
তানজিল ইসলামের বাড়ি ময়মনসিংহ। বর্তমানে তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ফারসি বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী। প্রথমবর্ষ থেকেই ক্যাম্পাস সংলগ্ন বিনোদপুর এলাকায় মেসে থেকে পড়াশোনা করছেন। এ পর্যন্ত মোট ৪ বার আবেদন করেও এখনো হলে উঠতে পারেননি। তবে প্রতিবারই হলে আবাসিকতার আবেদন করতে ফি দিতে হয়েছে ৫৫ টাকা। প্রতিবার আবেন ফি এবং একই কাগজ জমার এই ভোগান্তির অবসান চান তিনি। একই দাবি তার মতো অনেক শিক্ষার্থীরই।
তানজিল বলেন, ‘প্রতিবার আবেদন করতে ব্যাংকে টাকা জমা দিতে হয়। এছাড়াও প্রতিবারই একই কাগজ ফটোকপি করতে হয়। সেখানেও টাকা খরচ হয়। ডিজিটাল এই যুগে কাগজগুলো একবার হলের ওয়েবসাইটে সংরক্ষণ করলে আর আমাদের বাড়তি টাকা খরচ করতে হয় না। এ পর্যন্ত ৪ বার আবেদন করেছি। প্রতিবার ৫৫ টাকা করে মোট ২২০ টাকা দিয়েছি। এদিকে হলের সিটও পাইনি। এই অযৌক্তিক ফি বাতিল করে আমাদের সকল তথ্য হলের ওয়েবসাইটে সংরক্ষণের দাবি জানাই।’
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, চলতি বছরের এপ্রিল মাসে বিশ্ববিদ্যালয় প্রাধ্যক্ষ পরিষদ আবাসিকতা সংক্রান্ত নতুন নীতিমালা প্রনয়ন করে। এই নীতিমালা অনুযায়ী শিক্ষার্থীদের প্রথমে অনালাইনে আবেদন করে ৫৫ টাকা জমা দিয়ে হলে সেগুলোর কপি জমা দিতে হবে। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে বর্তমানে ২৬ হাজারের অধিক শিক্ষার্থীর বিপরীতে ছেলে এবং মেয়ে মিলে ১৭টি হলে আসন সংখ্যা মোট ৯ হাজার ৬৭৩টি। ছেলেদের নতুন ‘বিজয়-৭১’ এবং মেয়েদের ‘অপরাজিতা’ হল নির্মাণাধীন রয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের আইসিটি সেন্টার সূত্রে জানা যায়, আবাসিকতার সর্বশেষ বিজ্ঞপ্তিতে ১৭টি হলে মোট ৪ হাজার ৪শ ৮৯ জন শিক্ষার্থী আবেদন করেছেন। প্রত্যেকে ৫৫ টাকা দিলে মোট ২ লাখ ৪৬ হাজার ৮৯৫ টাকা হয়।
গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী সুদিপ্ত ঘোষ এরই মধ্যে চারবার আবাসিকতার জন্য আবেদন করেছেন। সাতক্ষীরার এই শিক্ষার্থী প্রথম বর্ষ থেকেই ক্যাম্পাস সংলগ্ন বিনোদপুর এলাকায় মেসে থাকছেন। চারবার আবেদন করেও এখনো হলে সিট পাননি। তবে প্রতি বার ৫৫ টাকা করে তাকে দিতে হয়েছে মোট ২২০ টাকা।
সুদিপ্ত বলেন, ‘প্রতিবার আবেদন করতে ব্যাংকে টাকা জমা দিতে হয়। একই কাগজপত্রও আবার ফটোকপি করতে হয়। ডিজিটাল এই যুগে একবার তথ্য সংরক্ষণ করে রাখলে পরবর্তী সময়ে আবার এসব জমা দেওয়ার প্রয়োজন হতো না। চারবার আবেদন করে ২২০ টাকা দিয়েছি, সঙ্গে ফটোকপি-যাতায়াতেও হয়েছে খরচ। কিন্তু এখনো হলে সিট পাইনি। আমাদের এই অতিরিক্ত খরচ বন্ধে প্রশাসন ব্যবস্থা গ্রহণ করুক।’
এই ফি আদায় এবং ব্যয়ের খাতের বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক হল প্রাধ্যক্ষ বলেন, ‘দক্ষ লোক না থাকায় আসন বরাদ্দপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের তথ্য অনলাইনে এন্ট্রি করার জন্য বাইরে থেকে লোক হায়ার করতে হয়। তাদের নির্দিষ্ট একটা ফি দিতে হয়। এছাড়াও অধিক সময় খাওয়া-দাওয়ায় কিছু টাকা ব্যয় হয়।’
এই ফি আদায় এবং ব্যয়ের খাতের বিষয়ে জানতে চাইলে প্রাধ্যক্ষ পরিষদের আহ্বায়ক অধ্যাপক মোহাম্মাদ শরিফুল ইসলাম বলেন, প্রতিবার বরাদ্দের সময় যে টাকা আসে সেটা আবাসিকতাপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের ডাটা এন্ট্রি করাসহ আনুসঙ্গিক খরচের জন্য এই টাকা ব্যয় করা হয়। আর সামনে প্রাধ্যক্ষ পরিষদের মিটিংয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে প্রস্তাব দিবো যেন আইসিটি সেন্টার এবং পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক দপ্তর শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা এবং ফলাফল সংক্রান্ত আপডেট তথ্যগুলো প্রাধ্যক্ষ পরিষদের কাছে পাঠায়।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইসিটি সেন্টারের পরিচালক এবং পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক দপ্তরের প্রধান অধ্যাপক হাসনাত কবির বলেন, ‘আমরা এটা নিয়ে কাজ শুরু করেছি। শিক্ষার্থীদের একেটা সেমিস্টারের ফলাফল প্রকাশ হলেই এই তথ্য হল প্রশাসনের কাছে চলে যাবে। শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি কমানোর জন্য আমরা সর্বাত্মকভাবে চেষ্টা করছি।’
সার্বিক বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদুল ইসলাম বলেন, আবাসিকতার আবেদন ও ফি নেওয়ার বিষয়টি যদিও প্রাধ্যক্ষ পরিষদের বিষয়। তবে আমি বিষয়টি খতিয়ে দেখব। শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে নেওয়া ৫৫ টাকা কোন কোন খাতে ব্যয় হয়, সেটিও যাচাই করা হবে। শিক্ষার্থীদের ফলাফলের হালনাগাদ তথ্য যদি সরাসরি প্রাধ্যক্ষ পরিষদের কাছে পাঠানো যায়, তাহলে বারবার জমা দেওয়ার ভোগান্তি কমবে। বিষয়টি নিয়ে প্রাধ্যক্ষ পরিষদের আহ্বায়কের সঙ্গে আলোচনা করবো।

