
রাজশাহীর কাটাখালী পৌরসভায় অকেজো ট্রান্সফরমার মেরামতের পর বহনযোগ্য ট্রান্সফরমার দিয়ে বিদ্যুৎ সরবরাহ চালু করতেই মুহূর্তের মধ্যে ওভার ভোল্টেজে পুড়ে গেছে তিন মহল্লার শত শত বাড়ির টেলিভিশন, ফ্রিজ, এসি, বৈদ্যুতিক বাল্বসহ বিভিন্ন ইলেকট্রনিকস পণ্য। এতে প্রায় ৩০০ পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে করেছেন স্থানীয়রা।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সোমবার রাতে কাটাখালীর বাখরাবাজ এলাকায় একটি ট্রান্সফরমার বিকল হয়ে যাওয়ায় তিন মহল্লায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় স্থানীয়রা নর্দান ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই কোম্পানির (নেসকো) কাটাখালী কার্যালয়ে যোগাযোগ করেন। পরে নেসকোর কর্মীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে ট্রান্সফরমারটি অকেজো দেখতে পান। রাতের মধ্যেই তাঁরা একটি পোর্টেবল ট্রান্সফরমার নিয়ে এসে বিদ্যুৎ সংযোগ চালু করেন। আর সংযোগ চালু হওয়ার পরই ঘটে বিপত্তি। মসজিদের সামনে থাকা একটি বৈদ্যুতিক বাল্ব মুহূর্তেই পুড়ে যায়। বিষয়টি বুঝতে পেরে নেসকোর কর্মীরা সংযোগ বন্ধ করে দেন। কিন্তু এর আগেই বিভিন্ন বাড়িতে ওভার ভোল্টেজের ধাক্কায় টেলিভিশন, ফ্রিজ, এসি, বাল্বসহ নানা ধরনের বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম নষ্ট হয়ে যায়।
ক্ষতিগ্রস্তদের কয়েকজন জানান, অনেক বাড়িতে একই সঙ্গে একাধিক বৈদ্যুতিক যন্ত্র পুড়ে গেছে। কারও টেলিভিশন, কারও ফ্রিজ, আবার কারও এসি ও ঘরের বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম নষ্ট হয়েছে। কয়েক মিনিটের বিদ্যুৎ সরবরাহে বছরের সঞ্চয়ে কেনা এসব পণ্য নষ্ট হয়ে যাওয়ায় ক্ষোভে ফেটে পড়েন স্থানীয়রা।
ঘটনার পর ক্ষুব্ধ মহল্লাবাসী নেসকোর কর্মীদের আটকে রাখেন। এ সময় কয়েকজন কর্মীকে মারধরের ঘটনাও ঘটে বলে জানা গেছে। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে নেসকোর কর্মীদের উদ্ধার করে নিয়ে যায়।
এলাকার বাসিন্দা ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের রাজশাহী জেলা কমিটির আহ্বায়ক নাহিদুল ইসলাম বলেন, তিনটি মহল্লার প্রায় সব বাড়ির ইলেকট্রনিক পণ্য পুড়ে গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত লোকজন অভিযোগ জানাতে আমার বাড়িতেই আসছেন। ক্ষতিপূরণ দাবি করছেন। অন্তত ৩০০ পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।
স্থানীয় বাসিন্দা মো. সানার বাড়িতেও একসঙ্গে একাধিক বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম নষ্ট হয়েছে। তিনি জানান, তাঁর বাড়ির বৈদ্যুতিক বাতির পাশাপাশি টেলিভিশন, ফ্রিজ ও এসিও পুড়ে গেছে। তার অভিযোগ, পোর্টেবল ট্রান্সফরমার চালুর সময় অতিরিক্ত ভোল্টেজের কারণেই এসব পণ্য নষ্ট হয়েছে।
ক্ষতিগ্রস্তদের দ্রুত তালিকা করে যথাযথ ক্ষতিপূরণ দেওয়ার দাবি জানান তিনি।
নেসকোর রাজশাহীর বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগ-৫-এর নির্বাহী প্রকৌশলী আনোয়ার হোসেন বলেন, বিদ্যুৎ সরবরাহ তিনটি লাইনের মাধ্যমে করা হয়। কোনো কারণে দুটি লাইন এক হয়ে গেলে অস্বাভাবিক মাত্রায় বিদ্যুৎ প্রবাহিত হতে পারে। এটি অত্যন্ত বিপজ্জনক। এ ক্ষেত্রে এমনই হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে কোথায় বা কীভাবে দুটি লাইন এক হয়েছে, তা নিশ্চিত করে বলা সম্ভব নয়।
তবে ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার বিষয়ে আনোয়ার হোসেন বলেন, বিদ্যুতের ভালো ও খারাপ দুটি দিকই আছে। আমরা সব সময় ভালো কাজের জন্য বিদ্যুৎ ব্যবহার করি। এখন দুর্ঘটনা ঘটে গেলে তো আর এতগুলো বাড়ির ক্ষতিপূরণ দেওয়া সম্ভব নয়।
এদিকে দুর্ঘটনার পর ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণে স্থানীয়ভাবে তালিকা তৈরির কাজ শুরু হয়েছে। কাটাখালী পৌর বিএনপির পক্ষ থেকেও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর তালিকা করা হচ্ছে। পৌর বিএনপির আহ্বায়ক নুরুল ইসলাম বলেন, ওই তিন মহল্লায় প্রায় ৩০০ বাড়ি রয়েছে। কোন বাড়িতে কী ধরনের ক্ষতি হয়েছে, তা তালিকাভুক্ত করা হচ্ছে।
নেসকোর সার্কেল-১-এর তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মাহবুবুল আলম চৌধুরী এবং প্রধান প্রকৌশলী (অপারেশন) জিয়াউল ইসলাম জানিয়েছেন, দুর্ঘটনার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগ থেকে তাঁদের কিছু জানানো হয়নি। বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখা হবে।

