
টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে প্রকৌশল শিক্ষাকে কার্যকর ভূমিকা রাখতে হবে—এমন মন্তব্য করেছেন রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (রুয়েট) উপাচার্য অধ্যাপক ড. এস এম আব্দুর রাজ্জাক। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক কনফারেন্সগুলো গবেষণা ও উদ্ভাবনের পাশাপাশি প্রশ্ন করার সংস্কৃতি গড়ে তোলে এবং বিশ্বপরিসরে সংযুক্ত হওয়ার সুযোগ সৃষ্টি করে।
শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) রুয়েটের কেন্দ্রীয় মিলনায়তনে তিন দিনব্যাপী ‘৫ম ইন্টারন্যাশনাল কনফারেন্স অন ইলেকট্রিক্যাল, কম্পিউটার অ্যান্ড টেলিকমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং’ (ICECTE 2026) শীর্ষক আন্তর্জাতিক কনফারেন্সের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারিং (ইসিই) অনুষদের আয়োজনে অনুষ্ঠিত এই কনফারেন্সে বাংলাদেশসহ যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, রাশিয়া, অস্ট্রেলিয়া, চীন, জাপান, জার্মানি, ভারত, দক্ষিণ কোরিয়া ও মালয়েশিয়াসহ মোট ১৫টি দেশের গবেষক, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করছেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ইসিই অনুষদের ডীন অধ্যাপক ড. বশির আহমেদের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন জাপানের রিউকিউস বিশ্ববিদ্যালয়ের এমেরিটাস অধ্যাপক ড. ইয়োশিনোরি নামিহিরা। কারিগরি পৃষ্ঠপোষক হিসেবে বক্তব্য দেন রুয়েটের কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. শহীদ উজ জামান এবং আইইইই (IEEE) বাংলাদেশ সেকশনের সভাপতি অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ইমামুল হাসান ভূঁইয়া। অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন আয়োজক কমিটির কারিগরি সভাপতি ও ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. অজয় কৃষ্ণ সরকার।
ইসিই অনুষদের তথ্য অনুযায়ী, কনফারেন্সে উপস্থাপনের জন্য মোট ৯৯৫টি গবেষণা প্রবন্ধ জমা পড়ে। নিবিড় পর্যালোচনার মাধ্যমে সেখান থেকে ৩৩৫টি প্রবন্ধ নির্বাচিত করা হয়। এর মধ্যে ২৮৬টি প্রবন্ধ সশরীরে বিভিন্ন সেশনে উপস্থাপন করা হবে, যা পরবর্তীতে আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন IEEE Xplore Digital Library-তে প্রকাশিত হবে।
কনফারেন্স চেয়ার ও ইসিই অনুষদের ডীন অধ্যাপক ড. বশির আহমেদ জানান, এবারের কনফারেন্সে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI), সাইবার সিকিউরিটি, রোবটিক্স, ইন্টারনেট অব থিংস (IoT) এবং ন্যানোটেকনোলজির মতো আধুনিক ও সময়োপযোগী বিষয়গুলো বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া ও জাপানের স্বনামধন্য অধ্যাপকেরা ‘কি-নোট’ স্পিকার হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ সেশন পরিচালনা করছেন।
কনফারেন্সটির কারিগরি সহযোগিতায় রয়েছে আইইইই বাংলাদেশ সেকশন। এছাড়া সরকারের আইসিটি ডিভিশন, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি), বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিলসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান কনফারেন্সটির পৃষ্ঠপোষকতা করছে।
উল্লেখ্য, গত ২৯ জানুয়ারি কারিগরি সেশনের মাধ্যমে কনফারেন্সের কার্যক্রম শুরু হলেও শুক্রবার ছিল এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন। আগামীকাল ৩১ জানুয়ারি সন্ধ্যায় সমাপনী অনুষ্ঠানের মাধ্যমে তিন দিনব্যাপী এই আন্তর্জাতিক আসরের পর্দা নামবে।

