
রাজশাহীর পবা উপজেলার আলাইবিদিরপুরে অবস্থিত ‘সার্ভিস সেন্টার ফর এলডারলি পিপল’ (স্কেপ)–এ প্রথমবারের মতো প্রবীণদের নিয়ে আনন্দমেলা ও পিকনিক অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার দিনব্যাপী আয়োজিত এই মিলনমেলা প্রবীণদের জীবনে এনে দেয় নতুন আনন্দ, প্রাণচাঞ্চল্য এবং সামাজিক সৌহার্দ্যের উষ্ণ স্পর্শ।
সবুজে ঘেরা সাড়ে সাত বিঘা আয়তনের স্কেপের স্থায়ী বৃদ্ধনিবাস কেন্দ্রের পুরো ক্যাম্পাসে সকাল থেকেই ছিল উৎসবের আমেজ। ‘বুড়ো-বুড়িগণের সেবা কেন্দ্র’ হিসেবে পরিচিত প্রতিষ্ঠানটির এই আয়োজনকে ঘিরে সমাজকর্মী, চিকিৎসক, শিক্ষাবিদসহ বিভিন্ন পেশার মানুষ অংশ নেন। প্রবীণদের সঙ্গে তাদের ঘনিষ্ঠ আড্ডা ও আন্তরিক মেলামেশা পুরো অনুষ্ঠানকে আরও প্রাণবন্ত করে তোলে।
অনুষ্ঠানের আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন চিকিৎসক ডা. এস এম এ মান্নান। বক্তব্য দেন প্রতিষ্ঠানের সভানেত্রী শুভ্রা রানী চন্দ, রাজশাহী সরকারি মহিলা কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ প্রফেসর ড. জুবায়দা আয়েশা সিদ্দীকা, ডা. মুসা প্রমুখ। বক্তারা বলেন, প্রবীণ জনগোষ্ঠী দেশের সামাজিক কাঠামোর গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ। তাঁদের অভিজ্ঞতা ও প্রজ্ঞা সমাজকে সমৃদ্ধ করে। প্রবীণদের অধিকার, স্বাস্থ্যসেবা, সামাজিক নিরাপত্তা এবং সামগ্রিক জীবনমান উন্নয়নে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন তাঁরা।
মিলনমেলায় আরও বক্তব্য দেন—ডা. শিখা বিশ্বাস, ডা. মুসা, আবুল বাশার, ড. জিনাত আরা, লুৎফর রহমান, আব্দুল মালেক, লায়ন খলিলুর রহমান, কৃষিবিদ মনিরুজ্জামান বাবুল, শবনম মুস্তারী মমি প্রমুখ।
আয়োজকরা জানান, প্রবীণদের মানসিক সুস্থতা, সামাজিক সম্পৃক্ততা ও জীবন সম্পর্কে ইতিবাচকতা বৃদ্ধিতে এ ধরনের আয়োজন নিয়মিত করবে প্রতিষ্ঠান। প্রবীণদের মুখে হাসি ফোটাতে এবং তাঁদের মর্যাদাপূর্ণ জীবন নিশ্চিত করতে সমাজের সব স্তরের মানুষের অংশগ্রহণ জরুরি বলেও মন্তব্য করেন তাঁরা।
দিনব্যাপী উৎসব, গান-বাজনা, গল্প ও একত্রতার আনন্দে প্রবীণদের প্রথম এই মিলনমেলা হয়ে ওঠে স্মরণীয়—যা তাঁদের জীবনে নতুন উদ্দীপনা ও বর্ণিলতা যোগ করবে বলে আশা আয়োজকদের।

