
আগামী শিক্ষাবর্ষে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের বিষয়বস্তু পাঠ্যপুস্তকে অন্তর্ভুক্ত হবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন।
আজ মঙ্গলবার জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তরে রাজশাহী-৫ অধ্যাপক নজরুল ইসলামের প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী এ কথা বলেন। ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে বৈঠকের শুরুতে প্রশ্নোত্তর পর্ব অনুষ্ঠিত হয়। শিক্ষামন্ত্রীর অনুপস্থিতিতে শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ সংসদ সদস্যদের প্রশ্নের জবাব দেন।
সংরক্ষিত আসনের রোকেয়া বেগমের প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থান, জুলাই-আগস্ট মাসে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের সংঘটিত গণহত্যা এবং শেখ হাসিনা সরকারের ফ্যাসিবাদী শাসনের বিভিন্ন দিক সম্পর্কে একাধিক বিষয়বস্তু পাঠ্যপুস্তকে শিক্ষার্থীদের বয়স ও শ্রেণি উপযোগী করে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের কারণ, ঘটনাপ্রবাহ, গণহত্যা, শহীদদের আত্মত্যাগ, নারীদের ভূমিকা এবং গণ-অভ্যুত্থানের ঐতিহাসিক তাৎপর্য তুলে ধরা হবে।
এ ছাড়া নবম-দশম শ্রেণির ‘বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা’ পাঠ্যপুস্তকে আওয়ামী লীগের শাসনামলের গুম, গণহত্যা, অর্থ পাচার, নির্বাচন ব্যবস্থা ধ্বংস, পিলখানা ট্র্যাজেডি, সাংবাদিক হত্যা ও গণমাধ্যমে হস্তক্ষেপের মতো বিষয় অন্তর্ভুক্ত করার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। ২০২৭ শিক্ষাবর্ষ থেকে শিক্ষার্থীরা সংশ্লিষ্ট পাঠ্যপুস্তকে এসব বিষয় অধ্যয়ন করার সুযোগ পাবে।
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অফিস সহকারী নিয়োগের প্রস্তাবনা রয়েছে উল্লেখ করে শিক্ষামন্ত্রী এহছানুল হক মিলন বলেছেন, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অফিস সহকারী না থাকায় শিক্ষকদের ওপর দাপ্তরিক কাজের চাপ পড়ে বিধায় প্রতিটি বিদ্যালয়ে একজন অফিস সহকারী নিয়োগের প্রস্তাবনা রয়েছে। পিইডিপি-৫ অনুমোদন সাপেক্ষে এ প্রস্তাবনা বাস্তবায়ন করা হবে।
শিক্ষার্থীদের মানসিক, নৈতিক ও সৃজনশীল বিকাশের লক্ষ্যে দেশের সব প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নিয়মিত ধর্মীয় শিক্ষা, চারুকলা এবং সংগীত চর্চা বাধ্যতামূলকভাবে চালু করার পরিকল্পনা সরকারের রয়েছে বলে শিক্ষামন্ত্রী জানান।
মৌলভীবাজার-২ আসনের মো. শওকতুল ইসলামের প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এসইডিপি কর্মসূচির আওতায় আগামী ২০২৬-৩১ অর্থ বছরে দেশের সব মাদ্রাসায় মিড ডে মিল চালু করা হবে। ওই কর্মসূচিতে ইবতেদায়ি মাদ্রাসাও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
নীলফামারী-৪ আসনের আব্দুল মুনতাকিমের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে এমপিওভুক্ত মাদ্রাসার সংখ্যা আট হাজার ২২৯টি। এর মধ্যে দাখিল মাদ্রাসা ৫ হাজার ৭৬৮টি, আলিম মাদ্রাসা এক হাজার ২৮৪ টি, ফাজিল মাদ্রাসা ৯৯৩টি ও কামিল মাদ্রাসা ১৮৪টি।
সিরাজগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য রফিকুল ইসলাম খানের প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, বর্তমানে দেশে রেজিস্টার্ড বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সংখ্যা এক হাজার ৮৭৩টি। এসব বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সরকারিকরণের কোনো পরিকল্পনা আপাতত নেই।
গাজীপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য সালাহ উদ্দিনের প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, বর্তমানে প্রাথমিক স্তরে ঝরে পড়া শিক্ষার্থীর হার ১৬ দশমিক ২৫ শতাংশ। ঝরে পড়া রোধ করতে স্কুল ফিডিং, উপবৃত্তি প্রদানসহ সরকারের কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
নীলফামারী-৩ আসনের সংসদ সদস্য ওবায়দুল্লাহ সালাফীর প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, দেশের সব কিন্ডারগার্টেন স্কুলকে অনলাইনে আবেদন গ্রহণ ও নিষ্পত্তি প্রক্রিয়ায় নিবন্ধনের আওতাভুক্ত করার কার্যক্রম চলমান রয়েছে। জুলাই ২০২৬ পর্যন্ত এক হাজার ৭৮৩টি কিন্ডারগার্টেন নিবন্ধনের আওতাভুক্ত ।
উত্তরা /এএম

