
বাংলাদেশে ব্যবহৃত প্যারাকুয়েটসহ সব অতিঝুঁকিপূর্ণ কীটনাশক দ্রুত নিষিদ্ধ করে নিরাপদ খাদ্য, জনস্বাস্থ্য ও প্রাণবৈচিত্র্য রক্ষায় কার্যকর রাষ্ট্রীয় উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন কৃষক, গবেষক, মৎস্যজীবী, যুব সংগঠক ও পরিবেশকর্মীরা।
তাদের মতে, বিশ্বের প্রায় ৭০টি দেশে নিষিদ্ধ প্যারাকুয়েট বাংলাদেশে এখনও ব্যবহৃত হচ্ছে, যা মানুষের স্বাস্থ্য, কৃষি ও পরিবেশের জন্য দীর্ঘমেয়াদি ঝুঁকি তৈরি করছে।
সোমবার রাজশাহীর পবা উপজেলার কর্ণহার বিল এলাকায় উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠান বারসিক, বরেন্দ্র ইয়ুথ ফোরাম ও গ্রীণ কোয়ালিশনের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত মানববন্ধন থেকে এসব দাবি জানানো হয়।
কর্মসূচিতে কৃষক-কৃষাণী, মৎস্যজীবী, কৃষিবিদ, যুব প্রতিনিধি, পরিবেশকর্মী এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।
বক্তারা বলেন, কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধির নামে অতিরিক্ত রাসায়নিক কীটনাশকের ব্যবহার এখন জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশের জন্য নীরব সংকটে পরিণত হয়েছে।
প্যারাকুয়েটসহ উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ কীটনাশক শুধু মানুষের স্বাস্থ্যঝুঁকিই বাড়াচ্ছে না, দেশীয় মাছ, মৌমাছি, পরাগায়নকারী পতঙ্গ, মাটির অণুজীব এবং জলজ ও স্থলজ প্রাণবৈচিত্র্যের ওপরও মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। এতে নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন, কৃষকের স্বাস্থ্য এবং দেশের খাদ্যব্যবস্থা হুমকির মুখে পড়ছে।
তারা জানান, প্যান এশিয়া প্যাসিফিকের ২০২৫ সালের এক গবেষণায় বাংলাদেশসহ চারটি এশীয় দেশে ব্যবহৃত ৯৬টি কীটনাশকের মধ্যে ৫৩টিকে উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। একই সঙ্গে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) ও বিশ্ব খাদ্য সংস্থা (এফএও) দীর্ঘদিন ধরে এসব কীটনাশক পর্যায়ক্রমে প্রত্যাহার এবং নিরাপদ বিকল্প কৃষি ব্যবস্থা সম্প্রসারণের সুপারিশ করে আসছে।
বক্তারা আরও বলেন, প্যারাকুয়েট নিষিদ্ধ করা কৃষির বিরুদ্ধে কোনো পদক্ষেপ নয়; বরং কৃষক, ভোক্তা ও পরিবেশের সুরক্ষায় একটি বৈজ্ঞানিক ও দায়িত্বশীল সিদ্ধান্ত। নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে কৃষকদের সমন্বিত বালাই ব্যবস্থাপনা, জৈব বালাই নিয়ন্ত্রণ ও এগ্রোইকোলজিভিত্তিক কৃষি চর্চায় সরকারি বিনিয়োগ, প্রশিক্ষণ এবং বাজার সহায়তা বাড়ানোর ওপরও তারা গুরুত্বারোপ করেন।
মানববন্ধন থেকে প্যারাকুয়েটসহ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও বিশ্ব খাদ্য সংস্থার মানদণ্ড অনুযায়ী সব অতিঝুঁকিপূর্ণ কীটনাশক পর্যায়ক্রমে নিষিদ্ধ, নিবন্ধিত কীটনাশকের বৈজ্ঞানিক পুনর্মূল্যায়ন, খাদ্যে কীটনাশকের অবশিষ্টাংশ পরীক্ষার জাতীয় কর্মসূচি জোরদার, কৃষকদের নিরাপদ বিকল্প প্রযুক্তিতে ভর্তুকি ও প্রশিক্ষণ, মৌমাছি ও পরাগায়নকারী প্রাণী সংরক্ষণ, জাতীয় বিষক্রিয়া পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা চালু এবং জাতীয় এগ্রোইকোলজি রূপান্তর কর্মসূচি গ্রহণের দাবি জানানো হয়।
মানববন্ধনে বক্তারা আরও বলেন, প্যারাকুয়েট নিষিদ্ধের দাবি কোনো একক সংগঠনের নয়; এটি নিরাপদ খাদ্যের অধিকার, কৃষকের স্বাস্থ্য, পরিবেশ ও প্রাণবৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জাতীয় দাবি। সরকারের প্রতি দ্রুত নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়ে নিরাপদ বিকল্প কৃষি ব্যবস্থা সম্প্রসারণেরও আহ্বান জানান তারা।

