
বিদ্যুতের ‘ভূতুড়ে’ বিল প্রত্যাহার, সঠিক বিল প্রণয়ন এবং গ্রাহক হয়রানি বন্ধের দাবিতে নর্দার্ন ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই কোম্পানি (নেসকো)-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালকের কাছে স্মারকলিপি দিয়েছে রাজশাহী রক্ষা সংগ্রাম পরিষদ। একই সঙ্গে নেসকোর প্রধান কার্যালয় রাজশাহী থেকে বগুড়ায় স্থানান্তরের উদ্যোগেরও তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে সংগঠনটি।
আজ রোববার দুপুরে নেসকোর ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী মশিউর রহমানের কাছে স্মারকলিপি দেওয়া হয়। এ সময় তিনি দাবিগুলো বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন।
এর আগে রাজশাহী রক্ষা সংগ্রাম পরিষদ ও বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা)-এর নেতাকর্মীরা রাজশাহী কলেজ শহীদ মিনারে সমবেত হন। পরে সেখান থেকে মিছিল নিয়ে নেসকোর কার্যালয়ে গিয়ে স্মারকলিপি জমা দেন।
স্মারকলিপিতে বলা হয়, গত কয়েক মাস ধরে বিপুলসংখ্যক গ্রাহক বাস্তব বিদ্যুৎ ব্যবহারের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ অস্বাভাবিক ও অতিরিক্ত বিল পাচ্ছেন। একই পরিমাণ বিদ্যুৎ ব্যবহার করেও অনেক ক্ষেত্রে আগের মাসের তুলনায় দ্বিগুণ থেকে তিনগুণ পর্যন্ত বিল আসছে। এতে সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তি ও আর্থিক চাপের মুখে পড়ছেন।
এতে আরও উল্লেখ করা হয়, বিলের অসঙ্গতি নিয়ে অভিযোগ জানাতে গিয়ে গ্রাহকদের দিনের পর দিন নেসকোর কার্যালয়ে ঘুরতে হচ্ছে। কোথাও অভিযোগ গ্রহণে অনীহা, কোথাও দীর্ঘসূত্রিতা এবং কোথাও সন্তোষজনক ব্যাখ্যা না পাওয়ায় গ্রাহকদের হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে মিটারের প্রকৃত রিডিং না নিয়েই বিল প্রস্তুত করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করা হয়।
সংগঠনটির দাবি, বিদ্যুৎ একটি মৌলিক নাগরিক সেবা। তাই গ্রাহকদের প্রতি স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও ন্যায্য আচরণ নিশ্চিত করা নেসকোর আইনগত ও নৈতিক দায়িত্ব। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষের মধ্যে নেসকোর প্রতি আস্থাহীনতা তৈরি হচ্ছে।
স্মারকলিপিতে সাত দফা দাবি তুলে ধরা হয়। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—সব অস্বাভাবিক ও অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিল পুনঃযাচাই করে ভুল বিল বাতিল ও সংশোধন, প্রকৃত মিটার রিডিংয়ের ভিত্তিতে বিল প্রস্তুত, অতিরিক্ত বিলের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহকদের বিল সমন্বয়, অভিযোগ নিষ্পত্তির জন্য বিশেষ তদন্ত সেল গঠন, মিটার রিডার ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের জবাবদিহি নিশ্চিত করা, আধুনিক ও নির্ভুল বিলিং ব্যবস্থা চালু এবং অভিযোগ নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত বিতর্কিত বিলের ভিত্তিতে কোনো গ্রাহকের সংযোগ বিচ্ছিন্ন না করা।
এ ছাড়া নেসকোর কার্যালয় রাজশাহী থেকে বগুড়ায় স্থানান্তরের যেকোনো উদ্যোগ বন্ধেরও দাবি জানানো হয়।
স্মারকলিপিতে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলা হয়, দ্রুত সময়ের মধ্যে দাবিগুলো বাস্তবায়ন না হলে সাধারণ গ্রাহকদের স্বার্থে গণস্বাক্ষর কর্মসূচি, মানববন্ধনসহ আরও কঠোর আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। পাশাপাশি নেসকোর প্রধান কার্যালয় রাজশাহী থেকে স্থানান্তরের চেষ্টা করা হলে বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।
স্মারকলিপি প্রদানকালে রাজশাহী রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মো. জামাত খান, বাপার সভাপতি প্রকৌশলী মাহমুদ হোসেন, সাধারণ সম্পাদক সেলিনা বেগম, সাবেক ছাত্রনেতা রায়হান সম্রাট, প্রকৌশলী খাজা তারেক, জাহিদ হাসান, রাবেয়া খাতুন, শাহনাজ পারভীন সাগরী, রাশেদা বেগম, মো. আল আমিন, সাংবাদিক আফরোজা খান হেলেন এবং পবা উপজেলা বাপার সাধারণ সম্পাদক ইউসুফ আলী চৌধুরীসহ সংগঠন দুটির নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

