উত্তরা প্রতিদিন
ঢাকা

এলজিইডির ১৯ কোটির কাজ শেষ না হতেই ধস

সিরাজগঞ্জ
উত্তরা প্রতিদিন উত্তরা ডেস্ক ২২ আগস্ট ২০২৬, ০১:১৩ অপরাহ্ণ
এলজিইডির ১৯ কোটির কাজ শেষ না হতেই ধস

সিরাজগঞ্জের তাড়াশে এলজিইডির রাস্তা পুনর্নির্মাণ প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ার আগেই দু’পাশ ধসে যাচ্ছে। এতে প্রতিকার চেয়ে স্থানীয় ১১০ জন গণস্বাক্ষর করে জেলা প্রশাসক, নির্বাহী প্রকৌশলী ও উপজেলা প্রকৌশলীর বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, তাড়াশ সদর থেকে কাটাগাড়ি অভিমুখী ১১ কিলোমিটার রাস্তা প্রশস্তকরণ ও পুনর্নির্মাণ প্রকল্পের কাজটি মূল ঠিকাদারের কাছ থেকে হাত বদল হয়েছে। এতে নতুন ঠিকাদার নিম্নমানের কাজ করছেন বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা। রাস্তার উপর অতি নিম্নমানের খোয়া ফেলে রাস্তা রোলার দিয়ে পিষে দেওয়া হচ্ছে। ফলে নির্মাণ শেষ হওয়ার আগেই রাস্তার দুপাশ ধসে পড়তে শুরু করেছে। এ ছাড়া কয়েক স্থানে দেবে যেতেও দেখা গেছে। শুধু তাই নয়, দুপাশের এজিংয়ের ইট ধসে পড়েছে। সড়কের দুই পাশে সোল্ডার বা হার্ড সোল্ডারও করা হয়নি।

 

স্থানীয়রা বলছেন, কাজটি বিক্রি হওয়ায় নতুন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ও মধ্যস্বত্বভোগীদের লাভ হলেও প্রকল্পের কাজ হচ্ছে দায়সারা। তাছাড়া এ প্রকল্পের তদারকিতেও এলজিইডির উদাসীনতা দেখা গেছে। ফলে পর্যাপ্ত বরাদ্দ থাকা সত্ত্বেও মানসম্মত কাজ হচ্ছে না।

উপজেলা এলজিইডি বিভাগ জানায়, রাজশাহী বিভাগের উপজেলা ও ইউনিয়ন সড়ক প্রশস্তকরণ ও শক্তিশালীকরণ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় তাড়াশ উপজেলা সদর থেকে কাটাগাড়ী পর্যন্ত প্রায় ১১ কিলোমিটার রাস্তা মেরামতের কাজের দরপত্র আহ্বান করা হয়। পরে ইজিপি দরপত্রে অংশ নিয়ে ১৯ কোটি ৩৮ লাখ ৫২ হাজার ৩৯৫ টাকার চুক্তিমূল্যে কাজটি করার অনুমতি পান চট্টগ্রামের মোহাম্মদ ইউনুস অ্যান্ড ব্রাদার্স লিমিটেড। পরবর্তীতে কাজটি হাতবদলে স্থানীয় মির্জা সাইফুল ইসলাম ও মাহবুব চৌধুরী বাস্তবায়ন করছেন।

 

স্থানীয় স্কুল শিক্ষক সিরাজুল হক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, শুনছি আসল কন্ট্রাকটারের কাছ থেকে সিরাজগঞ্জের দুজন কাজ কিনে নিয়েছেন। এক কাজে দুজন লাভ খেতে গেলে কাজের মান তো খারাপ হবেই। বরাদ্দের টাকাগুলো কয়েন কইরে ছড়ায়ে দিলিও এর চাইতে ভালো কাজ হইতো।

