
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের শাহাদতবার্ষিকী উপলক্ষে ফেসবুকে পোস্ট দেওয়াকে কেন্দ্র করে রাজশাহীর চারঘাটের নন্দনগাছি ডিগ্রি কলেজের প্রভাষক সোহেলী আক্তারকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। সোমবার কলেজ গভর্নিং বডির জরুরি সভায় তাঁকে বরখাস্তের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তবে বরখাস্তের আগে তাকে কোনো কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দেওয়া হয়নি।
সাময়িক বরখাস্ত হওয়া শিক্ষক সোহেলী আক্তার নন্দনগাছি ডিগ্রি কলেজের গার্হস্থ্য অর্থনীতি বিভাগের প্রভাষক। তিনি ২০১৩ সালে ওই কলেজে যোগ দেন। তিনি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ, সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সহ-সভাপতি সাইফুল ইসলাম দুলালের মেয়ে বলে জানা গেছে।
কলেজ সূত্রে জানা যায়, গত ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের শাহাদতবার্ষিকী উপলক্ষে নিজের ফেসবুক আইডিতে একটি ফটোকার্ড পোস্ট করেন সোহেলী আক্তার। ফটোকার্ডে বঙ্গবন্ধুর ছবি ও ‘গভীর শোক’ লেখা ছিল। পোস্টের ক্যাপশনে তিনি লেখেন, ‘বিনম্র শ্রদ্ধা’।
এই পোস্টকে কেন্দ্র করে কলেজের শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন মহলে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। পরে কলেজ ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করেন ছাত্রদলের নেতা-কর্মী ও সাধারণ শিক্ষার্থীরা। এ সময় তারা সংশ্লিষ্ট শিক্ষকের বিরুদ্ধে বিভিন্ন স্লোগান দিয়ে পদত্যাগের দাবি জানান।
কলেজ ছাত্রদলের আহ্বায়ক সাহেদুর রহমান বলেন, ওই পোস্টকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ ও অসন্তোষ তৈরি হয়েছে।
উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সোমবার সকালে কলেজের কার্যনির্বাহী কমিটির জরুরি সভা অনুষ্ঠিত হয়। কলেজ গভর্নিং বডির সভাপতি সাইফুল ইসলামের সভাপতিত্বে সভায় সোহেলী আক্তারকে সাময়িক বরখাস্তের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভায় সিদ্ধান্তটি সর্বসম্মতভাবে নেওয়া হয়েছে বলে কলেজ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। এছাড়া, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এবং শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও কর্মচারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ক্যাম্পাসে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকলেও প্রশাসন সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
তবে সাময়িক বরখাস্তের আগে শিক্ষককে কোনো কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়নি। এ বিষয়ে গভর্নিং বডির সভাপতি সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা বসে সর্বসম্মতিক্রমে তাঁকে সাময়িক বরখাস্ত করেছি।’
বরখাস্তের আগে শোকজ করা হয়েছিল কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এটা হয়নি। দেখা যাক, আমরা এখনো আলোচনা করছি। এটাও হবে।’
কলেজের অধ্যক্ষ ওয়াহেদুল ইসলাম বলেন, ‘প্রভাষক সোহেলী আক্তার কার্যক্রম নিষিদ্ধ সংগঠনের প্রধানকে নিয়ে ফেসবুকে পোস্ট দিয়েছেন। প্রজাতন্ত্রের কর্মচারী হিসেবে কেউ এ ধরনের রাষ্ট্রবিরোধী পোস্ট দিতে পারেন না। কলেজের শৃঙ্খলা রক্ষার জন্য তাঁকে সাময়িক বরখাস্তের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।’
তবে বরখাস্তের বিষয়টি সোহেলী আক্তার জানেন না বলে দাবি করেছেন। তিনি বলেন, ‘আমাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে—এটা আমি জানি না। আমার কী দোষ, সেটাও তো জানি না। আমার কিছু বলার নেই।’

