উত্তরা প্রতিদিন
ঢাকা

আফগান বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নিহত বেড়ে ৭, ইসলামাবাদের অস্বীকার

বিদেশ ডেস্ক ২৮ এপ্রিল ২০২৬, ০৬:০৯ অপরাহ্ণ
আফগান বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নিহত বেড়ে ৭, ইসলামাবাদের অস্বীকার

আফগানিস্তানের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের একটি বিশ্ববিদ্যালয় ও বেসামরিক বাড়িঘরে পাকিস্তান থেকে ছোড়া মর্টার ও ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে অন্তত সাতজন নিহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে দেশটির কর্মকর্তারা। এ হামলায় আহত হয়েছেন আরও ৮৫ জন।

আফগান সরকারের উপ-মুখপাত্র হামদুল্লাহ ফিতরাত বলেছেন, সোমবারের মর্টার ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় কুনার প্রদেশের রাজধানী আসাদাবাদ শহর এবং প্রদেশের অন্য এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

কুনার তথ্য ও সংস্কৃতি বিষয়ক পরিচালক নাজিবুল্লাহ হানাফি বলেছেন, নিহতের সংখ্যা সাত এবং আহত হয়েছেন ৮৫ জন। তার ভাষ্য, আহতদের মধ্যে নারী, শিশু ও সায়েদ জামালউদ্দিন আফগানি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও রয়েছেন।

আফগানিস্তানের উচ্চশিক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয়ে হামলায় প্রায় ৩০ জন শিক্ষার্থী ও একাধিক অধ্যাপক আহত হয়েছেন।

পাকিস্তানের হামলায় আহত শিশু ভাগ্নেকে নিয়ে হাসপাতালে থাকা ২২ বছর বয়সী শ্রমিক সাহাতুল্লাহ বলেছেন, আমার ভাগ্নে বাইরে খেলছিল, মর্টারের গোলা এসে ওখানে আঘাত হানে।

একই হাসপাতালে থাকা ৪০ বছর বয়সী শিক্ষক জমারাই কুনারি তার এক আত্মীয় নিহত এবং অন্যরা আহত হওয়ার খবর নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেছেন, আমার আহত ভাইকে নিয়ে এখানে এসেছি। সে গোলার আঘাতে জখম হয়। আমার এক চাচাকে আনতে তিনি বাইরে গিয়েছিলেন।

হামলার কথা স্বীকার করলেও পাকিস্তান বিশ্ববিদ্যালয়কে লক্ষ্যবস্তু করার অভিযোগ অস্বীকার করেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ে হামলা সংক্রান্ত আফগান গণমাধ্যমের প্রতিবেদন ও সরকারি বিবৃতিকে পাকিস্তানি কর্মকর্তারা একটি নির্লজ্জ মিথ্যা বলে উড়িয়ে দিয়েছেন।

দেশটির তথ্য মন্ত্রণালয় বলেছে, পাকিস্তানের লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণ সুনির্দিষ্ট এবং গোয়েন্দা তথ্যের ওপর ভিত্তি করে করা হয়। সৈয়দ জামালউদ্দিন আফগান বিশ্ববিদ্যালয়ে কোনো হামলা চালানো হয়নি। এই দাবিগুলো ভিত্তিহীন ও মিথ্যা।

চলতি মাসের শুরুতে চীনের মধ্যস্থতায় দুই পক্ষের মধ্যে শান্তি আলোচনার পর এটিই ছিল প্রথম সহিংস ঘটনা।

পাকিস্তান আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে তেহরিক-ই-তালেবান বা টিটিপি নামক সন্ত্রাসী গোষ্ঠীকে মদদ দেওয়ার অভিযোগ করে আসছে। ইসলামাবাদের দাবি, টিটিপির আস্তানা নির্দিষ্ট করেই হামলা চালানো হয়।

এই গোষ্ঠীটি আফগান তালেবান থেকে আলাদা হলেও তাদের মিত্র। মার্কিন বাহিনীকে হটিয়ে ২০২১ সালে তালেবান আফগানিস্তানের নিয়ন্ত্রণ নেয়। কাবুল পাকিস্তানের এই অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।

এর আগে, ১৭ মার্চ কাবুলের একটি মাদক নিরাময় কেন্দ্রে পাকিস্তানের বিমান হামলায় ৪০০ জনেরও বেশি বেসামরিক নাগরিক নিহত হওয়ার দাবি করে তালেবান সরকার। জবাবে পাকিস্তান সীমান্তে পাল্টা হামলা করে আফগান বাহিনী। সংঘাতের দুই দিন পর ঈদ-উল-ফিতর চলে আসায় দুই পক্ষ একটি অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করে।

এপ্রিলের শুরুতে পশ্চিম চীনের উরুমকিতে আফগান ও পাকিস্তানি কর্মকর্তারা মিলিত হয়ে এ সংঘাত না বাড়ানোর বিষয়ে একমত হয়েছিলেন।

 

Read more — আন্তর্জাতিক
Home