উত্তরা প্রতিদিন
ঢাকা

‘শেখ হাসিনাকে আমার অধীনে কেন বন্দি রাখা হয়েছিল জানতাম না’

জেরায় আবদুল্লাহিল আমান আযমী
উত্তরা ডেস্ক ২৮ এপ্রিল ২০২৬, ০৬:৩৮ অপরাহ্ণ
 ‘শেখ হাসিনাকে আমার অধীনে কেন বন্দি রাখা হয়েছিল জানতাম না’

হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের সামরিক শাসনামলে শেখ হাসিনাকে কী কারণে নিজের তত্ত্বাবধানে বন্দি রাখা হয়েছিল, তা জানতেন না বলে জেরায় উল্লেখ করেছেন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবদুল্লাহিল আমান আযমী।

আজ (মঙ্গলবার) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন বিচারিক প্যানেলে আসামিপক্ষের জেরায় তিনি এ কথা বলেন। জয়েন্ট ইন্টারোগেশন সেন্টারে (জেআইসি) গুম-নির্যাতনের ঘটনায় করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় তার এই জেরা হয়।

এদিন জেরা করেন আসামিপক্ষের আইনজীবী আমিনুল গণি টিটো। শেখ হাসিনাকে ব্যক্তিগতভাবে আটক করেছেন কি না—এমন প্রশ্নে আযমী বলেন, আমি ব্যক্তিগতভাবে কাউকে আটক করিনি। কী কারণে শেখ হাসিনা, মতিয়া চৌধুরী ও সাহারা খাতুনকে বন্দি করে আমার তত্ত্বাবধানে রাখা হয়েছিল, তা আমি জানতাম না। তাদের আটকের কারণ জানারও চেষ্টা করিনি। কারণ তখন সদ্য কমিশনপ্রাপ্ত জুনিয়র অফিসার ছিলাম আমি। এ ছাড়া সামরিক শাসন চালু ছিল। তাই এ ধরনের প্রশ্ন করার কোনো সুযোগ ছিল না।

আযমীর উদ্দেশে টিটো বলেন, জেনারেল এরশাদের মার্শাল ল-এর সময় আপনি অনেক লোককে বেআইনিভাবে আটক করে বন্দি রেখেছিলেন। জবাবে এটি সত্য নয় বলে জানান তিনি। ‘অপারেশন রেবেল হান্টের’ সময় সাফল্যের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছিলেন বলেও উল্লেখ করেন আবদুল্লাহিল আমান আযমী।

এর আগে সোমবার (২৭ এপ্রিল) আইনজীবী আজিজুর রহমান দুলুর জেরায় সাবেক এই সেনা কর্মকর্তা বলেছিলেন, ‘১৯৮৩ সালে শেখ হাসিনার সঙ্গে আমার কয়েকবার দেখা হয়েছিল। হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের সামরিক শাসনামলে হেয়ার রোডের একটি বাড়িতে আমি কোম্পানিসহ থাকতাম। মার্শাল ল-এর দায়িত্ব পালন করতাম। তখন ওই বাড়িতে শেখ হাসিনা, মতিয়া চৌধুরী ও সাহারা খাতুনকে বন্দি করে কয়েকদিন আমার অধীনে রাখা হয়েছিল।’

এ মামলায় ১৩ আসামির মধ্যে গ্রেপ্তার রয়েছেন তিনজন। তাদের আজ সকালে ঢাকার সেনানিবাসের সাব-জেল থেকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। তারা হলেন— ডিজিএফআইয়ের সাবেক পরিচালক মেজর জেনারেল শেখ মো. সরওয়ার হোসেন, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. মাহবুবুর রহমান সিদ্দিকী ও ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আহমেদ তানভির মাজাহার সিদ্দিকী।

ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ বাকি ১০ আসামি পলাতক। এর মধ্যে রয়েছেন ডিজিএফআইয়ের সাবেক পাঁচ মহাপরিচালক। তারা হলেন—লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মোহাম্মদ আকবর হোসেন, মেজর জেনারেল (অব.) সাইফুল আবেদিন, লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. সাইফুল আলম, লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) আহমেদ তাবরেজ শামস চৌধুরী ও মেজর জেনারেল (অব.) হামিদুল হক।

অন্যদের মধ্যে রয়েছেন শেখ হাসিনার প্রতিরক্ষাবিষয়ক সাবেক উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) তারিক আহমেদ সিদ্দিক, ডিজিএফআইয়ের সাবেক পরিচালক মেজর জেনারেল (অব.) মোহাম্মদ তৌহিদুল উল ইসলাম, মেজর জেনারেল কবীর আহাম্মদ ও লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) মখছুরুল হক।

 

Read more — আইন-আদালত
Home