পথচারী আবুল হোসেন বলেন, রাস্তাটি প্রশস্ত ও পুনর্নির্মাণের কথা থাকলেও সেই নির্দেশনা সঠিকভাবে মানা হচ্ছে না। রাস্তায় বিছানো ইটের খোয়া খুবই নিম্নমানের হওয়ায় রাস্তাটি বেশিদিন টিকবে না।

তিনি অভিযোগ করে আরও বলেন, নির্মাণাধীন রাস্তার কাজের নকশায় দুপাশে কী পরিমাণ প্রশস্ততা বাড়ানোর কথা, আর কী পরিমাণ বাড়ানো হয়েছে, তা তারা চাইলেও জানতে পারেন না। কারণ কাজের সাইটে কোনো সাইনবোর্ড নেই। এ ছাড়া মূল ঠিকাদার অথবা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাউকে কাজের স্থানে পাওয়াও যায় না। শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বললেও তারা এ বিষয়ে কথা বলতে চান না।

 

স্থানীয় মুদি ব্যবসায়ী আব্দুল করিম বলেন, একটি কাজ যখন মূল ঠিকাদারের কাছ থেকে হাত বদল হয়, তখন কাজের মান কেমন হতে পারে, তা ধারণা করা যায়। কারণ সব পক্ষই চাইবে লাভ করতে। তাদের লাভের পাল্লা ভারি করতে গিয়ে কাজের মান খারাপ হয়ে যাওয়াই স্বাভাবিক।

দীর্ঘ ভোগান্তির পর নতুন করে কাজ শুরু হলেও কাজের মান ভালো হচ্ছে না জানিয়ে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা প্রকৌশলী ফজলুল হক বলেন, ‘চুক্তি অনুযায়ী নীতিমালা মেনে কাজ করার জন্য ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানকে ১৮ বার নোটিশ করা হয়েছে। কিন্তু তারা কোনো নিয়ম নীতির তোয়াক্কা করছেন না। উল্টো আমাকেই সাব-ঠিকাদাররা হুমকি দেয়। এসব বিষয়ে নির্বাহী প্রকৌশলী স্যারও অবগত। তবুও কোনো প্রতিকার মিলছে না।’

চট্টগ্রামের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মোহাম্মদ ইউনুস অ্যান্ড ব্রাদার্স লিমিটেডের উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী মোহাম্মদ ইমরান হোসেন বলছেন, ‘ওই কাজটি সিরাজগঞ্জের ঠিকাদার মির্জা সাইফুল ইসলাম ও মাহবুব চৌধুরীর কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। তারা দুজন যৌথভাবে কাজটি বাস্তবায়ন করছেন।’

তবে কাজের মান নিয়ে প্রশ্ন করলে তিনি এড়িয়ে যান।

কাজটির তদারকি কর্মকর্তা উপ-সহকারী প্রকৌশলী ওয়াহাব মনির বলেন, মির্জা সাইফুল ও মাহবুব চৌধুরী নামের দুইজন সাব-ঠিকাদার শিডিউল অনুযায়ী কোনো কাজই করছেনা। স্পেসিফিকেশন বহির্ভূত ও ল্যাব টেস্ট ছাড়াই নিম্নমানের ইট-খোয়া দিয়ে রাস্তাটি মেরামত করছেন। তারা কোনো নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা করছে না। এ অবস্থায় তদারকি করে কী হবে?

সাব-ঠিকাদার মির্জা সাইফুল ইসলামের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে জনৈক এক নেতার মাধ্যমে সংবাদটি প্রকাশ না করার সুপারিশ করেন। পরে আরও কয়েকবার তার বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেনি।

সিরাজগঞ্জ এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী রেজাউর রহমান বলেন, রাস্তার দুই পাশের সোল্ডার ও স্লোপ মূলত রাস্তার স্থায়িত্ব রক্ষা করে। আর এটা না থাকলে রাস্তা ধসে পড়বে এটাই স্বাভাবিক। এ বিষয়ে তারা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন বলে জানান।

 

Read more — উত্তরাঞ্চল
Home