
রাজশাহীর পবায় দারিদ্র জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে ৩৯৮টি মুস্তাহিক পরিবারের মাঝে ৪৬ লাখ ৮৫ হাজার টাকার যাকাত তহবিল হস্তান্তর করা হয়েছে। সেন্টার ফর যাকাত ম্যানেজমেন্টের (সিজেডএম) জীবিকা উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় এই সহায়তা প্রদান করা হয়।
আজ শনিবার দুপুরে রাজশাহীর পবা উপজেলার ভেড়াপোড়া এলাকায় নাবিল গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্কের মসজিদে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তহবিল হস্তান্তর করা হয়।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন নাবিল গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজের চেয়ারম্যান জাহান বকস মন্ডল। প্রধান অতিথি ছিলেন নাবিল গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কৃষিবিদ আমিনুল ইসলাম।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে আমিনুল ইসলাম বলেন, “নাবিল গ্রুপ শুধু মুনাফার জন্য ব্যবসা করে না; সামাজিক উন্নয়নেও কাজ করে। ইন্ডাস্ট্রির আশেপাশের গ্রামগুলোর মানুষের জীবনমান উন্নয়নে আমরা দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছি। ২০২৪ সালের মার্চ থেকে সিজেডএম-এর ব্যবস্থাপনায় ৪১১ পরিবারকে স্বাবলম্বী করতে পেরেছি। তারা আমাদের দেওয়া অর্থের চেয়েও ২১ লাখ টাকা বেশি সঞ্চয় করেছে। বর্তমানে প্রকল্পটির পরিমাণ বেড়ে ৩ কোটি ৭০ লাখ টাকায় দাঁড়িয়েছে। ২০২৯ সালের মধ্যে এই বিনিয়োগ ১৫ কোটি টাকায় উন্নীত হবে।”
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন জীবিকা পবা প্রকল্পের প্রোগ্রাম ম্যানেজার আব্দুল ওয়াদুদ। প্রকল্পের কয়েকজন নারী সদস্য নিজেদের সাফল্যের অভিজ্ঞতা শেয়ার করেন, যেখানে জীবিকা প্রকল্পের মাধ্যমে স্বাবলম্বী হওয়ার গল্প উঠে আসে।
সিজেডএম-এর সহকারী মহাব্যবস্থাপক এনামুল হক এবং হেড অব কর্পোরেট অ্যাফেয়ার্স কর্নেল (অব.) মো. জাকারিয়া হোসেন প্রকল্পের সার্বিক কার্যক্রম উপস্থাপন করেন। তারা জানান, প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে সিজেডএম ৭১টি জীবিকা উন্নয়ন প্রকল্পের মাধ্যমে দারিদ্র জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে কাজ করছে। ২০০৮ সাল থেকে এ পর্যন্ত প্রায় ১৭ লাখ মানুষের কাছে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও জীবিকা উন্নয়নের সেবা পৌঁছে দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
প্রকল্পভিত্তিক প্রতিবেদনে জানানো হয়, সিজেডএম খাদ্য, ওষুধ, কম্বল, শিক্ষা সহায়তা, ঘর নির্মাণ, স্বাস্থ্য ক্যাম্প, মাতৃসেবা ও চক্ষু চিকিৎসাসহ নানা মানবিক উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে। এছাড়া গবাদিপশু পালন, কৃষি, ক্ষুদ্র ব্যবসা, মাছ চাষ, হাঁস-মুরগি পালন ও দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ দিয়ে জীবিকা নির্বাহের সুযোগ তৈরি করছে।
সমাপনী বক্তব্যে চেয়ারম্যান জাহান বকস মন্ডল বলেন, “সিজেডএম জীবিকা প্রকল্প শুধু আর্থিক সহায়তা নয়, এটি মানুষের আত্মবিশ্বাস ফিরিয়ে আনছে, নতুন জীবনের স্বপ্ন দেখাচ্ছে। পবা থেকে যে আলোর শিখা জ্বলেছে, তা একদিন সারা দেশে ছড়িয়ে পড়বে।”
অনুষ্ঠান শেষে ১৪টি দলের নেত্রীদের হাতে তহবিলের চেক হস্তান্তর করা হয়।

