
রাজশাহীর সার ডিলাররা বর্তমান সার নীতিমালা বহাল রাখার দাবি জানিয়েছেন। অন্যথায় কৃষক ও ডিলার উভয়েই সংকটে পড়বেন বলে আশঙ্কা করছেন তারা। আজ সোমবার দুপুরে রাজশাহী জেলা স্টেডিয়াম মার্কেটে বাংলাদেশ ফার্টিলাইজার এসোসিয়েশনের (বিএফএ) জেলা ইউনিটের উদ্যোগে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে জেলা ইউনিটের সাধারণ সম্পাদক রবিউল ইসলাম লিখিত বক্তব্যে পাঁচ দফা দাবি উপস্থাপন করেন। দাবিগুলো হলো- পূর্বের নিয়োগকৃত বিসিআইসি সার ডিলার বহাল রাখা, বিক্রয় কমিশন/লভ্যাংশ বৃদ্ধি করা (বর্তমানে ১০০ টাকা থেকে ২০০ টাকা), সরকার নির্ধারিত মূল্যে বিক্রয় নিশ্চিত করা, ব্যক্তি পর্যায়ে দায়ভার রাখা—যদি একই পরিবারে পৃথক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থাকে এবং প্রয়োজনীয় দলিল থাকে, তবে ডিলারশীপ বহাল রাখা, উৎসে কর নির্ধারণ না করা।
রবিউল ইসলাম বলেন, রাজশাহীর ৮৬টি ইউনিয়ন ও পৌরসভার মধ্যে বিসিআইসি সার ডিলার ৮৯ জন এবং বিএডিসি ডিলার ১৩১ জন। ২০০৯ সালের নীতিমালা অনুযায়ী প্রতিটি ইউনিয়নে একজন করে সার ডিলার নিয়োগের বিধান থাকলেও, বর্তমানে নিয়োজিত বিসিআইসি ডিলাররা বিগত ৩০ বছর ধরে সুনামের সঙ্গে সার সরবরাহ করে আসছেন।
তিনি আরও বলেন, ১৯৯৬ সাল থেকে বিক্রয়ে কমিশন বৃদ্ধি করা হয়নি। জ্বালানি তেল, গোডাউন ভাড়া, কর্মচারী বেতন ও অন্যান্য খরচ বেড়েছে, তাই কমিশন ১০০ টাকার পরিবর্তে ২০০ টাকা করার দাবি জরুরি।
ডিলাররা সব সময় সরকার নির্ধারিত মূল্যের নিচে সার বিক্রি করেছেন। উদাহরণস্বরূপ, ইউরিয়ার মাঠ পর্যায়ের বিক্রয় মূল্য ১৩১০-১৩২০ টাকা, যেখানে সরকার নির্ধারিত মূল্য ১৩৫০ টাকা। তিনি বলেন, ডিলারদের ব্যাংক ঋণ, অবিক্রিত মাল এবং দীর্ঘ ব্যবসায়িক দায়ভার রয়েছে। বিদ্যমান নীতিমালা না থাকলে সারের বাজার অস্থিতিশীল হবে এবং স্থানীয় পর্যায়ে মূল্য বৃদ্ধি পাবে।
সংবাদ সম্মেলনে রাজশাহী জেলা বিএফএ’র সভাপতি মো. আবুল কালামসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ এবং সার ডিলাররা উপস্থিত ছিলেন।

