
রাজশাহীতে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) কমিটিকে ঘিরে সৃষ্টি হওয়া বিশৃঙ্খলার দায়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের পাঁচ নেতাকে শোকজ নোটিশ দেওয়া হয়েছে। সংগঠনটির কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক শাহাদাত হোসেন আজ রোববার এ কারণ দর্শানোর নোটিশ জারি করেন।
শোকজপ্রাপ্তরা হলেন—রাজশাহী জেলা কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক মোতালেব হোসেন, মহানগরের যুগ্ম আহ্বায়ক মিফতাহুল জান্নাত বিভা ও সুমাইয়া আক্তার, যুগ্ম সদস্যসচিব নাহিদুজ্জামান রাজ এবং সদস্য শুয়াইব আহমেদ।
নোটিশে বলা হয়, সাম্প্রতিক সময়ে রাজশাহীতে একটি রাজনৈতিক দলের কমিটিকে কেন্দ্র করে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অভিযোগ তাদের বিরুদ্ধে উত্থাপিত হয়েছে, যা সংগঠনের ভাবমূর্তিকে ক্ষুণ্ন করেছে। এ পরিস্থিতিতে কেন তাদের বিরুদ্ধে স্থায়ী সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে না—তা ২৪ ঘণ্টার মধ্যে লিখিতভাবে জানাতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি নোটিশপ্রাপ্তদের আগামী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সব সাংগঠনিক কার্যক্রম থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়।
গত ২৯ নভেম্বর এনসিপির রাজশাহী জেলা আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণার পর থেকেই বিরোধ শুরু হয়। নতুন কমিটিতে আগের জেলা সমন্বয় কমিটির যুগ্ম সমন্বয়কারী সাইফুল ইসলামকে আহ্বায়ক করা হয়। তাকে ‘আওয়ামী দোসর’ আখ্যায়িত করে তার পদত্যাগের দাবি তোলে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের একটি অংশ, যারা এনসিপির রাজশাহী মহানগর আহ্বায়ক মোবাশ্বের আলীর অনুসারী। এ নিয়েই উত্তেজনা চরমে পৌঁছায় যখন গত শুক্রবার রাতে জেলা কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক মোতালেব হোসেন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে এনসিপির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলমকে রাজশাহীতে ‘অবাঞ্ছিত’ ঘোষণা করেন। পরে তিনি আরেকটি স্ট্যাটাসে দুঃখ প্রকাশ করলেও বিরোধ প্রশমিত হয়নি। পরদিনই পাঁচ নেতাকে শোকজ নোটিশ দেওয়া হয়।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মহানগরের যুগ্ম আহ্বায়ক সুমাইয়া আক্তার বলেন, 'কিছুক্ষণ আগেই নোটিশ পেয়েছি। উল্টো তাদেরই আমাদের কাছে কারণ দর্শানো উচিত। শোকজ নিয়ে আমরা ভাবছি না।'
জবাব দেবেন কি না—এ প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, জবাব দিতে চাই না। তারপরও আমরা নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেব।

