
কোরবানির উদ্দেশ্যে কেনা পশু শারীরিক ত্রুটির কারণে বিক্রি করে দেওয়া এবং পরবর্তীতে চরম আর্থিক সংকটে পড়লে করণীয় কী—এ বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্যাখ্যা দিয়েছে বিশ্বখ্যাত ইসলামী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জামিয়া বিনোরিয়া আলমিয়া। এক ব্যক্তির জিজ্ঞাসার প্রেক্ষিতে প্রতিষ্ঠানটির দারুল ইফতা থেকে এই ফতোয়া প্রদান করা হয়।
ঘটনাটি ছিল এমন: এক ব্যক্তি কোরবানির জন্য একটি ছাগল কেনেন। কয়েক মাস লালন-পালনের পর ছাগলের শিং ভেঙে গেলে তিনি ঈদুল ফিতরের সময় পশুটি বিক্রি করে দেন। উদ্দেশ্য ছিল, বিক্রিত অর্থের সঙ্গে আরও কিছু টাকা যোগ করে বড় কোনো পশু কিনে কোরবানি দেবেন। কিন্তু বর্তমানে তিনি চরম আর্থিক অনটনে দিন কাটাচ্ছেন। ব্যবসা নেই বললেই চলে, মাথার ওপর ঋণের বোঝা, এমনকি ডায়াবেটিসের চিকিৎসার খরচ জোগাতেও হিমশিম খাচ্ছেন তিনি। এই অবস্থায় ওই ছাগল বিক্রির টাকা নিজের প্রয়োজনে খরচ করা যাবে কি না, তা জানতে চাওয়া হয়।
উত্তর ও শরয়ি সমাধান
জামিয়া বিনোরিয়া আলমিয়ার ফতোয়ায় বলা হয়েছে, কোরবানি ওয়াজিব হওয়ার বিষয়টি নির্ভর করে ব্যক্তির আর্থিক সক্ষমতা বা নিসাব পূর্ণ হওয়ার ওপর। ইসলামী আইন অনুযায়ী, ঋণ পরিশোধের পর যদি কোনো ব্যক্তির কাছে সাড়ে সাত তোলা সোনা বা সাড়ে ৫২ তোলা রুপা অথবা এর সমমূল্যের নগদ অর্থ বা প্রয়োজনের অতিরিক্ত সম্পদ না থাকে, তবে তার ওপর কোরবানি ওয়াজিব হয় না।
ফতোয়ায় আরও স্পষ্ট করা হয়েছে যে, কোনো ব্যক্তি যদি কোরবানির দিনগুলোর শুরুতে সচ্ছল থাকেন কিন্তু শেষ সময়ে দরিদ্র হয়ে পড়েন, তবে তার ওপর আর কোরবানি আবশ্যক থাকে না। আলোচ্য ব্যক্তির ক্ষেত্রে যেহেতু বর্তমানে তিনি অভাবগ্রস্ত এবং দেনায় জর্জরিত, তাই তার ওপর কোরবানি দেওয়া বাধ্যতামূলক নয়।
পশু বিক্রির টাকা প্রসঙ্গে পরামর্শ
যদি ওই ব্যক্তি পশুটি কেনার সময় নিসাব পরিমাণ মালের মালিক না থাকতেন অর্থাৎ তিনি যদি আগে থেকেই দরিদ্র হয়ে থাকেন এবং পশুটি শুধু কোরবানির নিয়তেই কিনে থাকেন, তবে পশুটি বা তার বিক্রিত অর্থ সদকা করে দেওয়া ওয়াজিব। কিন্তু যদি তিনি পশু কেনার সময় সচ্ছল বা নিসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক হয়ে থাকেন এবং বর্তমানে অসচ্ছল হয়ে পড়েন, তবে তার ওপর কোরবানির বাধ্যবাধকতা আর থাকছে না।
বর্তমান শোচনীয় অবস্থায় নিজের জীবন ধারণ ও চিকিৎসার জন্য তিনি ওই অর্থ ব্যয় করতে পারবেন কি না, তা তার বর্তমান মোট সম্পদের হিসাব ও ঋণের পরিমাণের ওপর নির্ভর করবে। তবে চরম সংকটে পড়লে শরয়ি বিধান অনুযায়ী নিজের মৌলিক প্রয়োজন মেটানোই অগ্রগণ্য।
ইসলামী আইনজ্ঞদের মতে, ইবাদতের পাশাপাশি মানুষের জীবন রক্ষা ও মৌলিক প্রয়োজন পূরণ করাও ইসলামের অন্যতম শিক্ষা। তাই সামর্থ্য না থাকলে জোরপূর্বক বা ধারদেনা করে কোরবানি দেওয়ার কোনো বাধ্যবাধকতা নেই।

