
ভূমিমন্ত্রী মো. মিজানুর রহমান মিনু, এমপি বলেছেন, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম কেবল আমাদের গর্ব নন, তিনি মুসলিম রেনেসাঁর এক অনন্য রূপকার। তাঁর রচিত রণসঙ্গীত ‘চল চল চল’ বাংলাদেশসহ পৃথিবীর প্রায় ১১টি দেশে পরিবেশিত হয়, যার মধ্যে ভারত, পাকিস্তান, নেপাল, ভুটান, আফগানিস্তান ও ইরান অন্যতম।
আজ শনিবার বেলা ১১টায় রাজশাহী কেন্দ্রীয় বোটানিক্যাল গার্ডেন ও চিড়িয়াখানার বিপরীতে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের স্মরণে ঘোষিত ‘নজরুল বর্ষ’ উপলক্ষে রাজশাহী জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে নবনির্মিত ‘নজরুল ভিলেজ’-এর ফলক উন্মোচন মাধ্যমে উদ্বোধন শেষে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন।
ভূমিমন্ত্রী বলেন, রাজশাহীতে ‘নজরুল ভিলেজ’ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে নজরুল গবেষণা, সাহিত্যচর্চা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে। স্থানীয় সাংস্কৃতিক অঙ্গনও এ উদ্যোগের মাধ্যমে আরও সমৃদ্ধ হবে।
তিনি জানান, প্রকল্পটির পূর্ণাঙ্গ কাজ শেষ হলে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে রাজশাহীতে এনে এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের উদ্যোগ নেওয়া হবে। পরে তিনি জাতীয় কবির বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করে দোয়া ও মোনাজাতে অংশ নেন এবং প্রাঙ্গণে একটি কৃষ্ণচূড়ার চারা রোপণ করেন।
সভাপতির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলাম বলেন, জাতীয় কবির সাহিত্য, কবিতা ও সংগীত নতুন প্রজন্মের মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়ার লক্ষ্যেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নজরুলচর্চাকে নিয়মতান্ত্রিকভাবে পরিচালনার জন্য ইতোমধ্যে একটি ‘নজরুল ক্যালেন্ডার’ প্রণয়ন করা হয়েছে। সেই ক্যালেন্ডার অনুযায়ী বছরজুড়ে বিভিন্ন সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হবে।
তিনি আরও জানান, আগামী মাসে নির্ধারিত অনুষ্ঠানগুলো নতুন প্রাঙ্গণেই আয়োজনের লক্ষ্যে ‘নজরুল মঞ্চ’-এর নির্মাণকাজ দ্রুত শেষ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, স্থানীয় রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ, সুধীজন ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে জানানো হয়, প্রকল্প বাস্তবায়নে বিভিন্ন উৎস থেকে প্রাথমিকভাবে ২৫ লাখ টাকার তহবিল সংগ্রহ করা হয়েছে। এর মধ্যে ‘নজরুল মঞ্চ’ নির্মাণে ব্যয় ধরা হয়েছে ১০ থেকে ১২ লাখ টাকা। পুরো এলাকা উন্মুক্ত সাংস্কৃতিক প্রাঙ্গণ হিসেবে গড়ে তোলা হবে; এখানে কোনো বহুতল ভবন নির্মাণ করা হবে না।
প্রকল্পের আওতায় ‘নজরুল মঞ্চ’ ও ‘নজরুল কর্নার’ নির্মাণের পাশাপাশি বৃক্ষশোভিত পরিবেশে সাহিত্য, নাটক, পালাগান, আবৃত্তি ও সংগীতচর্চার সুযোগ সৃষ্টি করা হবে। যে কোনো ব্যক্তি বা সাংস্কৃতিক সংগঠন এখানে নজরুলভিত্তিক অনুষ্ঠান আয়োজন করতে পারবে।

