উত্তরা প্রতিদিন
ঢাকা

স্বামীর বোনকে ‘দ্বিতীয় স্ত্রী’ দেখিয়ে বিবাহবিচ্ছেদ নারীর, হাইকোর্টের দ্বারস্থ মধ্যবয়সী ব্যক্তি

উত্তরা ডেস্ক ২৭ এপ্রিল ২০২৬, ০২:৫৫ অপরাহ্ণ
স্বামীর বোনকে ‘দ্বিতীয় স্ত্রী’ দেখিয়ে বিবাহবিচ্ছেদ নারীর, হাইকোর্টের দ্বারস্থ মধ্যবয়সী ব্যক্তি

বিবাহবিচ্ছেদের জন্য আদালতে গেলে সাধারণত অভিযোগের কেন্দ্র থাকে পারিবারিক সহিংসতা, যৌতুকের চাপ বা দাম্পত্য কলহ। কিন্তু ভারতের মধ্যপ্রদেশ রাজ্যে এমন এক ঘটনা ঘটেছে, যা ধরাবাঁধা কোনো ছকে ফেলে তুলনা করা যাবে না। এক নারী এমন কৌশল নিয়েছেন, যা কল্পনাকেও হার মানায়। তিনি নিজের স্বামীর বোনকেই স্বামীর দ্বিতীয় স্ত্রী হিসেবে চিহ্নিত করে বিচ্ছেদ আদায়ের চেষ্টা করেন।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির খবরে বলা হয়েছে, শিগগির বিষয়টি গড়ায় মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্টের গোয়ালিয়র বেঞ্চ পর্যন্ত। সেখানে স্বামী একতরফা দেওয়া বিবাহবিচ্ছেদের ডিক্রি চ্যালেঞ্জ করেন। তাঁর অভিযোগ, স্ত্রী বিভ্রান্তিকর প্রমাণ উপস্থাপন করে আদালতকে ভুল পথে পরিচালিত করেছেন।

মামলার বিবরণ অনুযায়ী, গোয়ালিয়রের এক নারী ১৯৯৮ সালে একটি মার্কেটিং কোম্পানিতে কর্মরত এক ব্যক্তিকে বিয়ে করেন। স্বামী কাজের সূত্রে প্রায়ই বাড়ির বাইরে থাকতেন, যা ধীরে ধীরে দাম্পত্য সম্পর্কে টানাপোড়েন সৃষ্টি করে। ২০১৫ সাল থেকে ওই নারী স্বামীর থেকে আলাদা থাকতে শুরু করেন।

ওই নারী যেকোনো মূল্যে বিচ্ছেদ চাইছিলেন, কিন্তু স্বামী এতে রাজি ছিলেন না। ২০২১ সালে ওই নারী পারিবারিক আদালতে বিবাহবিচ্ছেদের আবেদন করেন এবং অভিযোগ তোলেন, তাঁর স্বামী দ্বিতীয় বিয়ে করেছেন। প্রমাণ হিসেবে তিনি একটি পারিবারিক ছবি আদালতে জমা দেন। ছবিতে দেখা যায়, তাঁর স্বামী এক নারীর পাশে দাঁড়িয়ে আছেন, সঙ্গে আরও আত্মীয়স্বজন। ওই নারী দাবি করেন, ছবিতে স্বামীর পাশে থাকা নারীই তাঁর স্বামীর দ্বিতীয় স্ত্রী। এই ছবিকেই প্রমাণ হিসেবে ধরে নেয় পারিবারিক আদালত।

এই উপস্থাপনার ভিত্তিতে গোয়ালিয়র পারিবারিক আদালত নারীর পক্ষে একতরফা বিবাহবিচ্ছেদের আদেশ দেন। স্বামী নিজের বক্তব্য উপস্থাপনের সুযোগ পাননি, তাঁর অনুপস্থিতিতেই বিচ্ছেদ মঞ্জুর হয়।

কিন্তু ঘটনা উল্টো মোড় নেয়—এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহে। স্বামী ওই বিচ্ছেদের আদেশ সম্পর্কে জানতে পারেন। আদালতের নথি যাচাই করে তিনি বিস্মিত হন, কারণ যে ছবিটি প্রমাণ হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছিল, সেখানে ‘দ্বিতীয় স্ত্রী’ হিসেবে যাকে দেখানো হয়েছে, তিনি আসলে তাঁর সহোদর বোন।

সরকারি কৌঁসুলি ধর্মেন্দ্র শর্মা জানান, স্বামী এখন মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্টের গোয়ালিয়র বেঞ্চে ওই একতরফা আদেশ চ্যালেঞ্জ করেছেন। তাঁর অভিযোগ, স্ত্রী মিথ্যা তথ্য উপস্থাপন করে আদালতকে বিভ্রান্ত করেছেন এবং প্রতারণার মাধ্যমে বিবাহবিচ্ছেদের ডিক্রি আদায় করেছেন। বর্তমানে উচ্চ আদালতে মামলাটির শুনানি চলছে। স্বামী আদালতের কাছে অনুরোধ জানিয়েছেন, বিভ্রান্তিকর ও ভুল তথ্যের ভিত্তিতে দেওয়া এই রায় বাতিল করা হোক।

Read more — আন্তর্জাতিক
Home