
রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও নাটোরে টানা পাঁচ দিন ধরে চলা পরিবহন ধর্মঘট প্রত্যাহার হয়েছে। মালিক–শ্রমিক পক্ষের দ্বি-পাক্ষিক বৈঠকে সমঝোতায় পৌঁছার পর আজ মঙ্গলবার বিকেল ৫টা থেকে রাজশাহী থেকে ঢাকা, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও সিলেটগামী দূরপাল্লার বাস চলাচল শুরু হয়েছে।
এর আগে, বৃহস্পতিবার রাত থেকে মালিকপক্ষ হঠাৎ দূরপাল্লার বাস চলাচল বন্ধের ঘোষণা দেয়। এতে চাঁপাইনবাবগঞ্জ, রাজশাহী, নাটোর থেকে ঢাকাসহ চট্টগ্রাম, সিলেট ও কক্সবাজারগামী পরিবহন যেমন দেশ ট্রাভেলস, ন্যাশনাল ট্রাভেলস, গ্রামীণ ট্রাভেলস, হানিফ, হানিফ কেটিসি পরিবহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এ সময়ে শুধু একতা ট্রান্সপোর্ট ও কিছু লোকাল বাস চলাচল করছিল। সোমবার বেলা ২টার দিকে সমঝোতার মাধ্যমে রাজশাহী-ঢাকা রুটসহ দূরপাল্লার বাস চালুর সিদ্ধান্ত হয়। এরপর বিকেল ৪টা থেকে বাস চলাচল স্বাভাবিক হয়। মালিকরা ধর্মঘট প্রত্যাহার করার পরপরই মাত্র ১৫ মিনিটে হানিফ পরিবহনের দুইটি ও দেশ ট্রাভেলসের একটি বাস রাজশাহী থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়। তবে বিকেল সোয়া ৪টার দিকে শ্রমিকরা হঠাৎ কর্মবিরতি শুরু করলে আবারও বন্ধ হয়ে যায় দূরপাল্লার বাস। মালিক–শ্রমিক পক্ষের দ্বি-পাক্ষিক বৈঠকে সমঝোতায় পৌঁছার পর আজ মঙ্গলবার বিকেল ৫টা থেকে রাজশাহী থেকে ঢাকা, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও সিলেটগামী দূরপাল্লার বাস চলাচল শুরু হয়েছে।
শ্রমিকেরা দাবি তুলেছিলেন, একতা পরিবহনের মতোই সুযোগ-সুবিধা দিতে হবে অথবা তাঁদের সাত দফা দাবি মেনে নিতে হবে। সোমবার রাত সাড়ে ১০টা থেকে ভোররাত পর্যন্ত শিরোইল টার্মিনালে মাথায় কাফনের কাপড় বেঁধে সড়ক অবরোধ করেন তারা।
ধর্মঘট প্রত্যাহারের আগে দেশ ট্রাভেলসের বাসচালক জিয়াউর রহমান বলেন, তাঁদের এখন সাত দফা দাবি। হয় একতা পরিবহনের মতো সুযোগ-সুবিধা দিতে হবে অথবা সাত দফা দাবি মানতে হবে।
শ্রমিকদের সাত দফা দাবি হচ্ছে- চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে চালকের জন্য ২ হাজার ২০০ টাকা, সুপারভাইজার ১ হাজার ২০০ ও হেলপারের (চালকের সহকারী) জন্য ১ হাজার ১০০ টাকা দিতে হবে। রহনপুর ও কানসাট গেলে আরও ১০০ টাকা করে বেশি দিতে হবে। এ ছাড়া এসি বাসের জন্য চালককে ২ হাজার ৫৫০ টাকা, সুপারভাইজার ১ হাজার ৪০০ ও হেলপার পাবেন ১ হাজার ৩০০ টাকা; খোরাকি প্রতি বেলা জনপ্রতি ১৫০ টাকা; মুঠোফোন বিল ৩০ টাকা প্রতি ট্রিপ ও হোটেল বিল ২৫০ টাকা যাওয়া আসাতে; ঈদ বোনাস দিতে হবে; রিজার্ভ বাসের ক্ষেত্রে প্রতি বেলা ২০০ টাকা করে খোরাকি ও প্রতি দিনে ১টি করে বেতন; গাড়ি নাটোর পার হয়ে নষ্ট হলে ফুল বেতন দিতে হবে; ঢাকা গাড়ি রেখে এলে বা গিয়ে নিয়ে আসলে ফুল বেতন দিতে হবে।
সংশ্লিষ্টরা জানান, মঙ্গলবার বিকালে মালিক–শ্রমিকদের দ্বিতীয় দফার বৈঠকে নতুন করে সিদ্ধান্ত হয়—বাসের হেলপারের ভাতা ৫০ টাকা বাড়িয়ে ৭৫০ টাকা করা হয়েছে, পারভাইজারের ভাতা ১০০ টাকা বাড়িয়ে ৯০০ টাকা ও চালকের ভাতা বহাল থাকে পূর্বনির্ধারিত ১,৭৫০ টাকা। এছাড়া, খাবার বিলও ২১০ টাকা থেকে ৩০০ টাকায় উন্নীত করা হয়েছে।
উত্তরবঙ্গ বাস মালিক সমিতির মহাসচিব নজরুল ইসলাম হেলাল জানান, “সমঝোতার পর শ্রমিকরা বাস চালাতে রাজি হয়েছেন। বিকেল ৫টা থেকে দূরপাল্লার বাস চলাচল স্বাভাবিক হয়েছে।”
এর আগে, গত ৭ সেপ্টেম্বর বেতন-ভাতা বৃদ্ধির দাবিতে রাজশাহী, নাটোর ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে দূরপাল্লার বাস চলাচল বন্ধ করে দেন শ্রমিকেরা। দুই দিন পর মালিকপক্ষের আশ্বাসে বাস চালু হলেও, প্রত্যাশিত বেতন-ভাতা না পাওয়ায় ২২ সেপ্টেম্বর ফের কর্মবিরতি শুরু করেন তাঁরা। ২৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত একতা ট্রান্সপোর্ট ছাড়া অন্য কোনো দূরপাল্লার বাস চলেনি। পরে বেতন বাড়ানো হলেও শ্রমিক-মালিক দ্বন্দ্ব নিরসন হয়নি। ২৫ সেপ্টেম্বর রাতে শ্রমিকরা খোরাকি ভাতার টাকা নিয়ে ঢাকাগামী বাস কাউন্টারের ব্যবস্থাপকদের সঙ্গে শ্রমিকদের বাগবিতণ্ডা হয়। এর জের ধরেই ওই রাত থেকে মঙ্গলবার বিকাল পর্যন্ত বাস চলাচল বন্ধ ছিল।
ধর্মঘটের কারণে পাঁচদিন ধরে যাত্রীরা দুর্ভোগ পোহালেও, শেষ পর্যন্ত ধর্মঘট প্রত্যাহারে স্বস্তি ফিরেছে। তবে যাত্রীরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছেন, শ্রমিক–মালিক দ্বন্দ্বের বলি হয়ে প্রতিবার সাধারণ মানুষকে অযাচিত ভোগান্তি সহ্য করতে হচ্ছে।

