উত্তরা প্রতিদিন
ঢাকা

রাজশাহীতে বিচারকের ছেলের মৃত্যু অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে : ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসক

উত্তরা প্রতিদিন উত্তরা প্রতিবেদক ১৪ নভেম্বর ২০২৫, ০১:১৯ অপরাহ্ণ
রাজশাহীতে বিচারকের ছেলের মৃত্যু অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে : ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসক
ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগের প্রধান সহযোগী অধ্যাপক কফিল উদ্দিন এবং প্রভাষক শারমিন সোবহান কাবেরী

রাজশাহী মহানগর দায়রা জজ আদালতের বিচারক আব্দুর রহমানের ছেলে তাওসিফ রহমান সুমন (১৬) অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে মারা গেছেন বলে প্রাথমিক ময়নাতদন্তে জানিয়েছেন রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের ফরেনসিক বিশেষজ্ঞরা। আজ শুক্রবার বেলা ১১টার দিকে ময়নাতদন্ত শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান চিকিৎসকরা। তারা বলেন, ধারালো ও চোখা অস্ত্রের আঘাতে শরীরের তিনটি স্থানে রক্তনালি ছিঁড়ে যাওয়ায় অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ ঘটে। এতে তার মৃত্যু হয়।

এর আগে, সকাল পৌনে ১০টার দিকে হাসপাতালের মর্গে তাওসিফের ময়নাতদন্ত শুরু হলে পুরো প্রক্রিয়াটি শেষ হতে প্রায় ৩০ মিনিট সময় লাগে। ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগের প্রধান সহযোগী অধ্যাপক কফিল উদ্দিন এবং প্রভাষক শারমিন সোবহান কাবেরী যৌথভাবে এই ময়নাতদন্ত পরিচালনা করেন। এসময় মর্গের বাইরে অপেক্ষায় ছিলেন নিহত শিক্ষার্থীর বাবা বিচারক আব্দুর রহমান। ময়নাতদন্ত শেষে অধ্যাপক কফিল উদ্দিন তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এবং পরবর্তীতে সাংবাদিকদেরও ব্রিফ করেন।

অধ্যাপক কফিল উদ্দিন জানান, তাওসিফের ডান ঊরু, ডান পা ও বাম বাহুতে ধারালো অস্ত্রের আঘাত পাওয়া গেছে। এসব স্থানে গুরুত্বপূর্ণ রক্তনালি কেটে যাওয়ায় বাহ্যিক ও অভ্যন্তরীণ রক্তক্ষরণ ঘটে। এই অতিরিক্ত রক্তক্ষরণই তার মৃত্যুর প্রধান কারণ।

পুলিশের সুরতহাল প্রতিবেদনে তাওসিফের গলায় কালশিরার দাগের উল্লেখ থাকলেও  ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসক বলেন, নরম কিছু দিয়ে শ্বাসরোধের চেষ্টা থেকে এমন দাগ তৈরি হতে পারে। তবে এটি মৃত্যুর মূল কারণ নয়। বরং, ধারালো অস্ত্রের আঘাত এবং শ্বাসরোধের চেষ্টা একই সময়ে হয়েছে।

এর আগে বৃহস্পতিবার বিকেলে রাজশাহীর ডাবতলা এলাকায় মহানগর দায়রা জজ আদালতের বিচারক আব্দুর রহমানের ভাড়া বাসায় ঢুকে তার ছেলে নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী তাওশিফ রহমান সুমনকে (১৮) ছুরিকাঘাতে হত্যার ঘটনা ঘটে। একই ঘটনায় বিচারকের স্ত্রী তাসমিন নাহার লুসীও (৪৪) গুরুতর আহত হয়ে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

হামলার ঘটনায় জড়িত সন্দেহে লিমন মিয়া (৩৫) নামে একজনকে ঘটনাস্থল থেকে আটক করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। ঘটনার সময় ধস্তাধস্তিতে আহত হওয়ায় তিনিও চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তিনি গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলার মদোনেরপাড়া গ্রামের হেমায়েত মিয়া সোলায়মান শাহিদের ছেলে। তবে ঘটনার প্রায় ২০ ঘণ্টা পরও শুক্রবার দুপুর ১টা পর্যন্ত থানায় কোনো মামলা দায়ের হয়নি বলে জানা গেছে। 

এদিকে, বিচারক আবদুর রহমানের গ্রামের বাড়ি জামালপুর জেলায়। তিনি পরিবার নিয়ে নগরীর ডাবতলা এলাকায় স্পার্ক ভিউ নামের ওই ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন। তার ছেলে তাওসিফ রহমান সুমনের তাওসিফের মরদেহ দাফনের জন্য নিজ গ্রামের বাড়ি জামালপুরে নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে বলে জানিয়েছেন বিচারক আব্দুর রহমান।

Read more — উত্তরাঞ্চল
Home