
নওগাঁর পত্নীতলায় খেলার মাঠে অনুষ্ঠিত বাণিজ্য মেলায় ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। শেষ দিনে ঘোষিত লটারির ড্র না হওয়ায় ক্ষুব্ধ হয়ে মেলা প্রাঙ্গণে ভাঙচুর ও লুটপাট চালানো হয়।
মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত ১টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। অভিযোগ রয়েছে, মাসব্যাপী এ বাণিজ্য মেলার প্রবেশ টিকিটের পাশাপাশি লটারির নামে চলেছে বিপুল অঙ্কের টিকিট বিক্রি। এতে খেলার মাঠে মেলা আয়োজন, লটারির নামে জুয়ার আসর এবং পুরো আয়োজনের অনুমতি ও তদারকি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, খেলার মাঠে মাসব্যাপী মেলার আয়োজন করে রাজশাহী সিল্ক অ্যান্ড বেনারসি জামদানি ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট ফার্ম। ২০ টাকা প্রবেশ টিকিটের পাশাপাশি লটারির টিকিট বিক্রি করে প্রায় কোটি টাকা সংগ্রহ করা হয়েছে। মেলার শেষ দিনে রাত ১১টায় লটারির ড্র হওয়ার কথা থাকলেও নির্ধারিত সময়ে তা অনুষ্ঠিত হয়নি।
সন্ধ্যার পর থেকেই হাজারো মানুষ লটারির ড্র দেখতে মাঠে জড়ো হন। ঘোষিত পুরস্কারের দুটি মোটরসাইকেল মঞ্চে না থাকায় শুরু থেকেই সন্দেহ দেখা দেয়। রাত বাড়লেও আয়োজকদের দায়িত্বশীল কাউকে মঞ্চে পাওয়া যায়নি। একপর্যায়ে আয়োজকরা টাকা নিয়ে সরে পড়েছেন এমন অভিযোগ ছড়িয়ে পড়লে উত্তেজনা তৈরি হয়। পরে রাত ১টার দিকে বিক্ষুব্ধ লোকজন মেলার মূল মঞ্চে ভাঙচুর চালান। পরে কয়েকটি দোকান ও স্টলেও হামলা ও লুটপাট হয়।
লটারির টিকিট বিক্রি করে উধাও আয়োজক, লুটপাট চালাল বিক্ষুব্ধ জনতা
ব্যবসায়ীদের দাবি, এতে প্রায় অর্ধ কোটি টাকার মালামাল লুট হয়েছে। ঘটনার পর সবচেয়ে বড় প্রশ্ন উঠেছে খেলার মাঠে বাণিজ্য মেলার অনুমতি দেওয়া এবং সেখানে লটারির নামে এমন আয়োজন চলার বিষয়টি নিয়ে।
বরিশাল থেকে মেলায় অংশ নেওয়া ভাই ভাই টেক্সটাইলের ম্যানেজার শামীম বলেন, ‘আমাদের স্টলে প্রায় ১৫ লাখ টাকার দেশি-বিদেশি থ্রি-পিস ছিল। হামলা ও লুটপাটে সব মালামাল নিয়ে যাওয়া হয়েছে।’
নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক উদ্যোক্তা অভিযোগ করেন, হামলার সময় ৯৯৯ নম্বরে ফোন করেও তারা তাৎক্ষণিক পুলিশি সহায়তা পাননি। মাঠে থাকা পুলিশ সদস্যদের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। মেলার নিরাপত্তা ও ব্যবস্থাপনায় যথাযথ নজরদারি থাকলে এমন পরিস্থিতি তৈরি হতো না বলেও দাবি করেন তিনি।
তবে পৃষ্ঠপোষকতার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন নওগাঁ-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য সামসুজ্জোহা খান।
তিনি বলেন, ‘উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ পাওয়ায় দলের কয়েকজন নেতা সেখানে গিয়েছিলেন। আমি মেলায় যাননি এবং মেলার পৃষ্ঠপোষকতার সঙ্গে আমার কোনো সম্পৃক্ততা নেই।’
রাজশাহী সিল্ক অ্যান্ড বেনারসি জামদানি ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট ফার্মের পরিচালক রহিদুল ইসলাম রহিদের মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যায়। ফলে তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এদিকে জেলা প্রশাসনের অনুমতির চিঠিতে রাত ৯টার পর মেলার কার্যক্রম পরিচালনায় বিধিনিষেধ থাকলেও রাত ১১টা পর্যন্ত অনুষ্ঠান চলা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
পত্নীতলার ইউএনও রিফাত আরা বলেন, আয়োজকদের অনুরোধে সমাপনী অনুষ্ঠানে কিছুটা অতিরিক্ত সময় দেওয়া হয়েছিল। পরে আয়োজকরা চলে যাওয়ার পর বিক্ষুব্ধ জনতা দুটি দোকানে লুটপাট চালায়। অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার দায় প্রশাসন অস্বীকার করছে না বলেও জানান তিনি।
নওগাঁর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত উদ্যোক্তাদের আইনগত সহায়তা দিতে সংশ্লিষ্ট থানার ওসিকে বলা হয়েছে। রাতে সেখানে একজন ম্যাজিস্ট্রেট উপস্থিত ছিলেন বলে তাকে জানানো হয়েছিল।
পত্নীতলা থানার ওসি নিয়ামুল হক বলেন, ‘লুটপাটের সময় মেলায় হাজারো দর্শনার্থী থাকায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হয়নি। ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আয়োজক কমিটির পলাতক পরিচালককে আটকের চেষ্টা চলছে।’

