে হাসপাতালে ভিড় করছেন রোগীরা।

হাসপাতাল সূত্র জানায়, রামেকের শয্যা সংখ্যা ৫০০ থেকে বাড়িয়ে ১ হাজার ২০০ করা হলেও জনবল বাড়ানো হয়নি। ফলে শয্যা সংকটের পাশাপাশি জনবল ঘাটতিতে সেবা কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

রামেক হাসপাতালের মুখপাত্র ও জরুরি বিভাগের ইনচার্জ ডা. শংকর কুমার বিশ্বাস বলেন, ঠাণ্ডাজনিত কারণে আসা রোগীর অধিকাংশই শিশু ও বয়স্ক। প্রতিদিন নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত শিশু ও শ্বাসকষ্টে ভোগা বয়স্ক রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। অনেক রোগী দেরিতে চিকিৎসা নিতে আসায় অবস্থা জটিল হয়ে যাচ্ছে।

শৈত্যপ্রবাহ দীর্ঘ হলে রোগীর সংখ্যা আরও বাড়তে পারে জানিয়ে তিনি আরও বলেন, শিশু, বয়স্ক, খোলা আকাশের নিচে কাজ করা শ্রমিক ও নিম্নআয়ের মানুষদের গরম কাপড় ব্যবহার, নিরাপদ পানি পান এবং অসুস্থ হলে দ্রুত চিকিৎসা নিতে হবে।

নওগাঁর মহাদেবপুর উপজেলার নাজিপুর থেকে চিকিৎসা নিতে আসা মো. স্বাধীন বলেন, তার অসুস্থ মাকে ভর্তি করানো হলেও কোনো শয্যা পাওয়া যায়নি। বাধ্য হয়ে ৩৩ নম্বর ওয়ার্ডের সিঁড়ির পাশে রেখে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে, যা রোগীর কষ্ট আরও বাড়িয়েছে।

রামেকের শিশু বিভাগে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ। ৫৩ শয্যার বিপরীতে সেখানে বর্তমানে ১৪৩ জন শিশু চিকিৎসাধীন রয়েছে। শিশু বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. শহীদা ইয়াসমিন বলেন, ভর্তি হওয়া শিশুদের বেশিরভাগই সর্দি, ব্রঙ্কিওলাইটিস, নিউমোনিয়া ও ডায়রিয়ায় আক্রান্ত। ঠাণ্ডা আবহাওয়ার কারণে শিশুরা দ্রুত অসুস্থ হয়ে পড়ছে।

একই ধরনের চিত্র দেখা যাচ্ছে রাজশাহী বিভাগের অন্যান্য জেলা হাসপাতালগুলোতেও। বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের অতিরিক্ত পরিচালক ডা. মো. নজমুল হক জানান, ৫০০ শয্যার হাসপাতালে বর্তমানে ১ হাজার ৮০০ জনের বেশি রোগী চিকিৎসাধীন। শয্যা সংকটের কারণে অনেক রোগীকে মেঝেতে রাখতে হচ্ছে।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা হাসপাতালের সুপারিনটেনডেন্ট ডা. মো. মাসুদ পারভেজ বলেন, ২৫০ শয্যার হাসপাতালে বর্তমানে ৩৫০ থেকে ৩৭৫ জন রোগী ভর্তি রয়েছেন। হাসপাতাল আপগ্রেড হলেও প্রয়োজনীয় চিকিৎসক ও নার্স নেই। মাত্র ৫০ শতাংশ জনবল দিয়ে সেবা চালাতে হচ্ছে।

নওগাঁ সদর হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত সুপারিনটেনডেন্ট ডা. মো. মীর সুফিয়ান জানান, ১০০ শয্যার বিপরীতে সেখানে ২২২ জন রোগী ভর্তি আছেন। শিশুদের পাশাপাশি ডায়াবেটিসজনিত রোগীর সংখ্যাও বাড়ছে।

এদিকে আবহাওয়া অফিস জানায়, শৈত্যপ্রবাহ পরিস্থিতি এখনও পুরোপুরি কাটেনি। গত বুধবার সকাল ৬টায় নওগাঁর বদলগাছিতে চলতি মৌসুমে দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ৬ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। একই সময়ে রাজশাহীতে তাপমাত্রা ছিল ৭ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এর আগের দিন রাজশাহীতে মৌসুমের সর্বনিম্ন ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড হয়।

রাজশাহী আবহাওয়া অধিদপ্তরের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রহিদুল ইসলাম জানান, ৮ থেকে ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রাকে মৃদু, ৬ থেকে ৮ ডিগ্রিকে মাঝারি এবং ৬ ডিগ্রির নিচে নামলে তীব্র শৈত্যপ্রবাহ ধরা হয়। রাজশাহীতে বর্তমানে মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ চলছে, যা আরও কয়েক দিন অব্যাহত থাকতে পারে। তবে একদিনের ব্যবধানে তাপমাত্রা বেড়েছে রাজশাহীতে। বৃহস্পতিবার রাজশাহীতে সর্বনিম্ন ৯ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে।

 

Read more — উত্তরাঞ্চল
Home