
সুস্থ সংস্কৃতির বিকাশে দেশের শিল্পী, সাহিত্যিক ও কবিদের জন্য পূর্ণাঙ্গ ডিজিটাল ডাটাবেজ তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক শেখ রেজাউদ্দিন আহমেদ (রেজাউদ্দিন স্টালিন)। তিনি বলেন, এই ডাটাবেজ তৈরি হলে ঢাকায় বসেই দেশের যেকোনো প্রান্তের শিল্পীদের পরিচয় ও কাজ সম্পর্কে জানা সম্ভব হবে।
বুধবার বিকেলে রাজশাহী জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে জেলার সাংস্কৃতিককর্মী, সাংস্কৃতিক সংগঠক, লেখক, কবি ও সাহিত্যিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন।
মহাপরিচালক শেখ রেজাউদ্দিন আহমেদ বলেন, গ্রামাঞ্চল পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়া অপসংস্কৃতি রোধে সুস্থ সংস্কৃতির চর্চা বাড়াতে হবে। এ লক্ষ্যে যাত্রাপালাকে আধুনিক অপেরার আদলে গড়ে তোলা এবং নাটক ও পুতুলনাচকে নতুন আঙ্গিকে উপস্থাপনের কাজ চলছে। পাশাপাশি বিশ্বের ৪২টি দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক চুক্তি রয়েছে। এসব চুক্তির আওতায় স্থানীয় শিল্পীদের আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সাংস্কৃতিক পরিবেশনায় অংশ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হবে।
শিল্পকলা একাডেমির বাজেটের সীমাবদ্ধতার কথা তুলে ধরে মহাপরিচালক বলেন, একাডেমির মোট বাজেট ১০৪ কোটি টাকা। এর মধ্যে ৭২ কোটি টাকা ব্যয় হয় বেতন-ভাতা খাতে। ফলে জেলা পর্যায়ে বড় ধরনের বরাদ্দ দেওয়ার ক্ষেত্রে অর্থনৈতিক সংকট রয়েছে। তবে এই সীমাবদ্ধতার মধ্যেও গুণী শিল্পীদের যথাযথ সম্মান দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, গত দুই বছর শিল্পকলা পদক ও সম্মাননা দেওয়া বন্ধ ছিল। চলতি বছর দেশের প্রতিটি জেলায় যোগ্য শিল্পী ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিদের পদক ও সম্মাননা দেওয়া হবে। ইতোমধ্যে নওগাঁয় এ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। রাজশাহীতেও দ্রুত কমিটি গঠন করে যোগ্যদের পুরস্কৃত করা হবে।
প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের বিষয়ে শেখ রেজাউদ্দিন আহমেদ বলেন, জেলা পর্যায়ে উপপরিচালক এবং বিভাগীয় পর্যায়ে পরিচালক নিয়োগের মাধ্যমে শিল্পকলা একাডেমির প্রশাসনিক কাঠামো শক্তিশালী করা হবে। এ জন্য আইন ও প্রবিধানমালা সংস্কারের কাজ চলছে।
রাজশাহী জেলা শিল্পকলা একাডেমির বিভিন্ন সমস্যার বিষয়ে তিনি বলেন, মিলনায়তন সংস্কার এবং ভবনে উইপোকার উপদ্রব বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে। এ জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দেরও আশ্বাস দেন তিনি।
নিজের পরিচয় প্রসঙ্গে মহাপরিচালক বলেন, ‘আমি নিজেকে মূলত একজন কবি হিসেবে পরিচয় দিতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করি।’ পরে তিনি অনুষ্ঠানে নিজের লেখা কবিতা আবৃত্তি করেন।
মতবিনিময় অনুষ্ঠানে জেলা কালচারাল অফিসার মো. ফারুকুর রহমান ফয়সল, রাজশাহী প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মো. গোলাম মোস্তাফা মামুন, নৃত্য পরিচালক হাসিব পান্না, রাজশাহী মহানগর জাসদের সদস্য সচিব মো. সেলিম রেজাসহ জেলার সাংস্কৃতিককর্মী, সাংস্কৃতিক সংগঠক, লেখক, কবি ও সাহিত্যিকরা উপস্থিত ছিলেন।

