
এলপিজি ডিলারদের ধর্মঘটে রাজশাহীতে দেখা দিয়েছে তীব্র গ্যাস সংকট। দেশব্যাপী অভিযান ও জরিমানার প্রতিবাদে সারাদেশের মতো রাজশাহীতেও এলপিজি সিলিন্ডার গ্যাসের বিক্রি ও সরবরাহ বন্ধ রেখেছেন ডিলার ও ব্যবসায়ীরা। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন নগরবাসীসহ হোটেল-রেস্তোরাঁ ও ক্ষুদ্র ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত মানুষ।
আজ বৃহস্পতিবার সকালে রাজশাহী নগরীর বিভিন্ন এলপিজি ডিপো ও খুচরা বিক্রেতাদের দোকান ঘুরে দেখা গেছে, অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানই বন্ধ। কোথাও কোথাও তালা ঝুলতে দেখা যায়।
এলপিজি ব্যবসায়ীরা জানান, দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত সারাদেশে সিলিন্ডার গ্যাসের সরবরাহ বন্ধ থাকবে। এতে বাসাবাড়িতে রান্নার কাজ ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি হোটেল-রেস্তোরাঁসহ নানা ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান কার্যত অচল হয়ে পড়েছে।
নগরীর উপশহর এলাকার গৃহিণী সুরাইয়া শারমিন বলেন, হঠাৎ করে গ্যাস না পেয়ে বিপাকে পড়েছি। কেননা, বাসায় সিলিন্ডার ছাড়া রান্নার কোনো বিকল্প নেই। কিন্তু দোকানে এসে সব বন্ধ দেখে দিশেহারা হয়ে পড়েছি।
শিরোইল এলাকার হোটেল ব্যবসায়ী আবদুল মালেক জানান, গ্যাস না থাকায় সকাল থেকেই তার হোটেল বন্ধ রাখতে হয়েছে। এতে প্রতিদিন হাজার হাজার টাকা ক্ষতি হচ্ছে। দ্রুত সমাধান না হলে ছোট ব্যবসায়ীদের টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়বে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।
একই কথা জানান ষষ্টিতলা এলাকার বাসিন্দা সাইফুল ইসলাম। তিনি বলেন, অফিসে যাওয়ার আগে রান্না করতে গিয়ে গ্যাস শেষ হয়ে যায়। পরে কোথাও গ্যাস না পেয়ে সকাল থেকেই ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছে। হঠাৎ করে সরবরাহ বন্ধে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগই সবচেয়ে বেশি হচ্ছে।
কাজিহাটা এলাকার চা দোকানি রহিম উদ্দিন বলেন, গ্যাসের ওপর নির্ভর করেই তার দোকানের সব কাজ চলে। সকাল থেকে দোকান বন্ধ রাখতে হওয়ায় পুরো দিনের আয় বন্ধ হয়ে গেছে।
রাজশাহী এলপিজি ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক ফারুক হোসেন কচি বলেন, কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী রাজশাহীতে সব ধরনের গ্যাস ডেলিভারি বন্ধ রয়েছে। কোম্পানি থেকে গ্যাস সরবরাহ না পাওয়ায় তারা বিক্রি করতে পারছেন না।
তিনি আরও জানান, মালিক সমিতির সভায় ধর্মঘট প্রত্যাহার হলেও বৃহস্পতিবার রাজশাহীতে গ্যাস সরবরাহ দেওয়া সম্ভব হবে না। কারণ কোম্পানি থেকে গ্যাস না এলে সরবরাহ করা যাবে না। রাজশাহীতে প্রতিদিন প্রায় ৫০ হাজার সিলিন্ডার গ্যাসের চাহিদা থাকলেও বর্তমানে একটিও মজুত নেই।
উল্লেখ্য, গত বুধবার সন্ধ্যায় সারাদেশের পরিবেশক ও খুচরা বিক্রেতাদের উদ্দেশে নোটিশ জারি করে এলপি গ্যাস ব্যবসায়ী সমবায় সমিতি। এর আগে কমিশন বৃদ্ধি ও জরিমানা প্রত্যাহারসহ ছয় দফা দাবিতে ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দেয় সংগঠনটি। নোটিশে ৮ জানুয়ারি থেকে দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত সারাদেশে এলপি গ্যাস বিপণন ও সরবরাহ বন্ধ রাখার ঘোষণা দেওয়া হয়।

