
রাজশাহীর তানোর উপজেলায় পরিত্যক্ত গভীর নলকূপের টেস্ট বোরহোলে পড়ে শিশু সাজিদের মৃত্যুর ঘটনার পর রাজশাহীতে আরও ৩৯টি খোলা ও পরিত্যক্ত বোরহোল শনাক্ত হয়েছে। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এসব বোরহোলকে জননিরাপত্তার জন্য মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
শিশু সাজিদের মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনার পর রাজশাহী বিভাগীয় প্রশাসনের নির্দেশে বিভাগের আট জেলার জেলা প্রশাসকদের (ডিসি) কাছ থেকে স্থাপিত ও পরিত্যক্ত গভীর নলকূপ এবং টেস্ট বোরহোলের তথ্য সংগ্রহ করে প্রতিবেদন নেওয়া হয়। সম্প্রতি ওই প্রতিবেদনের ভিত্তিতেই এসব তথ্য পাওয়া গেছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, রাজশাহী বিভাগে মোট ৬৭টি উপজেলার ৫৬৬টি ইউনিয়ন রয়েছে। এর মধ্যে ৪৩৫টি ইউনিয়ন গভীর নলকূপের আওতাভুক্ত। এসব ইউনিয়নে মোট ১১ হাজার ৩৭১টি গভীর নলকূপ রয়েছে। এর মধ্যে রাজশাহী জেলায় রয়েছে ৬১৭টি গভীর নলকূপ। এছাড়া নাটোরে ৩১৩টি, নওগাঁয় ৪ হাজার ৬৩৪টি, চাঁপাইনবাবগঞ্জে ১ হাজার ৬১২টি, পাবনায় ২১৫টি, সিরাজগঞ্জে ৬২৩টি, বগুড়ায় ২ হাজার ৪৬৯টি এবং জয়পুরহাটে ৮৮৫টি গভীর নলকূপ রয়েছে। এসব জেলার মধ্যে শুধুমাত্র রাজশাহী জেলাতেই ৩৯টি খোলা ও পরিত্যক্ত বোরহোল শনাক্ত হয়েছে। অন্য জেলাগুলোতে এ ধরনের পরিত্যক্ত বোরহোলের তথ্য পাওয়া যায়নি।
এর আগে গত ১০ ডিসেম্বর তানোর উপজেলায় একটি পরিত্যক্ত টেস্ট বোরহোলে পড়ে দুই বছর বয়সী শিশু সাজিদের মৃত্যু হয়। ওই ঘটনার দুই দিনের মধ্যেই বিভাগীয় প্রশাসন তদন্ত ও বিস্তারিত প্রতিবেদন তলব করে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সেচের পানির সন্ধানে গত বছর বেসরকারিভাবে একাধিক টেস্ট বোরহোল খনন করা হয়েছিল। পরে সেগুলো ব্যর্থ হওয়ায় অনেক বোরহোল সঠিকভাবে বন্ধ না করে মাটি ও খড় দিয়ে ঢেকে রাখা হয়। বাইরে থেকে এগুলো বোঝা না যাওয়ায় শিশু ও পথচারীদের জন্য মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।
প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, শনাক্ত ৩৯টি বোরহোলের অধিকাংশই বসতবাড়ি এলাকায় অবস্থিত। কিছু বোরহোল রয়েছে কৃষিজমিতে এবং শিশু ও পথচারীদের চলাচলের পথের পাশে। সেচ ও ভূগর্ভস্থ পানির পরীক্ষা কাজে এসব বোরহোল খনন করা হলেও পরবর্তীতে পরিত্যক্ত অবস্থায় নিরাপদভাবে সিল করা হয়নি।
রাজশাহী বিভাগের অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার মো. রেজাউল আলম সরকার বলেন, সব খোলা বোরহোল দ্রুত সিল করার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রাজশাহী জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, ইতোমধ্যে শনাক্ত সব পরিত্যক্ত গভীর নলকূপ বন্ধ করা হয়েছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে কঠোর নজরদারি অব্যাহত রাখা হবে বলেও জানান তিনি।

